ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি সরকার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ সায়েদাবাদ হবে শুধু সিটি টার্মিনাল, আন্তঃজেলা বাস যাবে কাঁচপুরে: দক্ষিণ সিটি প্রশাসক সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডায় জামায়াতের কাছে আওয়ামী লীগ শিশু: রাশেদ খাঁন শেষ ১৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব করতে সরকার সবকিছু করবে: মাহদী আমিন চীনে জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮ আসামি মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ হেরে যাওয়ায় ব্রাজিলের সাপোর্টাররা হতাশ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশ হোক সব প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল: প্রধানমন্ত্রী

ভারতের কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

ভারতের কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। আজ রবিবার ১২ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। শনিবার রাতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আগামীকাল সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

১৯৩৩ সালে সংগীত অনুরাগী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই পেশাদারভাবে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করার পর ১৯৫০-এর দশকে বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের পাশাপাশি নিজস্ব গায়কী দিয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি। শুরুতে চটুল বা ক্যাবারে ধাঁচের গানে পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে ‘উমরাও জান’ ছবির গজল গেয়ে নিজের বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নেপথ্য গায়িকার পুরস্কার এবং দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ এবং ‘মেরা কুছ সামান’ গান দুটি তাকে এনে দেয় জাতীয় স্বীকৃতি।

২০২৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে আধুনিক সংগীত নিয়ে নিজের মতামত জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, তিনি নিয়মিত ধ্রুপদী সংগীত শোনেন, তবে মাঝে মাঝে রাহাত ফতেহ আলী খান, সুনিধি চৌহানের গানও তার ভালো লাগে।

ব্যক্তিগত জীবনে মাত্র ১৬ বছর বয়সে গণপতরাও ভোঁসলে কে বিয়ে করেন তিনি। পরে ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন। ১৯৮০ সালে সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ১৯৯৪ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত একসঙ্গে ছিলেন।

জীবনের শেষ সময়গুলোতে নাতনি জেনাই ভোঁসলে তার সঙ্গে ছিলেন। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

আপডেট সময় ০১:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

ভারতের কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। আজ রবিবার ১২ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। শনিবার রাতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আগামীকাল সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

১৯৩৩ সালে সংগীত অনুরাগী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই পেশাদারভাবে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করার পর ১৯৫০-এর দশকে বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের পাশাপাশি নিজস্ব গায়কী দিয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি। শুরুতে চটুল বা ক্যাবারে ধাঁচের গানে পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে ‘উমরাও জান’ ছবির গজল গেয়ে নিজের বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নেপথ্য গায়িকার পুরস্কার এবং দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ এবং ‘মেরা কুছ সামান’ গান দুটি তাকে এনে দেয় জাতীয় স্বীকৃতি।

২০২৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে আধুনিক সংগীত নিয়ে নিজের মতামত জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, তিনি নিয়মিত ধ্রুপদী সংগীত শোনেন, তবে মাঝে মাঝে রাহাত ফতেহ আলী খান, সুনিধি চৌহানের গানও তার ভালো লাগে।

ব্যক্তিগত জীবনে মাত্র ১৬ বছর বয়সে গণপতরাও ভোঁসলে কে বিয়ে করেন তিনি। পরে ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন। ১৯৮০ সালে সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ১৯৯৪ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত একসঙ্গে ছিলেন।

জীবনের শেষ সময়গুলোতে নাতনি জেনাই ভোঁসলে তার সঙ্গে ছিলেন। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।