আকাশ জাতীয় ডেস্ক :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, বরং এই দেশ সব ধর্মের মানুষের। আমরা এই দেশটাকে সব ধর্ম দিয়ে ইনশাআল্লাহ একটি ফুলের বাগানের মতো সাজাবো। ধর্মের সৌন্দর্যই হলো একে অপরের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক রক্ষা করা।
এ সময় একটি দলকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, বিভেদের রাজনীতি করে যারা জাতিকে টুকরো টুকরো করতে চায়, তাদের আর সেই সুযোগ দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের উদ্যোগে কটিয়াদী কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই ডা. শফিকুর রহমান বিগত শাসন আমলের কড়া সমালোচনা করে বলেন, অতীতের কাসুন্দি ঘেঁটে লাভ নেই, জনগণ এখন আর ওসব শুনতে চায় না। যারা বিগত দিনে জনগণকে গালগল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল, আর পেছনের দরজা দিয়ে মানুষের কপাল ও জনপদের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে; তাদের জায়গা আর বাংলাদেশে হবে না। ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের যে সূচনা হবে, সেখানে অতীতের ‘পোড়া রাজনীতি’ বা ব্যক্তিগত লড়াইয়ের কোনো স্থান নেই।
এ সময় কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্য তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, এটি আলেম-ওলামা, মুক্তিযোদ্ধা এবং মেধাবীদের জেলা। এখানকার মানুষ কঠোর পরিশ্রমী ও দেশপ্রেমিক। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বছরের পর বছর এই কিশোরগঞ্জের সন্তানরাই প্রশাসনের এবং সরকারের সর্বোচ্চ পদ অলংকৃত করেছেন। অথচ এই এলাকার মানুষ কী পেয়েছে? যোগাযোগ ব্যবস্থা আজও ঝুঁকিপূর্ণ, হাওড় অঞ্চলের মানুষের কষ্ট ঘোচেনি। আপনারা নিজেরাই তার সাক্ষী।
তিনি আরও বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা মূলত কৃষিভিত্তিক এলাকা। আমাদের পরিকল্পনা হলো কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে শিল্পে রূপান্তরিত করা। যাতে কৃষকের শ্রমে ফলানো ফসল তাদের ভাগ্য বদলে দেয়।
এ সময় তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি আসনে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট সমর্থিত প্রার্থীদের জন্য দোয়া ও সমর্থন চেয়ে বলেন, আমরা মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে একটি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, মামলাবাজমুক্ত এবং শোষণহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই। জমিদারি প্রথা ও পারিবারিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে আমরা আপনাদের পবিত্র ভোটের আমানত রক্ষা করব এবং ইনসাফের ভিত্তিতে আস্থার প্রতিদান দেব।
জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ত্যাগের কথা স্মরণ করে শফিকুর রহমান তরুণ প্রজন্মের প্রতি তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমাদের তরুণরা বেকার ভাতা চায় না, তারা চায় ‘জাস্টিস’। তারা চায় মেধার মূল্যায়ন। কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে বা ‘লাল টেলিফোনের’ নির্দেশে যেন মেধাবীদের কপাল পুড়ে না যায়, আমরা সেই নিশ্চয়তা দেব। আমরা যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেব, তাদের দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তুলব।
তরুণদের উজ্জীবিত করতে তিনি একটি বিশেষ উপমা ব্যবহার করে বলেন, বাংলাদেশ নামের যে উড়োজাহাজ, তার ককপিটে অর্থাৎ চালকের আসনে আমরা যুবকদের বসিয়ে দেব। দেশ তারাই চালাবে, তারাই গড়বে। আর আমরা প্রবীণরা প্যাসেঞ্জার সিটে বসে তাদের দিকনির্দেশনা দেব। এখন আর পেছনে তাকানোর সময় নেই, এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।
এ জনসভার শেষে তিনি দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা আমির অধ্যাপক রমজান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















