ঢাকা ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে: জাতিসংঘ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যকর্মীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের বেশ কিছু পুলিশ চৌকিতে হামলার জন্য রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দায়ী করে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করলে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে দলে দলে বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করে রোহিঙ্গারা।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছে, বিদ্রোহীদের দমনের নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণ করছে এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ বলছে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগতভাবে নির্মূল’ করছে মিয়ানমার।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলছে, পুলিশের চৌকিতে হামলার জন্য দায়ী রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দমনেই রাখাইনে সেনা অভিযান চালানো হয়। এছাড়া রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই মুসলিমদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে বলেও দাবি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার অনেক নারী সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। বাংলাদেশে এই নারীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সময় চিকিৎসকরা অনেক নারীর শরীরেই যৌন সহিংসতার ক্ষত দেখতে পেয়েছেন।

মিয়ানমারে যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশ আসা রোহিঙ্গা নারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা দিচ্ছেন— কক্সবাজারে এমন আটজন স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। ওই স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, গত আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার ২৫ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন।

চিকিৎসাকর্মীরা আরও জানান, চিকিৎসা নেওয়া রোহিঙ্গা নারীদের সবাই বলেছে, মিয়ানমারের সেনা সদস্যরাই তাদের ওপর এই বর্বরতা চালিয়েছে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অধীনস্থ একটি অস্থায়ী শরণার্থী ক্যাম্পে পরিচালিত একটি ক্লিনিকের চিকিৎসকরাও বলেছেন, তারা শত শত নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন যারা গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা বাহিনীর অভিযানের সময় যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে: জাতিসংঘ

আপডেট সময় ১০:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যকর্মীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের বেশ কিছু পুলিশ চৌকিতে হামলার জন্য রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দায়ী করে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করলে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে দলে দলে বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করে রোহিঙ্গারা।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছে, বিদ্রোহীদের দমনের নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণ করছে এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ বলছে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগতভাবে নির্মূল’ করছে মিয়ানমার।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলছে, পুলিশের চৌকিতে হামলার জন্য দায়ী রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দমনেই রাখাইনে সেনা অভিযান চালানো হয়। এছাড়া রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই মুসলিমদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে বলেও দাবি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার অনেক নারী সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। বাংলাদেশে এই নারীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সময় চিকিৎসকরা অনেক নারীর শরীরেই যৌন সহিংসতার ক্ষত দেখতে পেয়েছেন।

মিয়ানমারে যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশ আসা রোহিঙ্গা নারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা দিচ্ছেন— কক্সবাজারে এমন আটজন স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। ওই স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, গত আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার ২৫ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন।

চিকিৎসাকর্মীরা আরও জানান, চিকিৎসা নেওয়া রোহিঙ্গা নারীদের সবাই বলেছে, মিয়ানমারের সেনা সদস্যরাই তাদের ওপর এই বর্বরতা চালিয়েছে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অধীনস্থ একটি অস্থায়ী শরণার্থী ক্যাম্পে পরিচালিত একটি ক্লিনিকের চিকিৎসকরাও বলেছেন, তারা শত শত নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন যারা গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা বাহিনীর অভিযানের সময় যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন।