ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যে দল ইসরাইলের টাকায় চলে সেই দলে আমি থাকতে পারি না: রেজা কিবরিয়া নির্বাচনে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না, সবাই সহযোগিতা করলে শান্তিপূর্ণভাবে হয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘সবাইকেই তো দেখলাম, এবার জামায়াতকে দেখব’,বক্তব্যের অন্তর্নিহিত গোমর ফাঁস করলেন হামিম গোপালগঞ্জে মা-বাবাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা, দুই ছেলে গ্রেফতার আইসিসির রিপোর্টই ভাবতে বাধ্য করেছে, যে ভারতে ঝুঁকি আছে: আসিফ নজরুল বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২ জাস্টিস ফর হাদি, ইনশাআল্লাহ : মির্জা ফখরুল আলমগীর টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন

গরম পানির ভাপ, ত্বকের জন্য উপকার না ক্ষতি?

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

ত্বকের সজীবতা ধরে রাখা এবং স্বাভাবিক জেল্লা বাড়ানোর জন্য অনেকেই ঘরোয়া সমাধান হিসেবে গরম পানির ভাপ বা স্টিম থেরাপির ওপর ভরসা করেন। নিয়মিত ত্বকচর্চার অংশ হিসেবে এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়।

চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম পানির ভাপ ত্বকের গভীর স্তর পর্যন্ত জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে সহায়তা করে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই পদ্ধতির যেমন রয়েছে একাধিক উপকারিতা, তেমনি সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করলে ত্বকের জন্য কিছু ক্ষতির কারণও হতে পারে।

তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীদের জন্য স্টিম থেরাপি বেশ কার্যকর একটি উপায়। বাইরে থেকে আসা ধুলাবালি ও ময়লা জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ, কালচে দাগ বা ছোপ দেখা দিতে পারে। ভাপ নেওয়ার ফলে লোমকূপগুলো খুলে যায় এবং জমে থাকা মৃত কোষ সহজেই পরিষ্কার হয়ে যায়। পাশাপাশি ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস নরম হয়ে ত্বক থেকে সহজে বেরিয়ে আসে, যা ত্বককে পরিষ্কার ও মসৃণ করে তোলে।

গরমের দিনে যখন ত্বক ক্লান্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তখন স্টিম থেরাপি ত্বকে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে নতুন সতেজতা এনে দেয়। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রেও এটি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বিশেষ করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের আগে ভাপ নিলে সেটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এতে ত্বক আরও কোমল ও নরম হয়ে ওঠে।

চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও সঠিকভাবে স্টিম থেরাপি নিলে ত্বকে কোলাজেন ও এলাস্টিনের উৎপাদন বাড়ে। এর ফলে ত্বক কুঁচকে যাওয়ার প্রবণতা কমে এবং চামড়া থাকে মসৃণ ও টানটান। এমনকি ব্রণের সমস্যা কমাতে গরম পানির সঙ্গে নিমপাতা ব্যবহার করে ভাপ নেওয়ার পরামর্শও দেন তারা।

তবে স্টিম থেরাপির ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মানা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিষ্কার ত্বকে কখনোই ভাপ নেওয়া উচিত নয়। এতে বাইরের ময়লা খোলা লোমকূপের ভেতরে ঢুকে উল্টো ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।

এ কারণে ভাপ নেওয়ার আগে অবশ্যই ভালো মানের ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সময় বা ঘন ঘন ভাপ নেওয়াও ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এতে লোমকূপের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।

তাই প্রতিদিন নয়, বরং একদিন পরপর স্টিম নেওয়াই উত্তম। ভাপ নেওয়ার পর ফেসপ্যাক ব্যবহার করা এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগানো প্রয়োজন। সঠিক নিয়ম মেনে স্টিম থেরাপি গ্রহণ করলে ত্বকের হারানো জেল্লা ও প্রাণবন্ত ভাব সহজেই ফিরে পাওয়া সম্ভব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যে দল ইসরাইলের টাকায় চলে সেই দলে আমি থাকতে পারি না: রেজা কিবরিয়া

গরম পানির ভাপ, ত্বকের জন্য উপকার না ক্ষতি?

আপডেট সময় ১০:৪১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

ত্বকের সজীবতা ধরে রাখা এবং স্বাভাবিক জেল্লা বাড়ানোর জন্য অনেকেই ঘরোয়া সমাধান হিসেবে গরম পানির ভাপ বা স্টিম থেরাপির ওপর ভরসা করেন। নিয়মিত ত্বকচর্চার অংশ হিসেবে এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়।

চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম পানির ভাপ ত্বকের গভীর স্তর পর্যন্ত জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে সহায়তা করে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই পদ্ধতির যেমন রয়েছে একাধিক উপকারিতা, তেমনি সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করলে ত্বকের জন্য কিছু ক্ষতির কারণও হতে পারে।

তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীদের জন্য স্টিম থেরাপি বেশ কার্যকর একটি উপায়। বাইরে থেকে আসা ধুলাবালি ও ময়লা জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ, কালচে দাগ বা ছোপ দেখা দিতে পারে। ভাপ নেওয়ার ফলে লোমকূপগুলো খুলে যায় এবং জমে থাকা মৃত কোষ সহজেই পরিষ্কার হয়ে যায়। পাশাপাশি ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস নরম হয়ে ত্বক থেকে সহজে বেরিয়ে আসে, যা ত্বককে পরিষ্কার ও মসৃণ করে তোলে।

গরমের দিনে যখন ত্বক ক্লান্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তখন স্টিম থেরাপি ত্বকে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে নতুন সতেজতা এনে দেয়। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রেও এটি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বিশেষ করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের আগে ভাপ নিলে সেটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এতে ত্বক আরও কোমল ও নরম হয়ে ওঠে।

চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও সঠিকভাবে স্টিম থেরাপি নিলে ত্বকে কোলাজেন ও এলাস্টিনের উৎপাদন বাড়ে। এর ফলে ত্বক কুঁচকে যাওয়ার প্রবণতা কমে এবং চামড়া থাকে মসৃণ ও টানটান। এমনকি ব্রণের সমস্যা কমাতে গরম পানির সঙ্গে নিমপাতা ব্যবহার করে ভাপ নেওয়ার পরামর্শও দেন তারা।

তবে স্টিম থেরাপির ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মানা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিষ্কার ত্বকে কখনোই ভাপ নেওয়া উচিত নয়। এতে বাইরের ময়লা খোলা লোমকূপের ভেতরে ঢুকে উল্টো ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।

এ কারণে ভাপ নেওয়ার আগে অবশ্যই ভালো মানের ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সময় বা ঘন ঘন ভাপ নেওয়াও ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এতে লোমকূপের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।

তাই প্রতিদিন নয়, বরং একদিন পরপর স্টিম নেওয়াই উত্তম। ভাপ নেওয়ার পর ফেসপ্যাক ব্যবহার করা এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগানো প্রয়োজন। সঠিক নিয়ম মেনে স্টিম থেরাপি গ্রহণ করলে ত্বকের হারানো জেল্লা ও প্রাণবন্ত ভাব সহজেই ফিরে পাওয়া সম্ভব।