ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চুক্তির কাছাকাছি ছিলাম, এমন সময় ইরান হঠাৎ জাহাজে হামলা করল: ট্রাম্প সরকার সবসময় দুর্গত মানুষের পাশে আছে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী একটি মহলের অতি লোভের কারণে ইসলাম বিজয়ী হয়নি: চরমোনাই পীর ২৫ বছরের আগে পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধা পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা চলতি বছরেই প্রতি উপজেলা হাসপাতালে স্থাপন হবে ক্যাথ ল্যাব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ শেখ হাসিনার ১ বছরে খাওয়া-দাওয়ার খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী নাটোরে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আমরা সরকার গঠন করে শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দরজা খুলেই দেখলেন শাশুড়ির রক্তাক্ত লাশ, পাশের কক্ষে কাঁদছিল দুই বছরের মেয়ে

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এই প্রকল্পের সূচনা করেন।

এই কর্মসূচির আওতায় দেশের নির্দিষ্ট জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে সরকার। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে উপকারভোগীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী সরাসরি মোবাইল ওয়ালেট অথবা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘরে বসেই এই ভাতার অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে জেলা, উপজেলা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সরকারের তথ্যমতে, প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। মাঠ পর্যায়ে নিবিড় যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে, যা এই কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

চূড়ান্ত তালিকায় ঠাঁই পাওয়া পরিবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। ডাবল ডিপিং বা একই ব্যক্তির একাধিক সরকারি ভাতা গ্রহণ রোধ, সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীদের বাদ দেওয়ার পর মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে এই ভাতার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রকল্পের আওতায় কেবল ‘নারী প্রধান’ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে সমাজের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সরকারের এই উদ্যোগটি নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তৃতায় নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান যে, সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা প্রদানের ফলে মাঝপথে অর্থ লোপাটের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং প্রকৃত দুস্থরাই এই সুবিধা পাবেন।

কড়াইল বস্তির মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। সরকার আশা করছে যে, পরীক্ষামূলক পর্যায়ের সফল সমাপ্তির পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল যোগ্য পরিবারকে এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, কিছুই খেতে পারছি না, চুলাও জ্বলছে না’

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:২৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এই প্রকল্পের সূচনা করেন।

এই কর্মসূচির আওতায় দেশের নির্দিষ্ট জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে সরকার। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে উপকারভোগীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী সরাসরি মোবাইল ওয়ালেট অথবা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘরে বসেই এই ভাতার অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে জেলা, উপজেলা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সরকারের তথ্যমতে, প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। মাঠ পর্যায়ে নিবিড় যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে, যা এই কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

চূড়ান্ত তালিকায় ঠাঁই পাওয়া পরিবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। ডাবল ডিপিং বা একই ব্যক্তির একাধিক সরকারি ভাতা গ্রহণ রোধ, সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীদের বাদ দেওয়ার পর মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে এই ভাতার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রকল্পের আওতায় কেবল ‘নারী প্রধান’ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে সমাজের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সরকারের এই উদ্যোগটি নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তৃতায় নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান যে, সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা প্রদানের ফলে মাঝপথে অর্থ লোপাটের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং প্রকৃত দুস্থরাই এই সুবিধা পাবেন।

কড়াইল বস্তির মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। সরকার আশা করছে যে, পরীক্ষামূলক পর্যায়ের সফল সমাপ্তির পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল যোগ্য পরিবারকে এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে।