ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কুষ্টিয়ায় কোমল পানীয় ভেবে বিষ পানে শিশুর মৃত্যু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

কুষ্টিয়ার খোকসায় কোমল পানীয় ভেবে পেঁয়াজে দেওয়ার তরল বিষ পান করে তিন বছরের এক শিশু কন্যা মারা গেছে। বুধবার সকাল জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোপাল পুর গ্রামের কোমল পানীয় বতোলে রাখা তরল বিষ খেয়ে শিশু খাদিজা মারা যায়। সে এই গ্রামের বাহাদুর আলী শেখের মেয়ে।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে খেলার সময় নিজেদের গোয়াল ঘরে (গরু রাখার ঘর) কোমল পানীয়র বতোলে রাখা তরল বিষের সন্ধ্যান পায় শিশুটি। সে কোমল পানীয় ভেবে বিষ খেয়ে ফেলে। এর পর গোয়াল ঘর থেকে বমি করতে করতে শিশুটি বেড়িয়ে আসে। পরিবারের লোকেরা টের পেয়ে শিশুটিকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃতবলে ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুর পিতা বাহাদুর আলী জানান, মঙ্গলবার পেঁয়াজের খেতে বিষ দিয়ে কিছুটা তরল বিষ বেঁচে যায়। আরসি’র বতলে রাখা অবশিষ্ট বিষ টুকু নিজের গোয়াল ঘরের এক কোনে রেখে দেন। খাদিজা বতলে রাখা বিষ খেয়ে বমি করতে করতে বেড়িয়ে আসার পর তারা বুঝতে পেরে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। শোমসপুর রেল গেটে আসার পর তার কোলের উপর মেয়ে মারা যায়। তার পরেও মন বোঝানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষকদের বাড়িতে একটু আধটো বিষ থাকে। সেগুলো সাবধানে রাখা হয়। কিন্তু শিশুটি কিভাবে বিষ পেয়ে গেলো। ঘটনাটিকে ভাগ্যের লিখন বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার জহিদুল ইসলাম জাহিদ জানান, জরুরী বিভাগে আসার আগেই শিশুটি মারা যায়। তাদের কাছে মৃত অবস্থায় শিশুটিকে আনা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃতশিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে থানা পুলিশ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে একটি বেঞ্চের উপর বসে ছিলেন শিশুটির মা সুমি খাতুন। মেয়ের শোকে তিনি পাথর বনে গেছেন। কারো সাথে কোন কথা বলছেন না। নির্বাক স্ত্রীর পাশে বসে নিজের অসাধানতাকেই দুষলেন সন্তান হারা কৃষক বাহাদুর।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

কুষ্টিয়ায় কোমল পানীয় ভেবে বিষ পানে শিশুর মৃত্যু

আপডেট সময় ০৮:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

কুষ্টিয়ার খোকসায় কোমল পানীয় ভেবে পেঁয়াজে দেওয়ার তরল বিষ পান করে তিন বছরের এক শিশু কন্যা মারা গেছে। বুধবার সকাল জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোপাল পুর গ্রামের কোমল পানীয় বতোলে রাখা তরল বিষ খেয়ে শিশু খাদিজা মারা যায়। সে এই গ্রামের বাহাদুর আলী শেখের মেয়ে।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে খেলার সময় নিজেদের গোয়াল ঘরে (গরু রাখার ঘর) কোমল পানীয়র বতোলে রাখা তরল বিষের সন্ধ্যান পায় শিশুটি। সে কোমল পানীয় ভেবে বিষ খেয়ে ফেলে। এর পর গোয়াল ঘর থেকে বমি করতে করতে শিশুটি বেড়িয়ে আসে। পরিবারের লোকেরা টের পেয়ে শিশুটিকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃতবলে ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুর পিতা বাহাদুর আলী জানান, মঙ্গলবার পেঁয়াজের খেতে বিষ দিয়ে কিছুটা তরল বিষ বেঁচে যায়। আরসি’র বতলে রাখা অবশিষ্ট বিষ টুকু নিজের গোয়াল ঘরের এক কোনে রেখে দেন। খাদিজা বতলে রাখা বিষ খেয়ে বমি করতে করতে বেড়িয়ে আসার পর তারা বুঝতে পেরে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। শোমসপুর রেল গেটে আসার পর তার কোলের উপর মেয়ে মারা যায়। তার পরেও মন বোঝানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষকদের বাড়িতে একটু আধটো বিষ থাকে। সেগুলো সাবধানে রাখা হয়। কিন্তু শিশুটি কিভাবে বিষ পেয়ে গেলো। ঘটনাটিকে ভাগ্যের লিখন বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার জহিদুল ইসলাম জাহিদ জানান, জরুরী বিভাগে আসার আগেই শিশুটি মারা যায়। তাদের কাছে মৃত অবস্থায় শিশুটিকে আনা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃতশিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে থানা পুলিশ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে একটি বেঞ্চের উপর বসে ছিলেন শিশুটির মা সুমি খাতুন। মেয়ের শোকে তিনি পাথর বনে গেছেন। কারো সাথে কোন কথা বলছেন না। নির্বাক স্ত্রীর পাশে বসে নিজের অসাধানতাকেই দুষলেন সন্তান হারা কৃষক বাহাদুর।