ঢাকা ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

ধ্বংসস্তূপে থাকা গাজাবাসীর জন্য এবার ড় আকারের ত্রাণবহর পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং সেখানকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সৌদি আরবের জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গাজা উপত্যকায় আকাশ, সমুদ্র এবং স্থলপথ—তিন মাধ্যমেই সহায়তা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাড়ানোর এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজকীয় আদালতের উপদেষ্টা এবং কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের (কেএসরিলিফ) সুপারভাইজার জেনারেল ড. আবদুল্লাহ আল-রাবিয়াহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই মহতী উদ্যোগ ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়ানোর সৌদি আরবের ঐতিহাসিক অঙ্গীকারেরই একটি প্রতিফলন এবং এর মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো যে ফিলিস্তিন সবসময়ই সৌদি নেতৃত্বের হৃদয়ে মিশে আছে।’

এখন পর্যন্ত কেএস রিলিফের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জন্য বড় পরিসরে আকাশ ও সমুদ্রপথে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের খবর পাওয়া গেছে। এই প্রক্রিয়ায় ৭৭টি বিমান এবং ৮টি জাহাজে করে ৭ হাজার ৬৯৯ টনেরও বেশি খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া ৯১২টি সৌদি ত্রাণবাহী ট্রাক ইতিমধ্যে গাজায় পৌঁছেছে এবং ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে প্রতিবন্ধকতা এড়াতে জর্ডানের সঙ্গে যৌথভাবে আকাশ থেকেও গাজায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি গাজার ভেতরে বিভিন্ন ত্রাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রায় ৯০.৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব।

গাজায় বর্তমানে যখন শীতের প্রকোপ বাড়ছে এবং ইসরাইলি আগ্রাসনে প্রায় ৪ লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, ঠিক সেই সংকটময় সময়ে সৌদি আরবের এই বর্ধিত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা অর্থাৎ ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বর্তমানে তীব্র আশ্রয়ের সংকটে ভুগছেন। খোলা আকাশের নিচে তাঁবুতে বসবাস অথবা যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে এমন ধ্বংসস্তূপের ভেতরে থাকা এমনই এক অসম্ভব ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন গাজাবাসী। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের এই ধারাবাহিক মানবিক প্রচেষ্টা অসহায় মানুষের টিকে থাকার লড়াইয়ে বড় শক্তি যোগাচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

ধ্বংসস্তূপে থাকা গাজাবাসীর জন্য এবার ড় আকারের ত্রাণবহর পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

আপডেট সময় ০৫:৫৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং সেখানকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সৌদি আরবের জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গাজা উপত্যকায় আকাশ, সমুদ্র এবং স্থলপথ—তিন মাধ্যমেই সহায়তা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাড়ানোর এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজকীয় আদালতের উপদেষ্টা এবং কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের (কেএসরিলিফ) সুপারভাইজার জেনারেল ড. আবদুল্লাহ আল-রাবিয়াহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই মহতী উদ্যোগ ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়ানোর সৌদি আরবের ঐতিহাসিক অঙ্গীকারেরই একটি প্রতিফলন এবং এর মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো যে ফিলিস্তিন সবসময়ই সৌদি নেতৃত্বের হৃদয়ে মিশে আছে।’

এখন পর্যন্ত কেএস রিলিফের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জন্য বড় পরিসরে আকাশ ও সমুদ্রপথে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের খবর পাওয়া গেছে। এই প্রক্রিয়ায় ৭৭টি বিমান এবং ৮টি জাহাজে করে ৭ হাজার ৬৯৯ টনেরও বেশি খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া ৯১২টি সৌদি ত্রাণবাহী ট্রাক ইতিমধ্যে গাজায় পৌঁছেছে এবং ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে প্রতিবন্ধকতা এড়াতে জর্ডানের সঙ্গে যৌথভাবে আকাশ থেকেও গাজায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি গাজার ভেতরে বিভিন্ন ত্রাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রায় ৯০.৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব।

গাজায় বর্তমানে যখন শীতের প্রকোপ বাড়ছে এবং ইসরাইলি আগ্রাসনে প্রায় ৪ লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, ঠিক সেই সংকটময় সময়ে সৌদি আরবের এই বর্ধিত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা অর্থাৎ ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বর্তমানে তীব্র আশ্রয়ের সংকটে ভুগছেন। খোলা আকাশের নিচে তাঁবুতে বসবাস অথবা যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে এমন ধ্বংসস্তূপের ভেতরে থাকা এমনই এক অসম্ভব ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন গাজাবাসী। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের এই ধারাবাহিক মানবিক প্রচেষ্টা অসহায় মানুষের টিকে থাকার লড়াইয়ে বড় শক্তি যোগাচ্ছে।