আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
তৃণমূল মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতিই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। কাজেই আমরা যারা দায়িত্বে আছি সবার দায়িত্ব, সবারই কর্তব্য হচ্ছে জনগণের জীবন মান উন্নত করা। সবাই সেই কর্তব্য পালন করবেন। আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। এই দেশকে আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, উন্নত সমৃদ্ধ করতে চাই।’
শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন এবং বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক-২০২২ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী ।
জনগণের প্রতি সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জনগণের অর্জিত অর্থ দিয়েই সবার বেতন-ভাতা হয়। কাজেই তাদের স্বার্থে, তাদের কল্যাণে কাজ করতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭২ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে সরকারি কর্মচারী, মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের সমাবেশে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ‘সরকারি কর্মচারী ভাইয়েরা আপনাদের জনগণের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থকে সব কিছুর উর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। এখন থেকে অতীতের আমলাতান্ত্রিক মনোভাব পরিবর্তন করে নিজেদের জনগণের খাদেম বলে বিবেচনা করতে হবে। ’ অর্থাৎ জনগণের সেবক, জনগণের খাদেম, জনগণের জন্য কাজ করা, জনগণের স্বার্থে কাজ করা, জনস্বার্থে দায়িত্বপালন করা। সেটাই আপনারা করবেন।’
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘জাতির পিতা নিজেকে জনগণের সেবক হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। আমাদের দুর্ভাগ্য ৭৫-এর পর সবকিছু পরিবর্তন হয়ে যায়। যারাই ক্ষমতায় গিয়েছে ভোগ বিলাসে আত্মনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ শোষিত-বঞ্চিতই থেকে গেছে। ২১ বছর পর সরকার গঠন করার সুযোগ পাই। আমার বাবার মতো আমিও ঘোষণা দিয়েছিলাম যে আমরা জনগণের সেবক।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের সেবা করাটাই আমাদের কাজ। ক্ষমতা ভোগের বস্তু নয়। কতটুকু দেশের জন্য করতে পারলাম, কতটুকু দেশের মানুষকে দিতে পারলাম সেটাই বিবেচ্য বিষয়। এভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। ’
জনমুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে কাজ করেছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে নতুন ভাবে ঢেলে সাজিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই। যেন প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেকটা কর্মচারী, যেটা সংবিধানে সুনির্দিষ্ট আছে- তারা যেখানে দায়িত্বে থাকবে সেই দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালন করে। চেষ্টা করেছি যে আমাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থাটা এমন ভাবে গড়ে উঠুক, যেটা গণমুখী হবে। জনগণের সেবক হবে, জনগণের জন্য কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা রাষ্ট্রকে উন্নত করতে হলে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করতে হবে। একটা দিক নির্দেশনা থাকতে হবে, দিক দর্শন থাকতে হয়। তার জন্য একটা কর্মপন্থা প্রণয়ন, সেটা আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা এটাই লক্ষ্য। তৃণমূলের যে মানুষগুলো তাদের আর্ত-সামাজিক উন্নতিই হচ্ছে আমাদের মূল লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই কিন্তু আমাদের সরকার কাজ করে।’
সরকারি কর্মচারীদের উদ্ভাবনী ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজে উৎসাহ দিতে ২০১৬ সাল থেকে দেশে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস পালন করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো এবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে দেওয়া হলো ‘বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক’। এত দিন এ পদকের নাম ছিল শুধু জনপ্রশাসন পদক। এ বছর বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক পেয়েছে সরকারের বিভিন্ন দফতরের ২৭ জন কর্মকর্তা, তিনটি মন্ত্রণালয় এবং একটি ইউনিট।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মনোনীতদের হাতে পদক তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















