ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

গরম পানির ভাপ, ত্বকের জন্য উপকার না ক্ষতি?

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

ত্বকের সজীবতা ধরে রাখা এবং স্বাভাবিক জেল্লা বাড়ানোর জন্য অনেকেই ঘরোয়া সমাধান হিসেবে গরম পানির ভাপ বা স্টিম থেরাপির ওপর ভরসা করেন। নিয়মিত ত্বকচর্চার অংশ হিসেবে এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়।

চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম পানির ভাপ ত্বকের গভীর স্তর পর্যন্ত জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে সহায়তা করে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই পদ্ধতির যেমন রয়েছে একাধিক উপকারিতা, তেমনি সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করলে ত্বকের জন্য কিছু ক্ষতির কারণও হতে পারে।

তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীদের জন্য স্টিম থেরাপি বেশ কার্যকর একটি উপায়। বাইরে থেকে আসা ধুলাবালি ও ময়লা জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ, কালচে দাগ বা ছোপ দেখা দিতে পারে। ভাপ নেওয়ার ফলে লোমকূপগুলো খুলে যায় এবং জমে থাকা মৃত কোষ সহজেই পরিষ্কার হয়ে যায়। পাশাপাশি ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস নরম হয়ে ত্বক থেকে সহজে বেরিয়ে আসে, যা ত্বককে পরিষ্কার ও মসৃণ করে তোলে।

গরমের দিনে যখন ত্বক ক্লান্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তখন স্টিম থেরাপি ত্বকে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে নতুন সতেজতা এনে দেয়। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রেও এটি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বিশেষ করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের আগে ভাপ নিলে সেটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এতে ত্বক আরও কোমল ও নরম হয়ে ওঠে।

চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও সঠিকভাবে স্টিম থেরাপি নিলে ত্বকে কোলাজেন ও এলাস্টিনের উৎপাদন বাড়ে। এর ফলে ত্বক কুঁচকে যাওয়ার প্রবণতা কমে এবং চামড়া থাকে মসৃণ ও টানটান। এমনকি ব্রণের সমস্যা কমাতে গরম পানির সঙ্গে নিমপাতা ব্যবহার করে ভাপ নেওয়ার পরামর্শও দেন তারা।

তবে স্টিম থেরাপির ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মানা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিষ্কার ত্বকে কখনোই ভাপ নেওয়া উচিত নয়। এতে বাইরের ময়লা খোলা লোমকূপের ভেতরে ঢুকে উল্টো ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।

এ কারণে ভাপ নেওয়ার আগে অবশ্যই ভালো মানের ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সময় বা ঘন ঘন ভাপ নেওয়াও ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এতে লোমকূপের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।

তাই প্রতিদিন নয়, বরং একদিন পরপর স্টিম নেওয়াই উত্তম। ভাপ নেওয়ার পর ফেসপ্যাক ব্যবহার করা এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগানো প্রয়োজন। সঠিক নিয়ম মেনে স্টিম থেরাপি গ্রহণ করলে ত্বকের হারানো জেল্লা ও প্রাণবন্ত ভাব সহজেই ফিরে পাওয়া সম্ভব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

গরম পানির ভাপ, ত্বকের জন্য উপকার না ক্ষতি?

আপডেট সময় ১০:৪১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

ত্বকের সজীবতা ধরে রাখা এবং স্বাভাবিক জেল্লা বাড়ানোর জন্য অনেকেই ঘরোয়া সমাধান হিসেবে গরম পানির ভাপ বা স্টিম থেরাপির ওপর ভরসা করেন। নিয়মিত ত্বকচর্চার অংশ হিসেবে এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়।

চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম পানির ভাপ ত্বকের গভীর স্তর পর্যন্ত জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে সহায়তা করে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই পদ্ধতির যেমন রয়েছে একাধিক উপকারিতা, তেমনি সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করলে ত্বকের জন্য কিছু ক্ষতির কারণও হতে পারে।

তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীদের জন্য স্টিম থেরাপি বেশ কার্যকর একটি উপায়। বাইরে থেকে আসা ধুলাবালি ও ময়লা জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ, কালচে দাগ বা ছোপ দেখা দিতে পারে। ভাপ নেওয়ার ফলে লোমকূপগুলো খুলে যায় এবং জমে থাকা মৃত কোষ সহজেই পরিষ্কার হয়ে যায়। পাশাপাশি ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস নরম হয়ে ত্বক থেকে সহজে বেরিয়ে আসে, যা ত্বককে পরিষ্কার ও মসৃণ করে তোলে।

গরমের দিনে যখন ত্বক ক্লান্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তখন স্টিম থেরাপি ত্বকে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে নতুন সতেজতা এনে দেয়। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রেও এটি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বিশেষ করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের আগে ভাপ নিলে সেটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এতে ত্বক আরও কোমল ও নরম হয়ে ওঠে।

চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও সঠিকভাবে স্টিম থেরাপি নিলে ত্বকে কোলাজেন ও এলাস্টিনের উৎপাদন বাড়ে। এর ফলে ত্বক কুঁচকে যাওয়ার প্রবণতা কমে এবং চামড়া থাকে মসৃণ ও টানটান। এমনকি ব্রণের সমস্যা কমাতে গরম পানির সঙ্গে নিমপাতা ব্যবহার করে ভাপ নেওয়ার পরামর্শও দেন তারা।

তবে স্টিম থেরাপির ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মানা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিষ্কার ত্বকে কখনোই ভাপ নেওয়া উচিত নয়। এতে বাইরের ময়লা খোলা লোমকূপের ভেতরে ঢুকে উল্টো ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।

এ কারণে ভাপ নেওয়ার আগে অবশ্যই ভালো মানের ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সময় বা ঘন ঘন ভাপ নেওয়াও ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এতে লোমকূপের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।

তাই প্রতিদিন নয়, বরং একদিন পরপর স্টিম নেওয়াই উত্তম। ভাপ নেওয়ার পর ফেসপ্যাক ব্যবহার করা এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগানো প্রয়োজন। সঠিক নিয়ম মেনে স্টিম থেরাপি গ্রহণ করলে ত্বকের হারানো জেল্লা ও প্রাণবন্ত ভাব সহজেই ফিরে পাওয়া সম্ভব।