আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে জঙ্গিরা যেন হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে সারপ্রাইজ করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে বলেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।
পুলিশপ্রধান বলেন, ‘জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ সফল হলেও আত্মতুষ্টিতে না ভুগে তাদের মাথাচাড়া দেওয়ার আগেই সবাইকে সচেতন হতে হবে। কোথাও কোথাও সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দেয়ার চেষ্টা করলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ জঙ্গিরা আমাদের ‘সারপ্রাইজ’ করতে পারে।’
সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট- এটিইউয়ের পঞ্চম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশপ্রধান এসব কথা বলেন।
ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, আমাদের দেশের মানুষ শান্তি প্রিয়। তারা রক্তপাত পছন্দ করে না। নির্মম হত্যাজজ্ঞকে পছন্দ করে না। আমাদের দেশে যে ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত সেটি সুফিসাধকদের দ্বারা প্রচারিত ও প্রসারিত। ফলে আমাদের দেশে ইসলামি যে মূল্যবোধ প্রভাবিত সেটি অত্যন্ত শান্তিবাদী। সেই কারণে বারবার জঙ্গিবাদ প্রিয় মাতৃভূমিকে ক্ষতবিক্ষত করার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি।’
আইজিপি বলেন, বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এটি ছিলো আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা, সংগতির অভিযাত্রা তার একটি বিশেষ মুহূর্তের বিশেষ প্রয়োজন। এ দেশ বারবার সন্ত্রাসবাদ কর্তৃক আক্রান্ত হয়েছে। বারবারই শান্তিপ্রিয় মানুষ তাদের প্রতিহত করেছে। আমরা বিষ্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেছি, এই সন্ত্রাসবাদ বাইরে থেকে এসে আছরে পড়েছে। আমাদের দেশের মানুষ শান্তি প্রিয় তারা রক্তপাত পছন্দ করে না, নির্মম হত্যাজজ্ঞকে পছন্দ করে না।’
পুলিশপ্রধান বলেন, ৬০ এর দশকের শেষ দিকে দেখেছি কমিউনিস্ট আন্দোলন। সেই সময়ে পশ্চিম বাংলায় নকশালবাদীদের মুভমেন্টের কারণে মার্কসবাদী কমিনিস্টরা অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। এবং স্বাধীনতার পরে এই মার্কসবাদী আন্দোলন বিলুপ্ত হয়। তালেবানরা যখন যুদ্ধ করছিলো, বাংলাদেশ থেকে অনেকে সেখানে যায়। তারা ফিরে এসে হুজি গঠন করে। কিছু নিরিহ মানুষকে হত্যা করার চেষ্টা করে। সেটাও প্রতিহত করা হয়।
এরপরে দেখি জেএমবি, বাংলা ভাই, আব্দুর রহমানদের আবির্ভাব ঘটে। তার পেছনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছিলো। যা খুবই দূর্ভাগ্যজনক। আমাদের দেশে এই সময়ে যে জঙ্গিবাদে উত্থান হয়, তার পেছনে অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছিলো। এ ধরনের ঘটনা আগে আমরা দেখিনি। এটিও সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থামাতে সক্ষম হয়। ২০১৬ সালে আল কায়েদা, আইএসে উদ্ভুদ্ধ হয়ে কিছু এদেশিয় সন্ত্রাসী আবার বাংলাদেশকে ক্ষতবিক্ষত করার চেষ্টা করে। সেটিও সাধারণ মানুষ ও সরকারের নেতৃত্বে পরাস্থ করা হয়।
এই যে জঙ্গিবাদের সঙ্গে লড়াই, এটি সহজ ছিলো না। লড়াইয়ের পেছনে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স পলিসি চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















