ঢাকা ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান নির্বাচনে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে: সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো : মামুনুল হক তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ ফজলুর রহমান গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

আমরা চাই সবাই নির্বাচনে আসুক: প্রধানমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সঙ্গে কে থাকবে, কে থাকবে না, নতুন জোট হবে, হোক। অসুবিধা নেই। আমরা চাই- সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। আর যদি কেউ না করে, এটা যার যার দলের সিদ্ধান্ত। সেজন্য তো আমরা আমাদের সংবিধান বন্ধ করে রাখতে পারি না। সংবিধানের ধারা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই- গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক।

বুধবার বিকালে গণভবনে ভারত সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ টানা ক্ষমতায় আছে বলেই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে। তাই হয়তো অনেকে ভুলে গেছেন, পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার পরে বারবার ক্যু হচ্ছিল। একটা মিলিটারি ডিক্টেটরের পরে আরেকটা মিলিটারি ডিক্টেটর বা তার স্ত্রী ক্ষমতা নিয়ে গেল ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে। তখন জনগণের কি ছিল? তাদের কি আদৌ কোনো অধিকার ছিল?

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী সরাসরি অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগ ১৪ দল নাকি মহাজোটগতভাবে করবে এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, এ বিষয়টা তো সময় আসলে বলতে পারব। আমরা ১৪ দল করেছি। আমরা জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করেছি।আগামী নির্বাচনে কে কোথায় থাকবে, সেটা তো সময়েই বলে দেবে। আর আওয়ামী লীগ উদারভাবে কাজ করে, আওয়ামী লীগের দরজা খোলা।

তিনি বলেন, আমরা সরকারে আসার পর সারা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু, গৃহহীনদের গৃহ তৈরি করে দেওয়া, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা, গবেষণার সুযোগ তৈরি করা; এভাবে অর্থনীতি থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও কর্মসংস্থান করেছি। আমাদের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় কথা একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে উন্নয়ন করে যাচ্ছি। এত কাজ করার পরে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- অবশ্যই জনগণ আওয়ামী লীগকেই ভোট দেবে। যদি এই চলমান উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রাখতে চান। না চাইলে তো কিছু করার নেই। সেটা জনগণের বিষয়। নির্বাচনে সব সময় যারা আমাদের সঙ্গে তারা আমাদের সঙ্গে থাকবে। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে পরিবর্তনের বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, যে কোনো নির্বাচনে নমিনেশন পরিবর্তন এটা তো খুবই স্বাভাবিক বিষয়। ক্ষেত্রমতো অবশ্যই আমরা যাচাই করে দেখব। কার জেতার সম্ভাবনা আছে, কার নেই। অথবা বেশকিছু নিবেদিতপ্রাণ কর্মী আছে। হয়তো বেশি দিন বাঁচবেন না, বয়স বেশি হয়ে গেছে। তাদের আর কষ্ট দিতে চাইনি, মনোনয়ন দিয়েছি। ফলে এগুলো নির্বাচনকে সামনে রেখে সবকিছু বিবেচনা করেই দেওয়া হয়। এখনো তো নির্বাচনের প্রায় এক বছরের বেশি সময় বাকি আছে, সময় যত যাবে এই বিষয়টা ততই পরিষ্কার হবে।

আওয়ামী লীগ সব সরকারের আমলে নির্যাতিত হয়েছে উল্লে­খ করে দলটির প্রধান বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর তো সবাই চড়াও হয়েছে। সেই জিয়াউর রহমান থেকে শুরু। তারপর থেকে একের পর এক। লাশ টানতে টানতে আর আহতদের চিকিৎসা করতে করতে আমাদের নাভিশ্বাস উঠেছিল। এখন কি সেই পরিবেশ আছে? তা তো নেই। এমনকি আমার পার্টির কেউ যদি কোনো অন্যায় করে আমরা কিন্তু ছেড়ে দেই না। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে কিছু বলব না; তা না। যে অন্যায় করবে তার বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নেব এবং নিচ্ছি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আমি কখনো সহ্য করব না।

বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা কি এত সহজ ছিল? যদি সুষ্ঠুভাবে, সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে না পারতাম, যদি অর্থনৈতিকভাবে অগ্রগতি না হতো, যদি গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত না হতো, তাহলে তো এই অর্জনটা সম্ভব হতো না। সমালোচনা যারা করবে, করুক না। করা তো ভালো। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা শুনব। সেখান থেকে যদি ভালো কিছু আসে গ্রহণ করব। মন্দ থাকলে পরিহার করব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

আমরা চাই সবাই নির্বাচনে আসুক: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সঙ্গে কে থাকবে, কে থাকবে না, নতুন জোট হবে, হোক। অসুবিধা নেই। আমরা চাই- সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। আর যদি কেউ না করে, এটা যার যার দলের সিদ্ধান্ত। সেজন্য তো আমরা আমাদের সংবিধান বন্ধ করে রাখতে পারি না। সংবিধানের ধারা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই- গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক।

বুধবার বিকালে গণভবনে ভারত সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ টানা ক্ষমতায় আছে বলেই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে। তাই হয়তো অনেকে ভুলে গেছেন, পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার পরে বারবার ক্যু হচ্ছিল। একটা মিলিটারি ডিক্টেটরের পরে আরেকটা মিলিটারি ডিক্টেটর বা তার স্ত্রী ক্ষমতা নিয়ে গেল ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে। তখন জনগণের কি ছিল? তাদের কি আদৌ কোনো অধিকার ছিল?

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী সরাসরি অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগ ১৪ দল নাকি মহাজোটগতভাবে করবে এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, এ বিষয়টা তো সময় আসলে বলতে পারব। আমরা ১৪ দল করেছি। আমরা জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করেছি।আগামী নির্বাচনে কে কোথায় থাকবে, সেটা তো সময়েই বলে দেবে। আর আওয়ামী লীগ উদারভাবে কাজ করে, আওয়ামী লীগের দরজা খোলা।

তিনি বলেন, আমরা সরকারে আসার পর সারা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু, গৃহহীনদের গৃহ তৈরি করে দেওয়া, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা, গবেষণার সুযোগ তৈরি করা; এভাবে অর্থনীতি থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও কর্মসংস্থান করেছি। আমাদের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় কথা একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে উন্নয়ন করে যাচ্ছি। এত কাজ করার পরে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- অবশ্যই জনগণ আওয়ামী লীগকেই ভোট দেবে। যদি এই চলমান উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রাখতে চান। না চাইলে তো কিছু করার নেই। সেটা জনগণের বিষয়। নির্বাচনে সব সময় যারা আমাদের সঙ্গে তারা আমাদের সঙ্গে থাকবে। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে পরিবর্তনের বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, যে কোনো নির্বাচনে নমিনেশন পরিবর্তন এটা তো খুবই স্বাভাবিক বিষয়। ক্ষেত্রমতো অবশ্যই আমরা যাচাই করে দেখব। কার জেতার সম্ভাবনা আছে, কার নেই। অথবা বেশকিছু নিবেদিতপ্রাণ কর্মী আছে। হয়তো বেশি দিন বাঁচবেন না, বয়স বেশি হয়ে গেছে। তাদের আর কষ্ট দিতে চাইনি, মনোনয়ন দিয়েছি। ফলে এগুলো নির্বাচনকে সামনে রেখে সবকিছু বিবেচনা করেই দেওয়া হয়। এখনো তো নির্বাচনের প্রায় এক বছরের বেশি সময় বাকি আছে, সময় যত যাবে এই বিষয়টা ততই পরিষ্কার হবে।

আওয়ামী লীগ সব সরকারের আমলে নির্যাতিত হয়েছে উল্লে­খ করে দলটির প্রধান বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর তো সবাই চড়াও হয়েছে। সেই জিয়াউর রহমান থেকে শুরু। তারপর থেকে একের পর এক। লাশ টানতে টানতে আর আহতদের চিকিৎসা করতে করতে আমাদের নাভিশ্বাস উঠেছিল। এখন কি সেই পরিবেশ আছে? তা তো নেই। এমনকি আমার পার্টির কেউ যদি কোনো অন্যায় করে আমরা কিন্তু ছেড়ে দেই না। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে কিছু বলব না; তা না। যে অন্যায় করবে তার বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নেব এবং নিচ্ছি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আমি কখনো সহ্য করব না।

বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা কি এত সহজ ছিল? যদি সুষ্ঠুভাবে, সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে না পারতাম, যদি অর্থনৈতিকভাবে অগ্রগতি না হতো, যদি গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত না হতো, তাহলে তো এই অর্জনটা সম্ভব হতো না। সমালোচনা যারা করবে, করুক না। করা তো ভালো। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা শুনব। সেখান থেকে যদি ভালো কিছু আসে গ্রহণ করব। মন্দ থাকলে পরিহার করব।