ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার আসামি নয়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত পুরো নেটওয়ার্কের বিচার চেয়েছেন দলটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বসে পড়েন। সেখানে একাধিক নেতা বক্তব্য দেন। তখন জাবের হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্কের বিচার চান।

চার্জশিট নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় পাঁচটি টিম কাজ করেছে—এটা অস্বীকার করা হয়নি। তাহলে চার্জশিটে কেন শুধু চারজন? বাকি পাঁচটি টিমের কোনো তথ্য নেই কেন? ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে ২১ জনের একটি টিম হত্যাচেষ্টায় যুক্ত ছিল বলে বলা হয়েছে। কিন্তু চার্জশিটে ফয়সাল, মাসুদ ও আলমগীর ছাড়া আর কাউকেই দেখা যায় না। আমরা পুরো নেটওয়ার্কের বিচার চাই।

আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, বৃহস্পতিবার ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট পর্যালোচনা শুনানি ছিল। সেখানে মূল আসামিদের কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারা তাদের আড়াল করতে চায়, আমরা বুঝি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি তাদের আড়াল না করে, তাহলে তাদের আর লুকানোর কোনো পথ নেই। গত ১৭ বছরে বিরোধী দলের কেউ যদি ৪০ ফুট মাটির নিচেও থাকত, সেখান থেকেও বের করে আনা হয়েছে। সেই কাঠামো এখনো বাংলাদেশে আছে। নাহলে এখন কেন পারছে না?

রাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ঘরের ইঁদুরে যদি বান কাটে, সেই বান টেকানো যায় না। রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি জায়গায় যারা ওসমান হাদিকে খুন করেছে, তাদের সেভ করার জন্য কাজ চলছে।

তিনি দাবি করেন, সারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ আজ শরিফ ওসমান হাদির খুনের বিচারের জন্য রাজপথে নেমেছে। অথচ গুটিকয়েক মানুষ ক্ষমতায় বসে খুনিদের রক্ষা করছে।

তিনি আরও বলেন, যারা এ হত্যাকাণ্ডে বিনিয়োগ করেছে, তারা শুধু একজন মানুষকে গুলি করেনি, তারা বাংলাদেশের পতাকা, সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রে গুলি করেছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে জাবের বলেন, রাষ্ট্র যদি হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না করে, তাহলে আমরা নির্বাচন চাই না। আমরা রাজপথে নেমেছি বিচারের জন্য, নির্বাচন বানচালের জন্য না। যদি বলা হয় আমরা নির্বাচন বানচালের জন্য রাস্তায় নেমেছি, তাহলে দাঁত ভেঙে জবাব দেওয়া হবে।

সমাবেশ শেষে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে আরও বৃহত্তর সমাবেশ ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মসূচির সময় ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ

আপডেট সময় ১১:১৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার আসামি নয়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত পুরো নেটওয়ার্কের বিচার চেয়েছেন দলটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বসে পড়েন। সেখানে একাধিক নেতা বক্তব্য দেন। তখন জাবের হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্কের বিচার চান।

চার্জশিট নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় পাঁচটি টিম কাজ করেছে—এটা অস্বীকার করা হয়নি। তাহলে চার্জশিটে কেন শুধু চারজন? বাকি পাঁচটি টিমের কোনো তথ্য নেই কেন? ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে ২১ জনের একটি টিম হত্যাচেষ্টায় যুক্ত ছিল বলে বলা হয়েছে। কিন্তু চার্জশিটে ফয়সাল, মাসুদ ও আলমগীর ছাড়া আর কাউকেই দেখা যায় না। আমরা পুরো নেটওয়ার্কের বিচার চাই।

আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, বৃহস্পতিবার ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট পর্যালোচনা শুনানি ছিল। সেখানে মূল আসামিদের কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারা তাদের আড়াল করতে চায়, আমরা বুঝি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি তাদের আড়াল না করে, তাহলে তাদের আর লুকানোর কোনো পথ নেই। গত ১৭ বছরে বিরোধী দলের কেউ যদি ৪০ ফুট মাটির নিচেও থাকত, সেখান থেকেও বের করে আনা হয়েছে। সেই কাঠামো এখনো বাংলাদেশে আছে। নাহলে এখন কেন পারছে না?

রাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ঘরের ইঁদুরে যদি বান কাটে, সেই বান টেকানো যায় না। রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি জায়গায় যারা ওসমান হাদিকে খুন করেছে, তাদের সেভ করার জন্য কাজ চলছে।

তিনি দাবি করেন, সারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ আজ শরিফ ওসমান হাদির খুনের বিচারের জন্য রাজপথে নেমেছে। অথচ গুটিকয়েক মানুষ ক্ষমতায় বসে খুনিদের রক্ষা করছে।

তিনি আরও বলেন, যারা এ হত্যাকাণ্ডে বিনিয়োগ করেছে, তারা শুধু একজন মানুষকে গুলি করেনি, তারা বাংলাদেশের পতাকা, সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রে গুলি করেছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে জাবের বলেন, রাষ্ট্র যদি হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না করে, তাহলে আমরা নির্বাচন চাই না। আমরা রাজপথে নেমেছি বিচারের জন্য, নির্বাচন বানচালের জন্য না। যদি বলা হয় আমরা নির্বাচন বানচালের জন্য রাস্তায় নেমেছি, তাহলে দাঁত ভেঙে জবাব দেওয়া হবে।

সমাবেশ শেষে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে আরও বৃহত্তর সমাবেশ ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মসূচির সময় ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে।