ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকারকে অবশ্যই অসম বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরতে হবে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল এবং সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে নতুন চুক্তির উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজন। তারা বলেছেন, কোনো দেশপ্রেমিক মানুষ এই আত্মঘাতী চুক্তি গ্রহণ করতে পারে না। বিএনপি সরকারকে অবশ্যই এই অসম চুক্তি থেকে সরে আসতে হবে।

বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় তারা এসব কথা বলেন। ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি– বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্ন’ শীর্ষক এই আয়োজন করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।

সভাপতির বক্তব্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বিএনপির জন্য দেশপ্রেমের প্রথম বড় পরীক্ষা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষর করা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি অন্যায় ও অন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা। যেহেতু বিএনপির কাছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, সেহেতু দেশপ্রেমের পরীক্ষায় বিএনপি সরকারকে একশতে একশ নম্বর পেতে হবে। দ্রুত দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী এই চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নিতে হবে।

বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এ ধরনের চুক্তি করার কোনো এখতিয়ার নেই। এই চুক্তির হোতাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, এই চুক্তি দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থি। মালয়েশিয়া এ ধরনের চুক্তি বাতিল করতে পারলে আমরা পারব না কেন?

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এই চুক্তিতে প্রাপ্তির চেয়ে বঞ্চনা অনেক বেশি। এটি কোনোভাবেই মুক্তবাণিজ্যের চুক্তি নয়। এটি কোনোভাবেই গ্রহণও করা যাবে না।

লেখক-সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, পুরোপুরি স্বেচ্ছাচারী কায়দায় এই অন্যায় অসম চুক্তি করা হয়েছে। গোষ্ঠীগত বিশেষ স্বার্থে অধীনতামূলক এই চুক্তি করা হয়েছে। এই চুক্তি অবশ্যই বাতিল করতে হবে।

সভার শুরুতে লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন সাইফুল হক। আরও বক্তব্য দেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আবদুন নূর, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য বহ্নিশিখা জামালী ও আকবর খান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সরকারকে অবশ্যই অসম বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরতে হবে

আপডেট সময় ১০:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল এবং সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে নতুন চুক্তির উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজন। তারা বলেছেন, কোনো দেশপ্রেমিক মানুষ এই আত্মঘাতী চুক্তি গ্রহণ করতে পারে না। বিএনপি সরকারকে অবশ্যই এই অসম চুক্তি থেকে সরে আসতে হবে।

বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় তারা এসব কথা বলেন। ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি– বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্ন’ শীর্ষক এই আয়োজন করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।

সভাপতির বক্তব্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বিএনপির জন্য দেশপ্রেমের প্রথম বড় পরীক্ষা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষর করা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি অন্যায় ও অন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা। যেহেতু বিএনপির কাছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, সেহেতু দেশপ্রেমের পরীক্ষায় বিএনপি সরকারকে একশতে একশ নম্বর পেতে হবে। দ্রুত দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী এই চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নিতে হবে।

বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এ ধরনের চুক্তি করার কোনো এখতিয়ার নেই। এই চুক্তির হোতাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, এই চুক্তি দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থি। মালয়েশিয়া এ ধরনের চুক্তি বাতিল করতে পারলে আমরা পারব না কেন?

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এই চুক্তিতে প্রাপ্তির চেয়ে বঞ্চনা অনেক বেশি। এটি কোনোভাবেই মুক্তবাণিজ্যের চুক্তি নয়। এটি কোনোভাবেই গ্রহণও করা যাবে না।

লেখক-সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, পুরোপুরি স্বেচ্ছাচারী কায়দায় এই অন্যায় অসম চুক্তি করা হয়েছে। গোষ্ঠীগত বিশেষ স্বার্থে অধীনতামূলক এই চুক্তি করা হয়েছে। এই চুক্তি অবশ্যই বাতিল করতে হবে।

সভার শুরুতে লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন সাইফুল হক। আরও বক্তব্য দেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আবদুন নূর, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য বহ্নিশিখা জামালী ও আকবর খান।