আকাশ জাতীয় ডেস্ক :
পাবনার ঈশ্বরদীতে চিরকুট লিখে অপরিচিত নারীর কোলে রেখে যাওয়া ১৯ দিন বয়সী শিশুটির বাবা-মায়ের খোঁজ মিলেছে। সোমবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করেন।
শিশুটির বাবা মায়ের নাম- ইমারুল প্রামাণিক ও মুক্তা খাতুন। এ দম্পতি উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে স্বামীর চিকিৎসা করাতে আসেন জয়নগর গ্রামের মিষ্টি আক্তার। হঠাৎ অপরিচিত এক নারী টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে ১৯ দিন বয়সি শিশুটিকে তার কাছে রেখে যান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরেও ওই নারী না আসায় সন্দেহ হয় মিষ্টির। একপর্যায়ে শিশুটির শরীরে জড়ানো কাপড়ে একটি চিরকুট পান। সেখানে লেখা ছিল–‘বাচ্চাটিকে হেফাজতে রাখবেন, বাচ্চার জন্ম ১ জানুয়ারি।’ ওই কাগজে একটি ফোন নম্বরও লেখা ছিল। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে চিরকুটে লিখে রাখা মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেন।
জানা যায়, ফোন নম্বরটি মো. আশরাফ নামের এক ব্যক্তির। তিনি সম্পর্কে ওই শিশুর বাবা ইমারুল প্রামাণিকের বড় ভাইয়ের জামাতা। বিষয়টি ইমারুল প্রামাণিককে জানালে তারা এসে তাদের সন্তানকে শনাক্ত করেন। এদিকে এ ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে শিশুর বাবা এসে শিশুটি তাঁর সন্তান বলে জানান। পরে মাকেও সেখানে আনা হয়। তিনি কখনও বলেন, আমার বাচ্চা নয়, আবার কখনও বলেন, বাচ্চাটি ছিনতাই হয়েছে। শেষে স্বজনের দ্বারা নিশ্চিত হওয়া যায় শিশুটির বাবা-মা তারাই। পরে থানায় গিয়ে পুলিশের মাধ্যমে শিশুটিকে বাবা-মার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জন্মের সময় পাশে থাকা শিশুটির চাচি ডলি খাতুন বলেন, শিশুটি তাদেরই। সিসি ক্যামেরায় যে নারীকে দেখা যাচ্ছে তিনি মুক্তা খাতুন। তিনি নিজেই সন্তানকে হাসপাতালে আনেন। কেন এমন করলেন বুঝলাম না।
শিশুটির বাবা ইমারুল প্রামাণিক বলেন, ‘সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হই। এরপর আমার স্ত্রী কেন বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে গেল বলতে পারব না। বাড়ি এসে দেখি সে কান্নাকাটি করছে। বলছিল আমার সন্তানকে হারিয়ে ফেলেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চিরকুটে লেখা নাম্বারটা আমার বড় ভাইয়ের জামাতার। সে বিষয়টি জানায়। আমি আমার স্ত্রী কেন এমনটা করল জানি না।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার বাবা-মার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বলেন, মুক্তা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি কিছুই বলেননি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















