ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

ভারতের কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

ভারতের কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। আজ রবিবার ১২ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। শনিবার রাতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আগামীকাল সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

১৯৩৩ সালে সংগীত অনুরাগী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই পেশাদারভাবে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করার পর ১৯৫০-এর দশকে বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের পাশাপাশি নিজস্ব গায়কী দিয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি। শুরুতে চটুল বা ক্যাবারে ধাঁচের গানে পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে ‘উমরাও জান’ ছবির গজল গেয়ে নিজের বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নেপথ্য গায়িকার পুরস্কার এবং দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ এবং ‘মেরা কুছ সামান’ গান দুটি তাকে এনে দেয় জাতীয় স্বীকৃতি।

২০২৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে আধুনিক সংগীত নিয়ে নিজের মতামত জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, তিনি নিয়মিত ধ্রুপদী সংগীত শোনেন, তবে মাঝে মাঝে রাহাত ফতেহ আলী খান, সুনিধি চৌহানের গানও তার ভালো লাগে।

ব্যক্তিগত জীবনে মাত্র ১৬ বছর বয়সে গণপতরাও ভোঁসলে কে বিয়ে করেন তিনি। পরে ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন। ১৯৮০ সালে সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ১৯৯৪ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত একসঙ্গে ছিলেন।

জীবনের শেষ সময়গুলোতে নাতনি জেনাই ভোঁসলে তার সঙ্গে ছিলেন। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ২০ জন আটক

ভারতের কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

আপডেট সময় ০১:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

ভারতের কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। আজ রবিবার ১২ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। শনিবার রাতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আগামীকাল সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

১৯৩৩ সালে সংগীত অনুরাগী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই পেশাদারভাবে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করার পর ১৯৫০-এর দশকে বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের পাশাপাশি নিজস্ব গায়কী দিয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি। শুরুতে চটুল বা ক্যাবারে ধাঁচের গানে পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে ‘উমরাও জান’ ছবির গজল গেয়ে নিজের বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নেপথ্য গায়িকার পুরস্কার এবং দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ এবং ‘মেরা কুছ সামান’ গান দুটি তাকে এনে দেয় জাতীয় স্বীকৃতি।

২০২৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে আধুনিক সংগীত নিয়ে নিজের মতামত জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, তিনি নিয়মিত ধ্রুপদী সংগীত শোনেন, তবে মাঝে মাঝে রাহাত ফতেহ আলী খান, সুনিধি চৌহানের গানও তার ভালো লাগে।

ব্যক্তিগত জীবনে মাত্র ১৬ বছর বয়সে গণপতরাও ভোঁসলে কে বিয়ে করেন তিনি। পরে ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন। ১৯৮০ সালে সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ১৯৯৪ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত একসঙ্গে ছিলেন।

জীবনের শেষ সময়গুলোতে নাতনি জেনাই ভোঁসলে তার সঙ্গে ছিলেন। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।