ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের রাতারাতি বড় কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: আইএমএফকে অর্থমন্ত্রী জনগণের কল্যাণে পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে : ডিএমপি কমিশনার টকশোতে আর দেখা যাবে না গোলাম মাওলা রনিকে গাজা পুনর্গঠনে ১০০ কোটি ডলারের সহায়তা উদ্যোগ ঘোষণা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের দুই বছরের কারাদণ্ড মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক কাজ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর চালু হলে কমবে পণ্য পরিবহন ব্যয়: নৌমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর করতে কাজ করছে সরকার : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার আসামি নয়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত পুরো নেটওয়ার্কের বিচার চেয়েছেন দলটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বসে পড়েন। সেখানে একাধিক নেতা বক্তব্য দেন। তখন জাবের হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্কের বিচার চান।

চার্জশিট নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় পাঁচটি টিম কাজ করেছে—এটা অস্বীকার করা হয়নি। তাহলে চার্জশিটে কেন শুধু চারজন? বাকি পাঁচটি টিমের কোনো তথ্য নেই কেন? ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে ২১ জনের একটি টিম হত্যাচেষ্টায় যুক্ত ছিল বলে বলা হয়েছে। কিন্তু চার্জশিটে ফয়সাল, মাসুদ ও আলমগীর ছাড়া আর কাউকেই দেখা যায় না। আমরা পুরো নেটওয়ার্কের বিচার চাই।

আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, বৃহস্পতিবার ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট পর্যালোচনা শুনানি ছিল। সেখানে মূল আসামিদের কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারা তাদের আড়াল করতে চায়, আমরা বুঝি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি তাদের আড়াল না করে, তাহলে তাদের আর লুকানোর কোনো পথ নেই। গত ১৭ বছরে বিরোধী দলের কেউ যদি ৪০ ফুট মাটির নিচেও থাকত, সেখান থেকেও বের করে আনা হয়েছে। সেই কাঠামো এখনো বাংলাদেশে আছে। নাহলে এখন কেন পারছে না?

রাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ঘরের ইঁদুরে যদি বান কাটে, সেই বান টেকানো যায় না। রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি জায়গায় যারা ওসমান হাদিকে খুন করেছে, তাদের সেভ করার জন্য কাজ চলছে।

তিনি দাবি করেন, সারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ আজ শরিফ ওসমান হাদির খুনের বিচারের জন্য রাজপথে নেমেছে। অথচ গুটিকয়েক মানুষ ক্ষমতায় বসে খুনিদের রক্ষা করছে।

তিনি আরও বলেন, যারা এ হত্যাকাণ্ডে বিনিয়োগ করেছে, তারা শুধু একজন মানুষকে গুলি করেনি, তারা বাংলাদেশের পতাকা, সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রে গুলি করেছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে জাবের বলেন, রাষ্ট্র যদি হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না করে, তাহলে আমরা নির্বাচন চাই না। আমরা রাজপথে নেমেছি বিচারের জন্য, নির্বাচন বানচালের জন্য না। যদি বলা হয় আমরা নির্বাচন বানচালের জন্য রাস্তায় নেমেছি, তাহলে দাঁত ভেঙে জবাব দেওয়া হবে।

সমাবেশ শেষে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে আরও বৃহত্তর সমাবেশ ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মসূচির সময় ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, নীরবতা ভাঙলেন শ্রাবন্তী

হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ

আপডেট সময় ১১:১৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার আসামি নয়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত পুরো নেটওয়ার্কের বিচার চেয়েছেন দলটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বসে পড়েন। সেখানে একাধিক নেতা বক্তব্য দেন। তখন জাবের হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্কের বিচার চান।

চার্জশিট নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় পাঁচটি টিম কাজ করেছে—এটা অস্বীকার করা হয়নি। তাহলে চার্জশিটে কেন শুধু চারজন? বাকি পাঁচটি টিমের কোনো তথ্য নেই কেন? ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে ২১ জনের একটি টিম হত্যাচেষ্টায় যুক্ত ছিল বলে বলা হয়েছে। কিন্তু চার্জশিটে ফয়সাল, মাসুদ ও আলমগীর ছাড়া আর কাউকেই দেখা যায় না। আমরা পুরো নেটওয়ার্কের বিচার চাই।

আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, বৃহস্পতিবার ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট পর্যালোচনা শুনানি ছিল। সেখানে মূল আসামিদের কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারা তাদের আড়াল করতে চায়, আমরা বুঝি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি তাদের আড়াল না করে, তাহলে তাদের আর লুকানোর কোনো পথ নেই। গত ১৭ বছরে বিরোধী দলের কেউ যদি ৪০ ফুট মাটির নিচেও থাকত, সেখান থেকেও বের করে আনা হয়েছে। সেই কাঠামো এখনো বাংলাদেশে আছে। নাহলে এখন কেন পারছে না?

রাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ঘরের ইঁদুরে যদি বান কাটে, সেই বান টেকানো যায় না। রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি জায়গায় যারা ওসমান হাদিকে খুন করেছে, তাদের সেভ করার জন্য কাজ চলছে।

তিনি দাবি করেন, সারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ আজ শরিফ ওসমান হাদির খুনের বিচারের জন্য রাজপথে নেমেছে। অথচ গুটিকয়েক মানুষ ক্ষমতায় বসে খুনিদের রক্ষা করছে।

তিনি আরও বলেন, যারা এ হত্যাকাণ্ডে বিনিয়োগ করেছে, তারা শুধু একজন মানুষকে গুলি করেনি, তারা বাংলাদেশের পতাকা, সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রে গুলি করেছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে জাবের বলেন, রাষ্ট্র যদি হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না করে, তাহলে আমরা নির্বাচন চাই না। আমরা রাজপথে নেমেছি বিচারের জন্য, নির্বাচন বানচালের জন্য না। যদি বলা হয় আমরা নির্বাচন বানচালের জন্য রাস্তায় নেমেছি, তাহলে দাঁত ভেঙে জবাব দেওয়া হবে।

সমাবেশ শেষে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে আরও বৃহত্তর সমাবেশ ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মসূচির সময় ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে।