ঢাকা ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান নির্বাচনে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে: সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো : মামুনুল হক তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ ফজলুর রহমান গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

অবসরের ঘোষণা দিলেন ‘আইরিশ রূপকথার নায়ক’

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:   

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আইরিশ কিংবদন্তি কেভিন ও’ব্রায়েন। আজ মঙ্গলবার টুইটারে এক বিবৃতি প্রকাশ করে নিজের অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটকে আজকের অবস্থানে তুলে আনার পেছনে কেভিন ও’ব্রায়েনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ২০০৬ সালে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেকের পর ধীরে ধীরে নেতৃত্বে চলে আসেন তিনি। এরপর তার হাত ধরেই আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশ থেকে টেস্ট খেলুড়ে দেশে পরিণত হয় আয়ারল্যান্ড। আইরিশদের ওয়ানডে ইতিহাসের চতুর্থ ও টি-টোয়েন্টি দলের দ্বিতীয় অধিনায়ক তিনি।

দুই যুগের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ডের মালিক হয়েছেন ও’ব্রায়েন। ব্যাট হাতে যেমন দুর্দান্ত, তেমনই বল হাতেও ছিলেন সমানভাবে কার্যকর। এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে আইরিশদের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ৩২.৬৮ গড়ে ১১৪ উইকেট তার; ইকোনমি রেট ৫.২০।

ব্যাট হাতেও একাধিক রেকর্ড আছে ও’ব্রায়েনের। ওয়ানডে বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে তার ঝুলিতে। ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৫০ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। ১১৩ রানের ইনিংস খেলার পথে তিনি ১৩টি চার ছয়টি ছক্কা হাঁকান। তার অসাধারণ ওই ইনিংসে ভর করেই ৩২৮ রানের লক্ষ্য পাড়ি দিয়ে জয় তুলে নেয় আইরিশরা।

ও’ব্রায়েনকে বলা হয় ‘বড় মঞ্চের তারকা’। বিশেষ করে বিশ্বকাপেই দেখা যায় তার আসল রূপ। ২০০৭ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নাটকীয় এক জয় তুলে নেয় আয়ারল্যান্ড। ওই সময় এমন এক সময় উইকেট তুলে নেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। একই আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ট্রেন্ট জনসটনকে নিয়ে দারুণ জুটি গড়ে লক্ষ্য তাড়া করে জয় এনে দেন দলকে।

ও’ব্রায়েন ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। এর আগে ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭ বলে ৩৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

আয়ারল্যান্ডের আইসিসির পূর্ণ সদস্যের মর্যাদা অর্জনের পেছনেও ও’ব্রায়েনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে ২০১৭ সালে টেস্ট মর্যাদাও পায় আইরিশরা। ২০১৮ সালের মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাদের। ওই ম্যাচে দলের প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন ও’ব্রায়েন।

এরপর ফলোঅন করতে নামা দলকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি পাকিস্তানকে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নামতে বাধ্য করে তার ১১৮ রানের ইনিংস। আয়ারল্যান্ডের জার্সিতে এটাই প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। ম্যাচে ও’ব্রায়েন পাকিস্তানের অভিজ্ঞ বোলারদের বিপক্ষে সাবলীল ব্যাটিং করে গেছেন। পরে অবশ্য ম্যাচটি ৫ উইকেটে জিতে যায় পাকিস্তান। কিন্তু দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জোরে ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠে ও’ব্রায়েনের হাতেই।

৩৮ বছর বয়সী ও’ব্রায়েন অবসর নিচ্ছেন পল স্টার্লিংয়ের পর আয়ারল্যান্ডের জার্সিতে সব ফরম্যাট মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের (৫ হাজার ৮২০) মালিক হিসেবে। সেই সঙ্গে সব ফরম্যাট মিলিয়ে জর্জ ডকরেলের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটের (১৭২) মালিকও তিনি। এখন পর্যন্ত আইরিশদের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে একমাত্র সেঞ্চুরিয়ানও ও’ব্রায়েন। এত এত কীর্তি নিয়েই বিদায় বলে দিলেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

অবসরের ঘোষণা দিলেন ‘আইরিশ রূপকথার নায়ক’

আপডেট সময় ০৭:৫৯:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:   

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আইরিশ কিংবদন্তি কেভিন ও’ব্রায়েন। আজ মঙ্গলবার টুইটারে এক বিবৃতি প্রকাশ করে নিজের অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটকে আজকের অবস্থানে তুলে আনার পেছনে কেভিন ও’ব্রায়েনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ২০০৬ সালে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেকের পর ধীরে ধীরে নেতৃত্বে চলে আসেন তিনি। এরপর তার হাত ধরেই আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশ থেকে টেস্ট খেলুড়ে দেশে পরিণত হয় আয়ারল্যান্ড। আইরিশদের ওয়ানডে ইতিহাসের চতুর্থ ও টি-টোয়েন্টি দলের দ্বিতীয় অধিনায়ক তিনি।

দুই যুগের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ডের মালিক হয়েছেন ও’ব্রায়েন। ব্যাট হাতে যেমন দুর্দান্ত, তেমনই বল হাতেও ছিলেন সমানভাবে কার্যকর। এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে আইরিশদের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ৩২.৬৮ গড়ে ১১৪ উইকেট তার; ইকোনমি রেট ৫.২০।

ব্যাট হাতেও একাধিক রেকর্ড আছে ও’ব্রায়েনের। ওয়ানডে বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে তার ঝুলিতে। ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৫০ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। ১১৩ রানের ইনিংস খেলার পথে তিনি ১৩টি চার ছয়টি ছক্কা হাঁকান। তার অসাধারণ ওই ইনিংসে ভর করেই ৩২৮ রানের লক্ষ্য পাড়ি দিয়ে জয় তুলে নেয় আইরিশরা।

ও’ব্রায়েনকে বলা হয় ‘বড় মঞ্চের তারকা’। বিশেষ করে বিশ্বকাপেই দেখা যায় তার আসল রূপ। ২০০৭ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নাটকীয় এক জয় তুলে নেয় আয়ারল্যান্ড। ওই সময় এমন এক সময় উইকেট তুলে নেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। একই আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ট্রেন্ট জনসটনকে নিয়ে দারুণ জুটি গড়ে লক্ষ্য তাড়া করে জয় এনে দেন দলকে।

ও’ব্রায়েন ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। এর আগে ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭ বলে ৩৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

আয়ারল্যান্ডের আইসিসির পূর্ণ সদস্যের মর্যাদা অর্জনের পেছনেও ও’ব্রায়েনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে ২০১৭ সালে টেস্ট মর্যাদাও পায় আইরিশরা। ২০১৮ সালের মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাদের। ওই ম্যাচে দলের প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন ও’ব্রায়েন।

এরপর ফলোঅন করতে নামা দলকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি পাকিস্তানকে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নামতে বাধ্য করে তার ১১৮ রানের ইনিংস। আয়ারল্যান্ডের জার্সিতে এটাই প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। ম্যাচে ও’ব্রায়েন পাকিস্তানের অভিজ্ঞ বোলারদের বিপক্ষে সাবলীল ব্যাটিং করে গেছেন। পরে অবশ্য ম্যাচটি ৫ উইকেটে জিতে যায় পাকিস্তান। কিন্তু দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জোরে ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠে ও’ব্রায়েনের হাতেই।

৩৮ বছর বয়সী ও’ব্রায়েন অবসর নিচ্ছেন পল স্টার্লিংয়ের পর আয়ারল্যান্ডের জার্সিতে সব ফরম্যাট মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের (৫ হাজার ৮২০) মালিক হিসেবে। সেই সঙ্গে সব ফরম্যাট মিলিয়ে জর্জ ডকরেলের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটের (১৭২) মালিকও তিনি। এখন পর্যন্ত আইরিশদের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে একমাত্র সেঞ্চুরিয়ানও ও’ব্রায়েন। এত এত কীর্তি নিয়েই বিদায় বলে দিলেন তিনি।