অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ ছোট্ট ধনী দেশ কুয়েত। অনেক দিন হলো এ দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ভিসা বন্ধ আছে। তবুও যে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আসছেন না তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই ‘শরিকাহ’ ও ‘বলাদিয়া’ ভিসায় এ দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকেরা আসছেন। শরিকাহ ভিসায় আগত শ্রমিকেরা বিভিন্ন অফিসে ক্লিনারের কাজ করেন। আর বলাদিয়া ভিসায় আগত শ্রমিকদের কাজ হচ্ছে রাস্তা বা মহাসড়কে কোনো আবর্জনা পড়ে থাকলে তা পরিষ্কার করা। বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকেরা আসছেন একবুক আশা নিয়ে। জীবনের শেষ সম্বল ভিটেমাটি, গরু-ছাগল ইত্যাদি বিক্রি অথবা ধারকর্জ করে জীবনের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে।
বর্তমানে শরিকাহ ও বলাদিয়া ভিসায় কুয়েতে আসতে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়। অনেকে সাত-আট লাখ টাকা খরচ করে এসেছেন। না জেনে, না বুঝে গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলো দেশীয় দালালদের দেওয়া মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাস করে জীবনের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে শ্রমিক হিসেবে এ দেশে আসছেন। বর্ণিত দুই ভিসায় কাজ নিয়ে যারা আসছেন, কুয়েতি মুদ্রায় তাদের বেতন ৬০ দিনার (নির্ধারিত)। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ হাজার টাকা। গাদাগাদি করে রাতে ঘুমানোর জন্য কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় ছোট্ট একটি রুম মিললেও খাওয়া দাওয়াসহ অন্যান্য সব খরচ নিজের। দুবেলা দুমুঠো খাবার ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দেওয়ার পর একজন প্রতি মাসে সাত হাজার টাকার বেশি কোনোক্রমেই দেশে তাঁর পরিবারের কাছে পাঠাতে পারেন না।
প্রাথমিক অবস্থায় একজন শ্রমিক এন্ট্রি ভিসায় এ দেশে আসার পর এক বছরের জন্য তাঁর ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রতি মাসে ৬০ দিনার করে বেতন হলে এক বছরে একজন বেতন পান (৬০ X ১২) ৭২০ কুয়েতি দিনার। এক বছর মেয়াদি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পুনরায় পরবর্তী বছরের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কমপক্ষে ২০০ দিনার খরচ করতে হয়। তা না হলে কোম্পানি ওই শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠিয়ে নতুন আরেকজন শ্রমিককে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাবে। এটা মুখ বুঁজে দুঃখের নির্যাতন সহ্য করা। এক বছরের মোট বেতন ৭২০ দিনার হলে, ভিসা বাড়ানোর জন্য ২০০ দিনার দেওয়ার পর ৫২০ দিনার একজনের কাছে অবশিষ্ট থাকে। খাবার ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি মাসে ২০ দিনার করে খরচ হলেও বছরে ২৪০ দিনার খরচ হয়। এ অবস্থায় সকল ব্যয় বাদ দেওয়ার পর একজনের বাৎসরিক রোজগার দাঁড়ায় ২৮০ কুয়েতি দিনার (৫২০-২৪০=২৮০), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৪ হাজার টাকা বা মাসিক ৬১০০ টাকা।
দেশীয় দালালেরা ওভারটাইমের কথা বললেও এ দেশে ওভারটাইম একেবারেই নিষিদ্ধ। পুলিশের হাতে ধরা পড়লে নিশ্চিত দেশে পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু অন্যান্য ভিসায় কাজ নিয়ে যারা এ দেশে এসেছেন, তারা অনেকটা ভালো আছেন। বিশেষ করে ড্রাইভার বা উজারার (মন্ত্রণালয়) মাধ্যমে যারা আগে এসেছেন তাদের বেতন মোটামুটি ভালো।
বলাদিয়া বা শরিকাহ ভিসায় যারা একবার এ দেশে এসেছেন তাদের ভাগ্য বা সুদিন ফেরা একেবারেই অনিশ্চিত। সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগে যখন দেখি ৪৫-৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রার উত্তপ্ত মরুভূমির রাস্তার মোড়ে বা ট্রাফিক সিগন্যালে বস্তা হাতে বাংলাদেশি ভাইয়েরা চলমান গাড়ির দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। গাড়ি নিয়ে ছুটে চলা কোনো কুয়েতির যদি এতটুকু দয়া হয়, যদি দু-এক দিনার গাড়ির কাচ নামিয়ে ছুড়ে দেন!
বর্ণিত দুই ভিসায় কুয়েতে আগত বাংলাদেশি শ্রমিকদের দুঃখ-বেদনা লিখে বোঝানো সম্ভব নয়। তাই এই লেখার মাধ্যমে যারা কুয়েতে শ্রমিক হিসেবে আসতে চান তাদের কাছে অনুরোধ করব, দালালদের মিথ্যা আশ্বাসে পাগল হবেন না। দালালেরা অনেক কিছুরই লোভ দেখাবে, যেগুলো প্রায় সবই মিথ্যা। আসার আগে অন্তত নিশ্চিত হোন, সেখানে আপনার কাজটা কি, বেতন কত। আগেও বলেছি, আবারও বলছি, যে ভিসাতেই কুয়েতে আসুন না কেন, বেতন কিন্তু নির্ধারিত ৬০ দিনার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬ হাজার টাকা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























