ঢাকা ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস

ধ্বংসস্তূপে থাকা গাজাবাসীর জন্য এবার ড় আকারের ত্রাণবহর পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং সেখানকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সৌদি আরবের জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গাজা উপত্যকায় আকাশ, সমুদ্র এবং স্থলপথ—তিন মাধ্যমেই সহায়তা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাড়ানোর এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজকীয় আদালতের উপদেষ্টা এবং কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের (কেএসরিলিফ) সুপারভাইজার জেনারেল ড. আবদুল্লাহ আল-রাবিয়াহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই মহতী উদ্যোগ ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়ানোর সৌদি আরবের ঐতিহাসিক অঙ্গীকারেরই একটি প্রতিফলন এবং এর মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো যে ফিলিস্তিন সবসময়ই সৌদি নেতৃত্বের হৃদয়ে মিশে আছে।’

এখন পর্যন্ত কেএস রিলিফের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জন্য বড় পরিসরে আকাশ ও সমুদ্রপথে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের খবর পাওয়া গেছে। এই প্রক্রিয়ায় ৭৭টি বিমান এবং ৮টি জাহাজে করে ৭ হাজার ৬৯৯ টনেরও বেশি খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া ৯১২টি সৌদি ত্রাণবাহী ট্রাক ইতিমধ্যে গাজায় পৌঁছেছে এবং ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে প্রতিবন্ধকতা এড়াতে জর্ডানের সঙ্গে যৌথভাবে আকাশ থেকেও গাজায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি গাজার ভেতরে বিভিন্ন ত্রাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রায় ৯০.৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব।

গাজায় বর্তমানে যখন শীতের প্রকোপ বাড়ছে এবং ইসরাইলি আগ্রাসনে প্রায় ৪ লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, ঠিক সেই সংকটময় সময়ে সৌদি আরবের এই বর্ধিত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা অর্থাৎ ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বর্তমানে তীব্র আশ্রয়ের সংকটে ভুগছেন। খোলা আকাশের নিচে তাঁবুতে বসবাস অথবা যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে এমন ধ্বংসস্তূপের ভেতরে থাকা এমনই এক অসম্ভব ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন গাজাবাসী। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের এই ধারাবাহিক মানবিক প্রচেষ্টা অসহায় মানুষের টিকে থাকার লড়াইয়ে বড় শক্তি যোগাচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে মসজিদের বাক্সে ৯ লাখ টাকা

ধ্বংসস্তূপে থাকা গাজাবাসীর জন্য এবার ড় আকারের ত্রাণবহর পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

আপডেট সময় ০৫:৫৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং সেখানকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সৌদি আরবের জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গাজা উপত্যকায় আকাশ, সমুদ্র এবং স্থলপথ—তিন মাধ্যমেই সহায়তা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাড়ানোর এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজকীয় আদালতের উপদেষ্টা এবং কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের (কেএসরিলিফ) সুপারভাইজার জেনারেল ড. আবদুল্লাহ আল-রাবিয়াহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই মহতী উদ্যোগ ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়ানোর সৌদি আরবের ঐতিহাসিক অঙ্গীকারেরই একটি প্রতিফলন এবং এর মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো যে ফিলিস্তিন সবসময়ই সৌদি নেতৃত্বের হৃদয়ে মিশে আছে।’

এখন পর্যন্ত কেএস রিলিফের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জন্য বড় পরিসরে আকাশ ও সমুদ্রপথে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের খবর পাওয়া গেছে। এই প্রক্রিয়ায় ৭৭টি বিমান এবং ৮টি জাহাজে করে ৭ হাজার ৬৯৯ টনেরও বেশি খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া ৯১২টি সৌদি ত্রাণবাহী ট্রাক ইতিমধ্যে গাজায় পৌঁছেছে এবং ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে প্রতিবন্ধকতা এড়াতে জর্ডানের সঙ্গে যৌথভাবে আকাশ থেকেও গাজায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি গাজার ভেতরে বিভিন্ন ত্রাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রায় ৯০.৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব।

গাজায় বর্তমানে যখন শীতের প্রকোপ বাড়ছে এবং ইসরাইলি আগ্রাসনে প্রায় ৪ লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, ঠিক সেই সংকটময় সময়ে সৌদি আরবের এই বর্ধিত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা অর্থাৎ ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বর্তমানে তীব্র আশ্রয়ের সংকটে ভুগছেন। খোলা আকাশের নিচে তাঁবুতে বসবাস অথবা যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে এমন ধ্বংসস্তূপের ভেতরে থাকা এমনই এক অসম্ভব ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন গাজাবাসী। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের এই ধারাবাহিক মানবিক প্রচেষ্টা অসহায় মানুষের টিকে থাকার লড়াইয়ে বড় শক্তি যোগাচ্ছে।