ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে কি একদলীয় শাসন কায়েম করবে বিএনপি, প্রশ্ন এটিএম আজহারের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্কের অভিযোগে মাগুরায় কৃষকদল নেতা গ্রেপ্তার পরীক্ষায় নকল নিয়ে অপপ্রচার চালালে গ্রেফতার করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী সৌদি আরবে আরামকো’র হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সব আরোহীর মৃত্যু ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় ফ্রান্সে ১১ জনের মৃত্যু বাংলাদেশকে ১৪০ রানে অলআউট করল জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে আগ্রহী সুইজারল্যান্ড কোরীয় উপদ্বীপে ফের উত্তেজনা, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সামরিক শক্তি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৯ জুলাই আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ জানাজা ও দাফন, অংশ নিতে পারেন দুই কোটি মানুষ

তৃতীয় স্ত্রীর সহায়তায় চতুর্থ স্ত্রীকে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানা এলাকায় অজ্ঞাতনামা নারীকে হত্যার এক বছরেরও বেশি সময় পর দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন সোহাইল আহাম্মেদ (৪০) ও তার স্ত্রী নাহিদা আক্তার (২২)।

এছাড়া খুন হওয়া ওই নারীর পরিচয়ও উদঘাটন করা হয়েছে। তিনি হলেন পতেঙ্গা থানার ডুরিয়া পাড়ার মোহাম্মদ হোসেনের মেয়ে লাকী আক্তার পিংকি ওরফে আফসানা (২৫)।

সোমবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পশ্চিম জোনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পুলিশের উপকমিশনার আবদুল ওয়ারিশ।

পুলিশ জানায়, গত বছরের ৭ জুলাই হালিশহর থানার রহমানবাগ আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে অজ্ঞাতানামা এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। গলায় লাল রঙের পায়জামা দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় লাশটি রান্নাঘরে পড়েছিল। এ ঘটনায় বাসার কেয়ারটেকার মো. নূর নবী একটি হত্যা মামলা করেন। বাসাটি ভাড়া নেওয়া ব্যক্তি নিজেকে রেজাউল করিম নামে পরিচয় দিয়ে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের অষ্পষ্ট ফটোকপি বাড়ির কেয়ারটেকারের কাছে জমা দিয়েছিল। পরে তদন্তে তার আসল নাম সোহাইল মোহাম্মদ বলে জানতে পারে পুলিশ। একইসঙ্গে সোহাইল আহমেদের ছবিও সংগ্রহ করা গেছে।

পরিচয় নিশ্চিতের পর সোহাইল বারবার অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। সোমবার দুপুরে তাকে বাগেরহাট জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্য মতে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদা আক্তারকে পতেঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে নাহিদা সহযোগীর ভূমিকা পালন করে।

পুলিশের উপকমিশনার জানান, গ্রেপ্তার সোহাইল আহমেদ মোট চারটি বিয়ে করেন। তারা হলেন পারভিন, নাসিমা, নাহিদা আক্তার ও লাকী আক্তার পিংকি ওরফে আফসানা। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সোহাইলের তৃতীয় স্ত্রী নাহিদা আক্তারের সম্পৃক্ততা মিলেছে। সোহাইল ও আফসানা একই গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। চাকরির সুবাদে আসামি সোহাইলের সঙ্গে আফসানার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে তারা বিয়ে করে হালিশহরের ভাড়া বাসায় উঠে। একপর্যায়ে আফসানা সোহাইলের আগের বিয়ের কথা জানতে পারলে কলহ শুরু হয়। ২০২০ সালের ২১ জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটান সোহাইল।

ঘটনার দিন রাতে সোহাইল আফসানাকে ব্যাপক মারধর করেন। তার আগে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সোহাইল তার তৃতীয় স্ত্রী নাহিদাকে পতেঙ্গার বাসা থেকে ডেকে আনেন। এ ঘটনার সঙ্গে নাহিদাও হাত মেলান। ওই দিন রাতে ব্যাপক মারধরের একপর্যায়ে আফসানা অজ্ঞান হয়ে যান। আফসানার মৃত্যু নিশ্চিত করতে সোহাইল আফসানার পরনের পায়জামা গলায় পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন। মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে তার লাশ রান্নাঘরে বিছানার চাদরে মুড়িয়ে রেখে বাগেরহাট পালিয়ে যান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মঙ্গলে ম্যারাথন শেষ করল নাসার রোভার, মহাকাশ থেকে ধরা পড়ল ছবি

তৃতীয় স্ত্রীর সহায়তায় চতুর্থ স্ত্রীকে হত্যা

আপডেট সময় ০৭:০৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানা এলাকায় অজ্ঞাতনামা নারীকে হত্যার এক বছরেরও বেশি সময় পর দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন সোহাইল আহাম্মেদ (৪০) ও তার স্ত্রী নাহিদা আক্তার (২২)।

এছাড়া খুন হওয়া ওই নারীর পরিচয়ও উদঘাটন করা হয়েছে। তিনি হলেন পতেঙ্গা থানার ডুরিয়া পাড়ার মোহাম্মদ হোসেনের মেয়ে লাকী আক্তার পিংকি ওরফে আফসানা (২৫)।

সোমবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পশ্চিম জোনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পুলিশের উপকমিশনার আবদুল ওয়ারিশ।

পুলিশ জানায়, গত বছরের ৭ জুলাই হালিশহর থানার রহমানবাগ আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে অজ্ঞাতানামা এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। গলায় লাল রঙের পায়জামা দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় লাশটি রান্নাঘরে পড়েছিল। এ ঘটনায় বাসার কেয়ারটেকার মো. নূর নবী একটি হত্যা মামলা করেন। বাসাটি ভাড়া নেওয়া ব্যক্তি নিজেকে রেজাউল করিম নামে পরিচয় দিয়ে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের অষ্পষ্ট ফটোকপি বাড়ির কেয়ারটেকারের কাছে জমা দিয়েছিল। পরে তদন্তে তার আসল নাম সোহাইল মোহাম্মদ বলে জানতে পারে পুলিশ। একইসঙ্গে সোহাইল আহমেদের ছবিও সংগ্রহ করা গেছে।

পরিচয় নিশ্চিতের পর সোহাইল বারবার অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। সোমবার দুপুরে তাকে বাগেরহাট জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্য মতে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদা আক্তারকে পতেঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে নাহিদা সহযোগীর ভূমিকা পালন করে।

পুলিশের উপকমিশনার জানান, গ্রেপ্তার সোহাইল আহমেদ মোট চারটি বিয়ে করেন। তারা হলেন পারভিন, নাসিমা, নাহিদা আক্তার ও লাকী আক্তার পিংকি ওরফে আফসানা। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সোহাইলের তৃতীয় স্ত্রী নাহিদা আক্তারের সম্পৃক্ততা মিলেছে। সোহাইল ও আফসানা একই গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। চাকরির সুবাদে আসামি সোহাইলের সঙ্গে আফসানার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে তারা বিয়ে করে হালিশহরের ভাড়া বাসায় উঠে। একপর্যায়ে আফসানা সোহাইলের আগের বিয়ের কথা জানতে পারলে কলহ শুরু হয়। ২০২০ সালের ২১ জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটান সোহাইল।

ঘটনার দিন রাতে সোহাইল আফসানাকে ব্যাপক মারধর করেন। তার আগে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সোহাইল তার তৃতীয় স্ত্রী নাহিদাকে পতেঙ্গার বাসা থেকে ডেকে আনেন। এ ঘটনার সঙ্গে নাহিদাও হাত মেলান। ওই দিন রাতে ব্যাপক মারধরের একপর্যায়ে আফসানা অজ্ঞান হয়ে যান। আফসানার মৃত্যু নিশ্চিত করতে সোহাইল আফসানার পরনের পায়জামা গলায় পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন। মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে তার লাশ রান্নাঘরে বিছানার চাদরে মুড়িয়ে রেখে বাগেরহাট পালিয়ে যান।