ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট পরীক্ষা স্থগিত পরিকল্পিতভাবে উত্তরাঞ্চলে বড় উন্নয়ন বাজেট কমানো হয়েছে: নাহিদ ইসলাম আবু সাঈদের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করুন,সরকারকে গোলাম পরওয়ার হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, আসলেই গ্রেফতার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকার দলীয় এমপিরা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ লঙ্ঘন করেছেন: আইনজীবী শিশির জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী

রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে: জাতিসংঘ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যকর্মীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের বেশ কিছু পুলিশ চৌকিতে হামলার জন্য রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দায়ী করে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করলে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে দলে দলে বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করে রোহিঙ্গারা।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছে, বিদ্রোহীদের দমনের নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণ করছে এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ বলছে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগতভাবে নির্মূল’ করছে মিয়ানমার।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলছে, পুলিশের চৌকিতে হামলার জন্য দায়ী রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দমনেই রাখাইনে সেনা অভিযান চালানো হয়। এছাড়া রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই মুসলিমদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে বলেও দাবি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার অনেক নারী সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। বাংলাদেশে এই নারীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সময় চিকিৎসকরা অনেক নারীর শরীরেই যৌন সহিংসতার ক্ষত দেখতে পেয়েছেন।

মিয়ানমারে যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশ আসা রোহিঙ্গা নারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা দিচ্ছেন— কক্সবাজারে এমন আটজন স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। ওই স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, গত আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার ২৫ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন।

চিকিৎসাকর্মীরা আরও জানান, চিকিৎসা নেওয়া রোহিঙ্গা নারীদের সবাই বলেছে, মিয়ানমারের সেনা সদস্যরাই তাদের ওপর এই বর্বরতা চালিয়েছে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অধীনস্থ একটি অস্থায়ী শরণার্থী ক্যাম্পে পরিচালিত একটি ক্লিনিকের চিকিৎসকরাও বলেছেন, তারা শত শত নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন যারা গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা বাহিনীর অভিযানের সময় যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট পরীক্ষা স্থগিত

রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে: জাতিসংঘ

আপডেট সময় ১০:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যকর্মীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের বেশ কিছু পুলিশ চৌকিতে হামলার জন্য রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দায়ী করে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করলে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে দলে দলে বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করে রোহিঙ্গারা।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছে, বিদ্রোহীদের দমনের নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণ করছে এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ বলছে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগতভাবে নির্মূল’ করছে মিয়ানমার।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলছে, পুলিশের চৌকিতে হামলার জন্য দায়ী রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দমনেই রাখাইনে সেনা অভিযান চালানো হয়। এছাড়া রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই মুসলিমদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে বলেও দাবি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার অনেক নারী সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। বাংলাদেশে এই নারীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সময় চিকিৎসকরা অনেক নারীর শরীরেই যৌন সহিংসতার ক্ষত দেখতে পেয়েছেন।

মিয়ানমারে যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশ আসা রোহিঙ্গা নারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা দিচ্ছেন— কক্সবাজারে এমন আটজন স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। ওই স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, গত আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার ২৫ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন।

চিকিৎসাকর্মীরা আরও জানান, চিকিৎসা নেওয়া রোহিঙ্গা নারীদের সবাই বলেছে, মিয়ানমারের সেনা সদস্যরাই তাদের ওপর এই বর্বরতা চালিয়েছে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অধীনস্থ একটি অস্থায়ী শরণার্থী ক্যাম্পে পরিচালিত একটি ক্লিনিকের চিকিৎসকরাও বলেছেন, তারা শত শত নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন যারা গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা বাহিনীর অভিযানের সময় যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন।