ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে: জাতিসংঘ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যকর্মীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের বেশ কিছু পুলিশ চৌকিতে হামলার জন্য রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দায়ী করে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করলে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে দলে দলে বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করে রোহিঙ্গারা।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছে, বিদ্রোহীদের দমনের নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণ করছে এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ বলছে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগতভাবে নির্মূল’ করছে মিয়ানমার।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলছে, পুলিশের চৌকিতে হামলার জন্য দায়ী রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দমনেই রাখাইনে সেনা অভিযান চালানো হয়। এছাড়া রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই মুসলিমদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে বলেও দাবি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার অনেক নারী সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। বাংলাদেশে এই নারীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সময় চিকিৎসকরা অনেক নারীর শরীরেই যৌন সহিংসতার ক্ষত দেখতে পেয়েছেন।

মিয়ানমারে যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশ আসা রোহিঙ্গা নারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা দিচ্ছেন— কক্সবাজারে এমন আটজন স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। ওই স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, গত আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার ২৫ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন।

চিকিৎসাকর্মীরা আরও জানান, চিকিৎসা নেওয়া রোহিঙ্গা নারীদের সবাই বলেছে, মিয়ানমারের সেনা সদস্যরাই তাদের ওপর এই বর্বরতা চালিয়েছে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অধীনস্থ একটি অস্থায়ী শরণার্থী ক্যাম্পে পরিচালিত একটি ক্লিনিকের চিকিৎসকরাও বলেছেন, তারা শত শত নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন যারা গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা বাহিনীর অভিযানের সময় যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে: জাতিসংঘ

আপডেট সময় ১০:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যকর্মীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের বেশ কিছু পুলিশ চৌকিতে হামলার জন্য রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দায়ী করে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করলে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে দলে দলে বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করে রোহিঙ্গারা।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছে, বিদ্রোহীদের দমনের নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণ করছে এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ বলছে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগতভাবে নির্মূল’ করছে মিয়ানমার।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলছে, পুলিশের চৌকিতে হামলার জন্য দায়ী রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দমনেই রাখাইনে সেনা অভিযান চালানো হয়। এছাড়া রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই মুসলিমদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে বলেও দাবি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার অনেক নারী সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। বাংলাদেশে এই নারীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সময় চিকিৎসকরা অনেক নারীর শরীরেই যৌন সহিংসতার ক্ষত দেখতে পেয়েছেন।

মিয়ানমারে যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশ আসা রোহিঙ্গা নারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা দিচ্ছেন— কক্সবাজারে এমন আটজন স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। ওই স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, গত আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার ২৫ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন।

চিকিৎসাকর্মীরা আরও জানান, চিকিৎসা নেওয়া রোহিঙ্গা নারীদের সবাই বলেছে, মিয়ানমারের সেনা সদস্যরাই তাদের ওপর এই বর্বরতা চালিয়েছে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অধীনস্থ একটি অস্থায়ী শরণার্থী ক্যাম্পে পরিচালিত একটি ক্লিনিকের চিকিৎসকরাও বলেছেন, তারা শত শত নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন যারা গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা বাহিনীর অভিযানের সময় যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন।