ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চিরকুট লিখে শিশুকে হাসপাতালে রেখে গেলেন মা চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত সাভারে ৭ মাসে ৬ হত্যা, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার মশিউর আ.লীগ দেশ বিক্রি করে অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ করেছিল: আসিফ নজরুল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এনসিপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার ৬ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান, একজনের মৃত্যু ভোটের মাঠে ১ লাখ সেনাসহ থাকবে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে: জোনায়েদ সাকি অনিয়মের প্রমাণ থাকলে যেকোনো বিচার মেনে নিতে প্রস্তুত: আসিফ

তৃতীয় স্ত্রীর সহায়তায় চতুর্থ স্ত্রীকে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানা এলাকায় অজ্ঞাতনামা নারীকে হত্যার এক বছরেরও বেশি সময় পর দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন সোহাইল আহাম্মেদ (৪০) ও তার স্ত্রী নাহিদা আক্তার (২২)।

এছাড়া খুন হওয়া ওই নারীর পরিচয়ও উদঘাটন করা হয়েছে। তিনি হলেন পতেঙ্গা থানার ডুরিয়া পাড়ার মোহাম্মদ হোসেনের মেয়ে লাকী আক্তার পিংকি ওরফে আফসানা (২৫)।

সোমবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পশ্চিম জোনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পুলিশের উপকমিশনার আবদুল ওয়ারিশ।

পুলিশ জানায়, গত বছরের ৭ জুলাই হালিশহর থানার রহমানবাগ আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে অজ্ঞাতানামা এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। গলায় লাল রঙের পায়জামা দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় লাশটি রান্নাঘরে পড়েছিল। এ ঘটনায় বাসার কেয়ারটেকার মো. নূর নবী একটি হত্যা মামলা করেন। বাসাটি ভাড়া নেওয়া ব্যক্তি নিজেকে রেজাউল করিম নামে পরিচয় দিয়ে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের অষ্পষ্ট ফটোকপি বাড়ির কেয়ারটেকারের কাছে জমা দিয়েছিল। পরে তদন্তে তার আসল নাম সোহাইল মোহাম্মদ বলে জানতে পারে পুলিশ। একইসঙ্গে সোহাইল আহমেদের ছবিও সংগ্রহ করা গেছে।

পরিচয় নিশ্চিতের পর সোহাইল বারবার অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। সোমবার দুপুরে তাকে বাগেরহাট জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্য মতে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদা আক্তারকে পতেঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে নাহিদা সহযোগীর ভূমিকা পালন করে।

পুলিশের উপকমিশনার জানান, গ্রেপ্তার সোহাইল আহমেদ মোট চারটি বিয়ে করেন। তারা হলেন পারভিন, নাসিমা, নাহিদা আক্তার ও লাকী আক্তার পিংকি ওরফে আফসানা। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সোহাইলের তৃতীয় স্ত্রী নাহিদা আক্তারের সম্পৃক্ততা মিলেছে। সোহাইল ও আফসানা একই গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। চাকরির সুবাদে আসামি সোহাইলের সঙ্গে আফসানার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে তারা বিয়ে করে হালিশহরের ভাড়া বাসায় উঠে। একপর্যায়ে আফসানা সোহাইলের আগের বিয়ের কথা জানতে পারলে কলহ শুরু হয়। ২০২০ সালের ২১ জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটান সোহাইল।

ঘটনার দিন রাতে সোহাইল আফসানাকে ব্যাপক মারধর করেন। তার আগে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সোহাইল তার তৃতীয় স্ত্রী নাহিদাকে পতেঙ্গার বাসা থেকে ডেকে আনেন। এ ঘটনার সঙ্গে নাহিদাও হাত মেলান। ওই দিন রাতে ব্যাপক মারধরের একপর্যায়ে আফসানা অজ্ঞান হয়ে যান। আফসানার মৃত্যু নিশ্চিত করতে সোহাইল আফসানার পরনের পায়জামা গলায় পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন। মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে তার লাশ রান্নাঘরে বিছানার চাদরে মুড়িয়ে রেখে বাগেরহাট পালিয়ে যান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তৃতীয় স্ত্রীর সহায়তায় চতুর্থ স্ত্রীকে হত্যা

আপডেট সময় ০৭:০৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানা এলাকায় অজ্ঞাতনামা নারীকে হত্যার এক বছরেরও বেশি সময় পর দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন সোহাইল আহাম্মেদ (৪০) ও তার স্ত্রী নাহিদা আক্তার (২২)।

এছাড়া খুন হওয়া ওই নারীর পরিচয়ও উদঘাটন করা হয়েছে। তিনি হলেন পতেঙ্গা থানার ডুরিয়া পাড়ার মোহাম্মদ হোসেনের মেয়ে লাকী আক্তার পিংকি ওরফে আফসানা (২৫)।

সোমবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পশ্চিম জোনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পুলিশের উপকমিশনার আবদুল ওয়ারিশ।

পুলিশ জানায়, গত বছরের ৭ জুলাই হালিশহর থানার রহমানবাগ আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে অজ্ঞাতানামা এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। গলায় লাল রঙের পায়জামা দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় লাশটি রান্নাঘরে পড়েছিল। এ ঘটনায় বাসার কেয়ারটেকার মো. নূর নবী একটি হত্যা মামলা করেন। বাসাটি ভাড়া নেওয়া ব্যক্তি নিজেকে রেজাউল করিম নামে পরিচয় দিয়ে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের অষ্পষ্ট ফটোকপি বাড়ির কেয়ারটেকারের কাছে জমা দিয়েছিল। পরে তদন্তে তার আসল নাম সোহাইল মোহাম্মদ বলে জানতে পারে পুলিশ। একইসঙ্গে সোহাইল আহমেদের ছবিও সংগ্রহ করা গেছে।

পরিচয় নিশ্চিতের পর সোহাইল বারবার অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। সোমবার দুপুরে তাকে বাগেরহাট জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্য মতে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদা আক্তারকে পতেঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে নাহিদা সহযোগীর ভূমিকা পালন করে।

পুলিশের উপকমিশনার জানান, গ্রেপ্তার সোহাইল আহমেদ মোট চারটি বিয়ে করেন। তারা হলেন পারভিন, নাসিমা, নাহিদা আক্তার ও লাকী আক্তার পিংকি ওরফে আফসানা। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সোহাইলের তৃতীয় স্ত্রী নাহিদা আক্তারের সম্পৃক্ততা মিলেছে। সোহাইল ও আফসানা একই গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। চাকরির সুবাদে আসামি সোহাইলের সঙ্গে আফসানার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে তারা বিয়ে করে হালিশহরের ভাড়া বাসায় উঠে। একপর্যায়ে আফসানা সোহাইলের আগের বিয়ের কথা জানতে পারলে কলহ শুরু হয়। ২০২০ সালের ২১ জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটান সোহাইল।

ঘটনার দিন রাতে সোহাইল আফসানাকে ব্যাপক মারধর করেন। তার আগে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সোহাইল তার তৃতীয় স্ত্রী নাহিদাকে পতেঙ্গার বাসা থেকে ডেকে আনেন। এ ঘটনার সঙ্গে নাহিদাও হাত মেলান। ওই দিন রাতে ব্যাপক মারধরের একপর্যায়ে আফসানা অজ্ঞান হয়ে যান। আফসানার মৃত্যু নিশ্চিত করতে সোহাইল আফসানার পরনের পায়জামা গলায় পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন। মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে তার লাশ রান্নাঘরে বিছানার চাদরে মুড়িয়ে রেখে বাগেরহাট পালিয়ে যান।