ঢাকা ১০:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তুরস্কের কাছে ‘সবচেয়ে সুন্দরী নারী’ চেয়ে উগান্ডার সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি! বিএনপি নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার নিজেরাই লঙ্ঘন করেছে: জামায়াত আমির হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশকারী বা বের হওয়া সব জাহাজ আটকানো হবে: ট্রাম্প ইসলামাবাদ সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিল রাশিয়া সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ মারা গেছেন আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ শিগগিরই হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে : ইরানি রাষ্ট্রদূত কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধী দল রাজনীতি করতে চাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাম ও উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জনের মৃত্যু পয়লা বৈশাখ ঘিরে জঙ্গি হামলার কোনো আশঙ্কা নেই : ডিএমপি কমিশনার আবারও আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন নাহিদ ইসলাম

ভারতের কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

ভারতের কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। আজ রবিবার ১২ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। শনিবার রাতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আগামীকাল সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

১৯৩৩ সালে সংগীত অনুরাগী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই পেশাদারভাবে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করার পর ১৯৫০-এর দশকে বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের পাশাপাশি নিজস্ব গায়কী দিয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি। শুরুতে চটুল বা ক্যাবারে ধাঁচের গানে পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে ‘উমরাও জান’ ছবির গজল গেয়ে নিজের বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নেপথ্য গায়িকার পুরস্কার এবং দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ এবং ‘মেরা কুছ সামান’ গান দুটি তাকে এনে দেয় জাতীয় স্বীকৃতি।

২০২৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে আধুনিক সংগীত নিয়ে নিজের মতামত জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, তিনি নিয়মিত ধ্রুপদী সংগীত শোনেন, তবে মাঝে মাঝে রাহাত ফতেহ আলী খান, সুনিধি চৌহানের গানও তার ভালো লাগে।

ব্যক্তিগত জীবনে মাত্র ১৬ বছর বয়সে গণপতরাও ভোঁসলে কে বিয়ে করেন তিনি। পরে ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন। ১৯৮০ সালে সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ১৯৯৪ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত একসঙ্গে ছিলেন।

জীবনের শেষ সময়গুলোতে নাতনি জেনাই ভোঁসলে তার সঙ্গে ছিলেন। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

তুরস্কের কাছে ‘সবচেয়ে সুন্দরী নারী’ চেয়ে উগান্ডার সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি!

ভারতের কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

আপডেট সময় ০১:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

ভারতের কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। আজ রবিবার ১২ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। শনিবার রাতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আগামীকাল সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

১৯৩৩ সালে সংগীত অনুরাগী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই পেশাদারভাবে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করার পর ১৯৫০-এর দশকে বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের পাশাপাশি নিজস্ব গায়কী দিয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি। শুরুতে চটুল বা ক্যাবারে ধাঁচের গানে পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে ‘উমরাও জান’ ছবির গজল গেয়ে নিজের বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নেপথ্য গায়িকার পুরস্কার এবং দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ এবং ‘মেরা কুছ সামান’ গান দুটি তাকে এনে দেয় জাতীয় স্বীকৃতি।

২০২৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে আধুনিক সংগীত নিয়ে নিজের মতামত জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, তিনি নিয়মিত ধ্রুপদী সংগীত শোনেন, তবে মাঝে মাঝে রাহাত ফতেহ আলী খান, সুনিধি চৌহানের গানও তার ভালো লাগে।

ব্যক্তিগত জীবনে মাত্র ১৬ বছর বয়সে গণপতরাও ভোঁসলে কে বিয়ে করেন তিনি। পরে ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন। ১৯৮০ সালে সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ১৯৯৪ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত একসঙ্গে ছিলেন।

জীবনের শেষ সময়গুলোতে নাতনি জেনাই ভোঁসলে তার সঙ্গে ছিলেন। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।