ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ছুটির দিনে আরও ক্লান্ত?

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ছুটির দিনগুলোতে আমরা চাঙা হতে চাই। শুক্র-শনি বাদে কখনো হঠাৎ আরও নানা ছুটি মিলে গেলে আমরা ভাবি, আহ্! এবার বিশ্রাম নেব। চুটিয়ে ঘুমাব। তারপর একেবারে তরতাজা হয়ে আবার কাজে নেমে পড়ব। সব ক্লান্তি ধুয়ে–মুছে যাবে। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, ছুটির দিনে আমরা যেন আরও ক্লান্ত হয়ে পড়ি। শরীর আরও নিস্তেজ লাগে। চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসতে চায় বারবার। এর কারণটা কী?

সম্প্রতি গবেষকেরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে কিছু বিষয়ে একমত হয়েছেন।

এক. ছুটির দিনে আমাদের দৈনন্দিন রুটিন বদলে যায়। যেমন পরদিন স্কুল বা অফিস নেই বলে আগের রাতে আমরা বেশি সময় জেগে থাকি, বাইরে খেতে যাই বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডা দিই। কখনো রাত জেগে টিভি বা সিনেমা দেখি। বায়োলজিক্যাল ঘড়ির ব্যত্যয় ঘটে। পরদিন বেশ বেলা অবধি ঘুমালেও তাই নির্ঘুমের রেশ কাটে না। সারাটা দিন ঘুম ঘুম আসে। ঘুম অনেকটা খাদ্যাভ্যাসের মতোই—এমনই মত ঘুমবিশারদদের। খাবারের সময়সূচিতে আকস্মিক পরিবর্তনে যেমন শরীর খারাপ লাগে, ঘুমের বেলায়ও তাই। সে কারণে চেষ্টা করবেন ছুটির দিনেও রুটিনের বড় ধরনের ব্যত্যয় না করতে। সকালে না হয় অন্যদিনের তুলনায় এক ঘণ্টা বেশি ঘুমালেন, তার বেশি নয়।

দুই. আমরা সব কাজ ছুটির দিনের জন্য জমা করে রাখি। চাকরিজীবীদের জীবনে সপ্তাহের শেষে ছুটির দিনটা যেন আরও ব্যতিব্যস্ততায় পূর্ণ। চেষ্টা করুন সপ্তাহজুড়েই সংসার ও ব্যক্তিগত কাজ একটু একটু এগিয়ে রাখতে। ছুটির দিনটাতে কাজ করলেও রিলাক্স থাকার চেষ্টা করুন।

তিন. দেখা যায় ছুটির আগের দিন বা ছুটির দিনে খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন হয়। ভালোমন্দ রান্না হয়, বাইরে খাওয়া হয়। কখনো নিমন্ত্রণ থাকে। উদর পূর্তি করে তেল–চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে পাকস্থলী আপসেট হয়। তাই খারাপ লাগে। এ সমস্যা এড়াতে এক বেলা নিমন্ত্রণ বা বাইরে খাবারের কথা থাকলে অন্য বেলা হালকা খাবার রাখুন। খাবারের পরিমাণ বেশি করবেন না। আর বেশি দেরি করে খাবেন না।

চার. নিত্যদিনের ব্যায়ামও অনেক সময় বাদ হয়ে যায় ছুটির দিনে। ছুটির দিনটাতে ব্যায়ামে একটু বৈচিত্র্য আনতে পারেন। যেমন এদিন সময় থাকায় হয়তো সাঁতার কাটতে গেলেন বা যোগব্যায়াম করলেন। অথবা বাগানে কাজ করে ক্যালরি ক্ষয় করলেন।

পাঁচ. ছুটির দিনেই আমরা সুযোগ পাই দুপুরে বা বিকেলে আরেকবার বিছানায় গড়িয়ে নেওয়ার। এই বাড়তি ঘুমের কারণে আবার রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। পরবর্তী দিনে এর মন্দ প্রভাব পড়ে। তাই অভ্যাস না থাকলে বিকেলে ঘুমাবেন না। আর ঘুমালেও আধা ঘণ্টার বেশি নয়।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল, মিরপুর, ঢাকা

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছুটির দিনে আরও ক্লান্ত?

আপডেট সময় ০১:০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ছুটির দিনগুলোতে আমরা চাঙা হতে চাই। শুক্র-শনি বাদে কখনো হঠাৎ আরও নানা ছুটি মিলে গেলে আমরা ভাবি, আহ্! এবার বিশ্রাম নেব। চুটিয়ে ঘুমাব। তারপর একেবারে তরতাজা হয়ে আবার কাজে নেমে পড়ব। সব ক্লান্তি ধুয়ে–মুছে যাবে। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, ছুটির দিনে আমরা যেন আরও ক্লান্ত হয়ে পড়ি। শরীর আরও নিস্তেজ লাগে। চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসতে চায় বারবার। এর কারণটা কী?

সম্প্রতি গবেষকেরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে কিছু বিষয়ে একমত হয়েছেন।

এক. ছুটির দিনে আমাদের দৈনন্দিন রুটিন বদলে যায়। যেমন পরদিন স্কুল বা অফিস নেই বলে আগের রাতে আমরা বেশি সময় জেগে থাকি, বাইরে খেতে যাই বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডা দিই। কখনো রাত জেগে টিভি বা সিনেমা দেখি। বায়োলজিক্যাল ঘড়ির ব্যত্যয় ঘটে। পরদিন বেশ বেলা অবধি ঘুমালেও তাই নির্ঘুমের রেশ কাটে না। সারাটা দিন ঘুম ঘুম আসে। ঘুম অনেকটা খাদ্যাভ্যাসের মতোই—এমনই মত ঘুমবিশারদদের। খাবারের সময়সূচিতে আকস্মিক পরিবর্তনে যেমন শরীর খারাপ লাগে, ঘুমের বেলায়ও তাই। সে কারণে চেষ্টা করবেন ছুটির দিনেও রুটিনের বড় ধরনের ব্যত্যয় না করতে। সকালে না হয় অন্যদিনের তুলনায় এক ঘণ্টা বেশি ঘুমালেন, তার বেশি নয়।

দুই. আমরা সব কাজ ছুটির দিনের জন্য জমা করে রাখি। চাকরিজীবীদের জীবনে সপ্তাহের শেষে ছুটির দিনটা যেন আরও ব্যতিব্যস্ততায় পূর্ণ। চেষ্টা করুন সপ্তাহজুড়েই সংসার ও ব্যক্তিগত কাজ একটু একটু এগিয়ে রাখতে। ছুটির দিনটাতে কাজ করলেও রিলাক্স থাকার চেষ্টা করুন।

তিন. দেখা যায় ছুটির আগের দিন বা ছুটির দিনে খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন হয়। ভালোমন্দ রান্না হয়, বাইরে খাওয়া হয়। কখনো নিমন্ত্রণ থাকে। উদর পূর্তি করে তেল–চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে পাকস্থলী আপসেট হয়। তাই খারাপ লাগে। এ সমস্যা এড়াতে এক বেলা নিমন্ত্রণ বা বাইরে খাবারের কথা থাকলে অন্য বেলা হালকা খাবার রাখুন। খাবারের পরিমাণ বেশি করবেন না। আর বেশি দেরি করে খাবেন না।

চার. নিত্যদিনের ব্যায়ামও অনেক সময় বাদ হয়ে যায় ছুটির দিনে। ছুটির দিনটাতে ব্যায়ামে একটু বৈচিত্র্য আনতে পারেন। যেমন এদিন সময় থাকায় হয়তো সাঁতার কাটতে গেলেন বা যোগব্যায়াম করলেন। অথবা বাগানে কাজ করে ক্যালরি ক্ষয় করলেন।

পাঁচ. ছুটির দিনেই আমরা সুযোগ পাই দুপুরে বা বিকেলে আরেকবার বিছানায় গড়িয়ে নেওয়ার। এই বাড়তি ঘুমের কারণে আবার রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। পরবর্তী দিনে এর মন্দ প্রভাব পড়ে। তাই অভ্যাস না থাকলে বিকেলে ঘুমাবেন না। আর ঘুমালেও আধা ঘণ্টার বেশি নয়।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল, মিরপুর, ঢাকা