আকাশ জাতীয় ডেস্ক :
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, দখলদারদেরকে লাল কার্ড দেখাবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, আধিপত্যবাদের গোলামদেরকেও লাল কার্ড দেখাবে।
আজ রোববার রাজধানীর বাড্ডায় ডিআইটি মাঠে জামায়াত জোটের শরিক এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সমর্থনে শফিকুর রহমান বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, মজলুম থেকে জালিম হবেন না। মজলুম থেকে জালিম হওয়াদের পতন হবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে।
জামায়াত আমির ঢাকা-১১ আসনে শাপলা কলি এবং গণভোটে হ্যাঁ ভোট চান। তিনি বলেন, ১১ দলীয় নির্বাচনীয় ঐক্য ক্ষমতা এলে বাড্ডা, বনশ্রী, রামপুরা এলাকার সন্তান নাহিদ ইসলাম মন্ত্রী হবেন। হাতে হাতে ধরে একসঙ্গে কাজ করব।
গতকাল শনিবার ঢাকার বাইরে জেলায় জেলায় জনসভার ইতি টেনেছেন জামায়াত আমির। আগামীকাল সোমবার শেষ হবে নির্বাচনের প্রচার। রোববারের জনসভাতেও বিএনপির নামোল্লেখ না করে ৫ আগস্ট পরবর্তী দখল, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্যের জন্য সমালোচনা করে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
বিএনপির ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৫ বছর আওয়ামী জাহেলিয়াতের যুগে সবাই মজলুম ছিলাম। কিন্তু মজলুম অবস্থার পরিবর্তন করে তারা রাতারাতি জালেমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আওয়ামী লীগ যেসব অপকর্ম করে জাতিকে কষ্ট দিয়েছে, নব্য জালেমরা একই অপকর্ম করছে। বিনয়ের সঙ্গে বলছি, মজলুম ছিলেন, জালিম হবেন না।
শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর বেপারোয়াভাবে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মামলাবাজি শুরু হয়। তিনি বলেছেন, এখনও অনেক বড় বড় ব্যবসায়ীরা বলেন, যাব কোথায়? জিম্মি করে মামলা দিয়ে শত শত কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে।
জামায়াত আমির সমাবেত লোকজনের কাছে প্রশ্ন করেন, কারা এসব করছে জানেন? জনসভায় সমাবেতরা জবাব দেন, জানি! জানি! শফিকুর রহমান তখন বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছর যারা বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে ছিল, বিদেশে নিরাপদ ছিল, তারাই ফিরে এসে মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি করছে। তাদের জ্বালায় অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। ব্যবসায়ী থেকে ফুটপাতের ভিক্ষুক-কারো রক্ষা নেই। এর জন্যই কী জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল? আমাদের সন্তানরা রক্ত দিয়েছিল?
তারেক রহমানের নাম না নিয়ে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি দল মাঝেমধ্যে বলে ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। এই ভালো কাজটা তারা নিজের ঘর থেকে শুরু করুক। ঋণ খেলাপি, ব্যাংক ডাকাতিদের ঘরে আশ্রয় দিয়ে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব না।
নির্বাচনের প্রচারে জামায়াত জোটের নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেছেন, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের গায়ে হাত তোলার পর, সারাদেশের মানুষ জ্বলে উঠেছিল। পরেরদিন সিংহ পুরুষ আবু সাঈদ রাজপথে নেমেছিলেন ‘বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর’। মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া বন্ধ না করলে আর ছাড় দেওয়া হবে না।
বিএনপিকে সতর্ক করে জামায়াত আমির বলেছেন, জুলাই শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি ইতিহাস ক্ষমা করবে না। মানুষ বাংলাদেশে অপকর্ম চলতে দেবে না। একেকজনের জন্য একেক রকম বিচার চলবে না। অপরাধ করলে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীরও সাজা হবে। টাকা পাচারকারীদের ছাড় নেই। ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্য ষোলআনা আদায় করা হবে। যারা এমপি হবেন, তারা প্রত্যেক বছর নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে দিতে বাধ্য থাকবেন।
জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, শরিফ ওসমান বিন হাদিদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তাঁদের বন্ধুদের কাছে ঋণী। কথা দিচ্ছি সুযোগ পেলে তাদের আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ গড়ব ইনশাল্লাহ।
তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেছেন, যুবকদের হাতে বাংলাদেশ তুলে দিতে চাই। বেকার ভাতা দিতে চাই না। চব্বিশের অভ্যুত্থানের তরুণরা বেকার ভাতা চায়নি, চেয়েছিল ন্যায্য অধিকার, কাজের সুযোগ।
জামায়াত আমির সমাবেশের উদ্দেশ্যে বলেন, বেকার ভাতা চান নাকি কাজ চান? সমাবেত ব্যক্তিরা জবাব দেন, কাজ চাই।
বেকার ভাতার প্রতিশ্রুতিকে ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার দেওয়া ১০ টাকা কেজি চালের ওয়াদার সঙ্গে তুলনা করেন শফিকুর রহমান। বিএনপির প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিদ্রূপ করে বলেছেন, দশ টাকা চালের ওয়াদার মতই ভুয়া হবে কার্ড। ভুয়া কার্ডকে জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারি লাল কার্ড দেখাবে।
সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, নাহিদ ইসলামসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।
সন্ধ্যায় মিরপুরে গণসংযোগ করেন ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী জামায়াত আমির।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















