ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস

ছুটির দিনে আরও ক্লান্ত?

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ছুটির দিনগুলোতে আমরা চাঙা হতে চাই। শুক্র-শনি বাদে কখনো হঠাৎ আরও নানা ছুটি মিলে গেলে আমরা ভাবি, আহ্! এবার বিশ্রাম নেব। চুটিয়ে ঘুমাব। তারপর একেবারে তরতাজা হয়ে আবার কাজে নেমে পড়ব। সব ক্লান্তি ধুয়ে–মুছে যাবে। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, ছুটির দিনে আমরা যেন আরও ক্লান্ত হয়ে পড়ি। শরীর আরও নিস্তেজ লাগে। চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসতে চায় বারবার। এর কারণটা কী?

সম্প্রতি গবেষকেরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে কিছু বিষয়ে একমত হয়েছেন।

এক. ছুটির দিনে আমাদের দৈনন্দিন রুটিন বদলে যায়। যেমন পরদিন স্কুল বা অফিস নেই বলে আগের রাতে আমরা বেশি সময় জেগে থাকি, বাইরে খেতে যাই বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডা দিই। কখনো রাত জেগে টিভি বা সিনেমা দেখি। বায়োলজিক্যাল ঘড়ির ব্যত্যয় ঘটে। পরদিন বেশ বেলা অবধি ঘুমালেও তাই নির্ঘুমের রেশ কাটে না। সারাটা দিন ঘুম ঘুম আসে। ঘুম অনেকটা খাদ্যাভ্যাসের মতোই—এমনই মত ঘুমবিশারদদের। খাবারের সময়সূচিতে আকস্মিক পরিবর্তনে যেমন শরীর খারাপ লাগে, ঘুমের বেলায়ও তাই। সে কারণে চেষ্টা করবেন ছুটির দিনেও রুটিনের বড় ধরনের ব্যত্যয় না করতে। সকালে না হয় অন্যদিনের তুলনায় এক ঘণ্টা বেশি ঘুমালেন, তার বেশি নয়।

দুই. আমরা সব কাজ ছুটির দিনের জন্য জমা করে রাখি। চাকরিজীবীদের জীবনে সপ্তাহের শেষে ছুটির দিনটা যেন আরও ব্যতিব্যস্ততায় পূর্ণ। চেষ্টা করুন সপ্তাহজুড়েই সংসার ও ব্যক্তিগত কাজ একটু একটু এগিয়ে রাখতে। ছুটির দিনটাতে কাজ করলেও রিলাক্স থাকার চেষ্টা করুন।

তিন. দেখা যায় ছুটির আগের দিন বা ছুটির দিনে খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন হয়। ভালোমন্দ রান্না হয়, বাইরে খাওয়া হয়। কখনো নিমন্ত্রণ থাকে। উদর পূর্তি করে তেল–চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে পাকস্থলী আপসেট হয়। তাই খারাপ লাগে। এ সমস্যা এড়াতে এক বেলা নিমন্ত্রণ বা বাইরে খাবারের কথা থাকলে অন্য বেলা হালকা খাবার রাখুন। খাবারের পরিমাণ বেশি করবেন না। আর বেশি দেরি করে খাবেন না।

চার. নিত্যদিনের ব্যায়ামও অনেক সময় বাদ হয়ে যায় ছুটির দিনে। ছুটির দিনটাতে ব্যায়ামে একটু বৈচিত্র্য আনতে পারেন। যেমন এদিন সময় থাকায় হয়তো সাঁতার কাটতে গেলেন বা যোগব্যায়াম করলেন। অথবা বাগানে কাজ করে ক্যালরি ক্ষয় করলেন।

পাঁচ. ছুটির দিনেই আমরা সুযোগ পাই দুপুরে বা বিকেলে আরেকবার বিছানায় গড়িয়ে নেওয়ার। এই বাড়তি ঘুমের কারণে আবার রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। পরবর্তী দিনে এর মন্দ প্রভাব পড়ে। তাই অভ্যাস না থাকলে বিকেলে ঘুমাবেন না। আর ঘুমালেও আধা ঘণ্টার বেশি নয়।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল, মিরপুর, ঢাকা

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে মসজিদের বাক্সে ৯ লাখ টাকা

ছুটির দিনে আরও ক্লান্ত?

আপডেট সময় ০১:০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ছুটির দিনগুলোতে আমরা চাঙা হতে চাই। শুক্র-শনি বাদে কখনো হঠাৎ আরও নানা ছুটি মিলে গেলে আমরা ভাবি, আহ্! এবার বিশ্রাম নেব। চুটিয়ে ঘুমাব। তারপর একেবারে তরতাজা হয়ে আবার কাজে নেমে পড়ব। সব ক্লান্তি ধুয়ে–মুছে যাবে। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, ছুটির দিনে আমরা যেন আরও ক্লান্ত হয়ে পড়ি। শরীর আরও নিস্তেজ লাগে। চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসতে চায় বারবার। এর কারণটা কী?

সম্প্রতি গবেষকেরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে কিছু বিষয়ে একমত হয়েছেন।

এক. ছুটির দিনে আমাদের দৈনন্দিন রুটিন বদলে যায়। যেমন পরদিন স্কুল বা অফিস নেই বলে আগের রাতে আমরা বেশি সময় জেগে থাকি, বাইরে খেতে যাই বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডা দিই। কখনো রাত জেগে টিভি বা সিনেমা দেখি। বায়োলজিক্যাল ঘড়ির ব্যত্যয় ঘটে। পরদিন বেশ বেলা অবধি ঘুমালেও তাই নির্ঘুমের রেশ কাটে না। সারাটা দিন ঘুম ঘুম আসে। ঘুম অনেকটা খাদ্যাভ্যাসের মতোই—এমনই মত ঘুমবিশারদদের। খাবারের সময়সূচিতে আকস্মিক পরিবর্তনে যেমন শরীর খারাপ লাগে, ঘুমের বেলায়ও তাই। সে কারণে চেষ্টা করবেন ছুটির দিনেও রুটিনের বড় ধরনের ব্যত্যয় না করতে। সকালে না হয় অন্যদিনের তুলনায় এক ঘণ্টা বেশি ঘুমালেন, তার বেশি নয়।

দুই. আমরা সব কাজ ছুটির দিনের জন্য জমা করে রাখি। চাকরিজীবীদের জীবনে সপ্তাহের শেষে ছুটির দিনটা যেন আরও ব্যতিব্যস্ততায় পূর্ণ। চেষ্টা করুন সপ্তাহজুড়েই সংসার ও ব্যক্তিগত কাজ একটু একটু এগিয়ে রাখতে। ছুটির দিনটাতে কাজ করলেও রিলাক্স থাকার চেষ্টা করুন।

তিন. দেখা যায় ছুটির আগের দিন বা ছুটির দিনে খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন হয়। ভালোমন্দ রান্না হয়, বাইরে খাওয়া হয়। কখনো নিমন্ত্রণ থাকে। উদর পূর্তি করে তেল–চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে পাকস্থলী আপসেট হয়। তাই খারাপ লাগে। এ সমস্যা এড়াতে এক বেলা নিমন্ত্রণ বা বাইরে খাবারের কথা থাকলে অন্য বেলা হালকা খাবার রাখুন। খাবারের পরিমাণ বেশি করবেন না। আর বেশি দেরি করে খাবেন না।

চার. নিত্যদিনের ব্যায়ামও অনেক সময় বাদ হয়ে যায় ছুটির দিনে। ছুটির দিনটাতে ব্যায়ামে একটু বৈচিত্র্য আনতে পারেন। যেমন এদিন সময় থাকায় হয়তো সাঁতার কাটতে গেলেন বা যোগব্যায়াম করলেন। অথবা বাগানে কাজ করে ক্যালরি ক্ষয় করলেন।

পাঁচ. ছুটির দিনেই আমরা সুযোগ পাই দুপুরে বা বিকেলে আরেকবার বিছানায় গড়িয়ে নেওয়ার। এই বাড়তি ঘুমের কারণে আবার রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। পরবর্তী দিনে এর মন্দ প্রভাব পড়ে। তাই অভ্যাস না থাকলে বিকেলে ঘুমাবেন না। আর ঘুমালেও আধা ঘণ্টার বেশি নয়।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল, মিরপুর, ঢাকা