ঢাকা ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমান এখন শেখ হাসিনার পথে হাঁটছেন: সারজিস আলম ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেবে ইউজিসি রক্তমাখা পতাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ জুলাই যোদ্ধা শেখ আজিজুরের দুই মাসের মধ্যে রমেক হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা ২০টিতে উন্নীত করা হবে: আসাদুল হাবীব দুলু আ.লীগ যেভাবে হামলা করেছিল, একইভাবে বিএনপি করছে: নাহিদ ইসলাম পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে বরদাশত করা হবে না: মেয়র শাহাদাত বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা নিতে রাজি মিয়ানমার ধর্ম ও রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সকল মানুষের পাশে আছে সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী তৃণমূল থেকে ক্রীড়ার ভিত্তি শক্ত করাই মূল লক্ষ্য : শিক্ষামন্ত্রী ভোল পাল্টানো লোকজনই এখন অনেক বেশি জুলাই-যোদ্ধা হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল

খালি হাতে আসেন দেখি কত ক্ষমতা, আ.লীগকে মির্জা আব্বাস

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আমাদের খালি হাত, আপনারাও খালি হাতে আসেন। পুলিশ ছাড়া আসেন। দেখি কার কত ক্ষমতা। আর যদি বলেন লগি-বৈঠা, সেটাও সই। আমরা নিয়ে আসব।

রবিবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে একথা বলেন তিনি। নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল কর্মী শাওন ‘হত্যার’ প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করে কেন্দ্রীয় যুবদল।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদেরও বন্দুকের লাইসেন্স দিন, আমরাও বন্দুকের লাইসেন্স চাই। বন্দুক দিয়ে বন্দুক মোকাবিলা করব। আমরা জয়লাভ করব। তবে আমি যেটা বললাম, সেটা কথার কথা নয়। সমানে-সমানে লড়াই হবে।

তিনি বলেন, রাজপথ ছেড়ে দেওয়া যাবে না, রাজপথে আমরা থাকব। রাজপথ কারও নিজের সম্পত্তি না। রাজপথে আসুন, বাহাদুরের মতো আসুন।

সমাবেশে মির্জা আব্বাস প্রধান অতিথির বক্তব্য শুরু করলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। এসময় মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এখন আর স্লোগান দিও না।’ তখন নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ফাজলামি করো।’ এরপর নেতাকর্মীরা স্লোগান বন্ধ করলে আবারও বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন তিনি।

মির্জা আব্বাস বলেন, আমাকে এক ছোট ভাই বলেছে-বুক পেতে দিয়েছি, আরও গুলি করো। কিন্তু না, আমরা আর গুলি খাওয়ার জন্য বুক পেতে দেব না। আমাদেরকেও লাইসেন্স দিন।

তিনি বলেন, আমাদের কোনো কর্মসূচি সরকার পতনের জন্য ছিল না। জ্বালানি তেল, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এসব কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচিতে ভোলায় নূরে আলম, আব্দুর রহিম ও নারায়ণগঞ্জে শাওনকে গুলি করে মারা হলো। তার প্রতিবাদে সারা বাংলাদেশে এখন আগুন জ্বলছে। গতকাল সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় গুলি করে আমাদের বহু নেতাকর্মীকে আহত করেছে, অনেকের নামে মামলা করছে। এই সরকার খুন, হত্যা, হামলা করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তাদেরকে টিকে থাকতে হবে। তাদের কথা হচ্ছে, আমি অন্য কিছু বুঝি না। আমার হাতে একচ্ছত্র ক্ষমতা চাই। কারণ ক্ষমতায় থাকলে লুট করা যায়। ব্যাংক লুট করা যায়, মানুষের পকেট কাটা যায়। আর মানুষের ওপর অত্যাচার করা চায়।

তিনি আরও বলেন, তিনজনকে হত্যা করা হলো। এটা সরকার পতনের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এই সরকারের কিছু যায় আসে না। উল্টো তারা বলছে- পুলিশের গায়ে আঘাত করলে তারা কি ছেড়ে দেবে। যে অস্ত্র দিয়ে গুলি করেছে, সেটা তো একটা যুদ্ধাস্ত্র। এটা তো যুদ্ধে ব্যবহার হয়। চাইনিজ রাইফেল, এটা পুলিশ-ডিবির হাতে কেন? ব্রিটিশ সরকার অনেক শক্ত সরকার হলেও তারা পুলিশের হাতে একটা ব্যাট ছাড়া আর কিছুই দেয়নি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, যে সরকার ও পুলিশ আমার টাকায় চলে, তার কোনো ক্ষমতা নেই আমার গায়ে হাত দেওয়ার মন্তব্য করে আব্বাস বলেন, বিনা বিচারে কাউকে হত্যা করা যাবে না। সব হত্যার বিচার করা হবে। এই সরকারের পতন ঘটানো হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে নিহত শাওন প্রধানের ভাই ফরহাদ হোসেনও যোগ দেন। তিনি বলেন, শাওন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এসময় ফরহাদ নিজে স্লোগান ধরেন- শাওন হত্যার বিচার চাই। যুবদলের নেতাকর্মীরাও তার সঙ্গে স্লোগান ধরেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমান এখন শেখ হাসিনার পথে হাঁটছেন: সারজিস আলম

খালি হাতে আসেন দেখি কত ক্ষমতা, আ.লীগকে মির্জা আব্বাস

আপডেট সময় ১১:৪২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আমাদের খালি হাত, আপনারাও খালি হাতে আসেন। পুলিশ ছাড়া আসেন। দেখি কার কত ক্ষমতা। আর যদি বলেন লগি-বৈঠা, সেটাও সই। আমরা নিয়ে আসব।

রবিবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে একথা বলেন তিনি। নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল কর্মী শাওন ‘হত্যার’ প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করে কেন্দ্রীয় যুবদল।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদেরও বন্দুকের লাইসেন্স দিন, আমরাও বন্দুকের লাইসেন্স চাই। বন্দুক দিয়ে বন্দুক মোকাবিলা করব। আমরা জয়লাভ করব। তবে আমি যেটা বললাম, সেটা কথার কথা নয়। সমানে-সমানে লড়াই হবে।

তিনি বলেন, রাজপথ ছেড়ে দেওয়া যাবে না, রাজপথে আমরা থাকব। রাজপথ কারও নিজের সম্পত্তি না। রাজপথে আসুন, বাহাদুরের মতো আসুন।

সমাবেশে মির্জা আব্বাস প্রধান অতিথির বক্তব্য শুরু করলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। এসময় মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এখন আর স্লোগান দিও না।’ তখন নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ফাজলামি করো।’ এরপর নেতাকর্মীরা স্লোগান বন্ধ করলে আবারও বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন তিনি।

মির্জা আব্বাস বলেন, আমাকে এক ছোট ভাই বলেছে-বুক পেতে দিয়েছি, আরও গুলি করো। কিন্তু না, আমরা আর গুলি খাওয়ার জন্য বুক পেতে দেব না। আমাদেরকেও লাইসেন্স দিন।

তিনি বলেন, আমাদের কোনো কর্মসূচি সরকার পতনের জন্য ছিল না। জ্বালানি তেল, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এসব কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচিতে ভোলায় নূরে আলম, আব্দুর রহিম ও নারায়ণগঞ্জে শাওনকে গুলি করে মারা হলো। তার প্রতিবাদে সারা বাংলাদেশে এখন আগুন জ্বলছে। গতকাল সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় গুলি করে আমাদের বহু নেতাকর্মীকে আহত করেছে, অনেকের নামে মামলা করছে। এই সরকার খুন, হত্যা, হামলা করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তাদেরকে টিকে থাকতে হবে। তাদের কথা হচ্ছে, আমি অন্য কিছু বুঝি না। আমার হাতে একচ্ছত্র ক্ষমতা চাই। কারণ ক্ষমতায় থাকলে লুট করা যায়। ব্যাংক লুট করা যায়, মানুষের পকেট কাটা যায়। আর মানুষের ওপর অত্যাচার করা চায়।

তিনি আরও বলেন, তিনজনকে হত্যা করা হলো। এটা সরকার পতনের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এই সরকারের কিছু যায় আসে না। উল্টো তারা বলছে- পুলিশের গায়ে আঘাত করলে তারা কি ছেড়ে দেবে। যে অস্ত্র দিয়ে গুলি করেছে, সেটা তো একটা যুদ্ধাস্ত্র। এটা তো যুদ্ধে ব্যবহার হয়। চাইনিজ রাইফেল, এটা পুলিশ-ডিবির হাতে কেন? ব্রিটিশ সরকার অনেক শক্ত সরকার হলেও তারা পুলিশের হাতে একটা ব্যাট ছাড়া আর কিছুই দেয়নি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, যে সরকার ও পুলিশ আমার টাকায় চলে, তার কোনো ক্ষমতা নেই আমার গায়ে হাত দেওয়ার মন্তব্য করে আব্বাস বলেন, বিনা বিচারে কাউকে হত্যা করা যাবে না। সব হত্যার বিচার করা হবে। এই সরকারের পতন ঘটানো হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে নিহত শাওন প্রধানের ভাই ফরহাদ হোসেনও যোগ দেন। তিনি বলেন, শাওন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এসময় ফরহাদ নিজে স্লোগান ধরেন- শাওন হত্যার বিচার চাই। যুবদলের নেতাকর্মীরাও তার সঙ্গে স্লোগান ধরেন।