ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বর্তমান সরকারের গণভোটের আয়োজন দেশদ্রোহিতা: জি এম কাদের বিশ্বকাপ খেলবে পাকিস্তান, বয়কট করবে ভারত ম্যাচ হাদি হত্যার দায় স্বীকার, জবানবন্দি রুবেলের পুরুষই নারীর পরিচালক, এটা মেনে নিয়েই আমরা রাজনীতিতে এসেছি: জামায়াত নেত্রী দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এলো জানুয়ারিতে জাতীয়তাবাদের কথা বলে একটি দল বিদেশি নাগরিকদের প্রার্থী করছে: আসিফ মাহমুদ দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক: প্রধান উপদেষ্টা আমেরিকা-ভারতের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে ইনসাফ বাস্তবায়ন করতে চায় জামায়াত: রেজাউল করিম

বাংলাদেশের বয়কটের প্রভাবে অলিম্পিক হারাতে বসেছে ভারত

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক : 

পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির ভেতরে খেলাধুলায় রাজনীতির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় গ্রুপ ম্যাচ সরানোর অনুরোধ মানেনি। এর পেছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন কাজ করেছে। কলকাতা নাইট রাইডার্স তাদের আইপিএল দল থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।

কলকাতা জানায়, তারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তানও বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কট ভাবছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে এই সপ্তাহেই।

যদিও বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে বাধ্য রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আইসিসি, তবু জানা গেছে ভারতীয় বোর্ড এই সিদ্ধান্তের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখে। আইসিসির ভাষ্যমতে, এটি একটি স্বাধীন সংস্থা। তবে অতীতে ভারতীয় বোর্ডের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নজির আছে। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সম্প্রচার ও অর্থনৈতিক কারণে ভারতকে গায়ানায় নিশ্চিত সেমিফাইনাল দেওয়ার ঘটনা তার উদাহরণ।

আইসিসিতে ভারতীয় বোর্ডের প্রভাব অনেক। বোর্ডের সঙ্গে ভারতের সরকারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ আগে ভারতীয় বোর্ডের সচিব ছিলেন। তার বাবা অমিত শাহ বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত আগে জিওস্টারের ক্রীড়া বিভাগের প্রধান ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠান ভারতে আইসিসি ইভেন্টের একচেটিয়া সম্প্রচার স্বত্ব ধরে রেখেছে।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন ভারতের জন্য খারাপ সময়ে এসেছে। গত মাসে দিল্লিতে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে ভারত। এখন তারা ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের জন্য আবেদন করেছে। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কাতারের নাম শোনা যাচ্ছে।

অলিম্পিক কমিটি রাজনীতির হস্তক্ষেপ একেবারেই সহ্য করে না। একটি সূত্র দ্য গার্ডিয়ানকে বলছে, অন্য দেশ বয়কট করলে এমন ঝুঁকি থাকলে ভারতকে অলিম্পিক দেওয়া কল্পনাও করা যায় না। অলিম্পিক চার্টারে বলা আছে, ক্রীড়া সংস্থাকে স্বাধীনভাবে চলতে হবে। বাইরে থেকে রাজনৈতিক প্রভাব থাকা চলবে না। অলিম্পিকের নিয়মানুযায়ী গেমসে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মত প্রকাশ নিষিদ্ধ।

গত অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ার ঘটনায় এই কঠোর নীতি দেখা গেছে। জাকার্তায় বিশ্ব আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকসে ইসরায়েলি দলকে ভিসা না দেওয়ায় ইন্দোনেশিয়াকে ভবিষ্যৎ অলিম্পিক আয়োজন সংক্রান্ত সব আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়াও ২০৩৬ আয়োজনের দৌড়ে ছিল। শুরুতেই তারা বাদ পড়ে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতি ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অলিম্পিক কমিটির একটি সূত্র বলেছে, ভারতকে বিশ্বাসযোগ্য আয়োজক হতে হলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের শক্ত প্রমাণ দেখাতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের বয়কটের প্রভাবে অলিম্পিক হারাতে বসেছে ভারত

আপডেট সময় ০২:৪৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক : 

পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির ভেতরে খেলাধুলায় রাজনীতির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় গ্রুপ ম্যাচ সরানোর অনুরোধ মানেনি। এর পেছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন কাজ করেছে। কলকাতা নাইট রাইডার্স তাদের আইপিএল দল থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।

কলকাতা জানায়, তারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তানও বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কট ভাবছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে এই সপ্তাহেই।

যদিও বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে বাধ্য রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আইসিসি, তবু জানা গেছে ভারতীয় বোর্ড এই সিদ্ধান্তের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখে। আইসিসির ভাষ্যমতে, এটি একটি স্বাধীন সংস্থা। তবে অতীতে ভারতীয় বোর্ডের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নজির আছে। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সম্প্রচার ও অর্থনৈতিক কারণে ভারতকে গায়ানায় নিশ্চিত সেমিফাইনাল দেওয়ার ঘটনা তার উদাহরণ।

আইসিসিতে ভারতীয় বোর্ডের প্রভাব অনেক। বোর্ডের সঙ্গে ভারতের সরকারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ আগে ভারতীয় বোর্ডের সচিব ছিলেন। তার বাবা অমিত শাহ বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত আগে জিওস্টারের ক্রীড়া বিভাগের প্রধান ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠান ভারতে আইসিসি ইভেন্টের একচেটিয়া সম্প্রচার স্বত্ব ধরে রেখেছে।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন ভারতের জন্য খারাপ সময়ে এসেছে। গত মাসে দিল্লিতে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে ভারত। এখন তারা ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের জন্য আবেদন করেছে। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কাতারের নাম শোনা যাচ্ছে।

অলিম্পিক কমিটি রাজনীতির হস্তক্ষেপ একেবারেই সহ্য করে না। একটি সূত্র দ্য গার্ডিয়ানকে বলছে, অন্য দেশ বয়কট করলে এমন ঝুঁকি থাকলে ভারতকে অলিম্পিক দেওয়া কল্পনাও করা যায় না। অলিম্পিক চার্টারে বলা আছে, ক্রীড়া সংস্থাকে স্বাধীনভাবে চলতে হবে। বাইরে থেকে রাজনৈতিক প্রভাব থাকা চলবে না। অলিম্পিকের নিয়মানুযায়ী গেমসে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মত প্রকাশ নিষিদ্ধ।

গত অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ার ঘটনায় এই কঠোর নীতি দেখা গেছে। জাকার্তায় বিশ্ব আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকসে ইসরায়েলি দলকে ভিসা না দেওয়ায় ইন্দোনেশিয়াকে ভবিষ্যৎ অলিম্পিক আয়োজন সংক্রান্ত সব আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়াও ২০৩৬ আয়োজনের দৌড়ে ছিল। শুরুতেই তারা বাদ পড়ে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতি ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অলিম্পিক কমিটির একটি সূত্র বলেছে, ভারতকে বিশ্বাসযোগ্য আয়োজক হতে হলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের শক্ত প্রমাণ দেখাতে হবে।