ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: বাণিজ্যমন্ত্রী ভাতার আওতায় এলেন আরও ১৭১ খেলোয়াড় তেলের দাম বিশ্ববাজারে দ্বিগুণ বাড়লেও আমরা সামান্য বাড়িয়েছি: জ্বালানি মন্ত্রী আইএমএফের চাপে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি: অর্থমন্ত্রী জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কাছে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’: গোলাম পরওয়ার ইসরাইল বিজয় ছিনিয়ে আনতে জানে: ট্রাম্প মেরিন ড্রাইভে প্রাইভেটকারে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় ইরানযুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প: কমলা হ্যারিস ১০৭ বছরের পুরোনো মাঠ দখলমুক্ত করার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর চাকরি পুনর্বহাল চেয়ে মতিঝিলে ৬ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মীদের অবস্থান

বসকে ঘুস দিয়েও ছেলের চাকরি হয়নি, চিরকুট লিখে বাবার আত্মহত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রিয়সন্তানের ব্যাংকে চাকরি হবে এমন স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়েছিলেন এমদাদুল হক। প্রলোভনে পড়ে ১০ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন নিজেরই অফিস বসের হাতে। সন্তানের চাকরির কাছে ১০ লাখ টাকা তুচ্ছ জ্ঞান করে তুলে দেওয়ার তিন বছর পরেও চাকরি হয়নি সন্তানের। ফিরে পাননি ১০ লাখ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে চরম মানসিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হন এমদাদুল হক।

অবশেষে চরম হতাশা ও ক্ষোভের মুখে বেছে নিলেন আত্মোৎসর্গের পথ। একটি চিরকুটে নিজ অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে এমন প্রতারিত হওয়ার কাহিনী লিখে আত্মহত্যা করলেন সন্তান দরদী পিতা এমদাদুল হক।

জেলার বাজিতপুর উপজেলার হালিমপুরের পাঁচআনি গ্রামে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনার একটি মামলাও করা হয়।

উপজেলার হালিমপুর ইউনিয়নের হালিমপুর পাঁচ আনি গ্রামের এমদাদুল হক। তিনি পেশায় ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের একজন ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক। ইতোমধ্যে অবসরপ্রাপ্ত জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। চাকরিরত অবস্থায় বাজিতপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার সাবেক কর্মকর্তা মো. সারওয়ার জাহানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে তার।

২০১৮ সালের দিকে মো. ছারওয়ার জাহান ১০ লাখ টাকা হলে ছেলেকে ব্যাংকে চাকরি দেয়ার প্রলোভনে প্রলুব্ধ করেন এমদাদুল হককে। এমদাদুল হক ২০১৮ সালে জুলাই মাসে পাঁচ লাখ এবং একই বছরের অক্টোবর মাসে আরও পাঁচ লাখ টাকাসহ মোট ১০ লাখ টাকা তুলে দেন সারওয়ার জাহানের হাতে।

কিন্তু তিন বছর গড়িয়ে যেতে বসলেও প্রিয় সন্তানের চাকরি না হওয়ায় এবং টাকা ফেরত না পাওয়ায় চরমভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। মৃত্যুর আগে সব কিছুই চিরকুটে লিখে রাখেন তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. সারওয়ার জাহান টাকা ফেরত না দেওয়ায় ঋণের চাপে গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন এমদাদুল হক।

এ ঘটনায় লাশ ময়নাতদন্ত করে দাফনের পর, আত্মহত্যার আগে লিখে রেখে যাওয়া চিরকুটের ওপর ভিত্তি করে গত ২১ আগস্ট বাজিতপুর থানায় একটি আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন নিহতের ছেলে মোহাম্মদ রাজীবুল হক।

অভিযুক্ত সারওয়ার জাহান জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের টুপকারচর পুরান গ্রামের মো. হজরত আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি চাকরিতে থেকে পিআরএল ভোগ করছেন।

এমদাদুল হকের ছেলে মোহাম্মদ রাজীবুল হক বলেন, আমার বাবা ২০১৮ সালে টাকা দেওয়ার সময় আমাকে জানান। তখন আমি রাজি না হয়ে বাবাকে বলি, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছি, আমি এভাবে টাকা দিয়ে চাকরি নিব না। তবুও বাবা তার বসের আশ্বাসে টাকা দিয়ে দেন। পরে তিন বছরেও চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত নিতে ব্যর্থ হন। টাকার শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। অবশেষে চিরকুটে সবকিছু লিখে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে বসলেন।

মৃত্যুর আগে চিরকুট লিখে যাওয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বাজিতপুর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামি ধরতে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সারওয়ার জাহানের মোবাইল ফোনে বারবার কল করেও যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: বাণিজ্যমন্ত্রী

বসকে ঘুস দিয়েও ছেলের চাকরি হয়নি, চিরকুট লিখে বাবার আত্মহত্যা

আপডেট সময় ১১:০৩:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রিয়সন্তানের ব্যাংকে চাকরি হবে এমন স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়েছিলেন এমদাদুল হক। প্রলোভনে পড়ে ১০ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন নিজেরই অফিস বসের হাতে। সন্তানের চাকরির কাছে ১০ লাখ টাকা তুচ্ছ জ্ঞান করে তুলে দেওয়ার তিন বছর পরেও চাকরি হয়নি সন্তানের। ফিরে পাননি ১০ লাখ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে চরম মানসিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হন এমদাদুল হক।

অবশেষে চরম হতাশা ও ক্ষোভের মুখে বেছে নিলেন আত্মোৎসর্গের পথ। একটি চিরকুটে নিজ অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে এমন প্রতারিত হওয়ার কাহিনী লিখে আত্মহত্যা করলেন সন্তান দরদী পিতা এমদাদুল হক।

জেলার বাজিতপুর উপজেলার হালিমপুরের পাঁচআনি গ্রামে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনার একটি মামলাও করা হয়।

উপজেলার হালিমপুর ইউনিয়নের হালিমপুর পাঁচ আনি গ্রামের এমদাদুল হক। তিনি পেশায় ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের একজন ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক। ইতোমধ্যে অবসরপ্রাপ্ত জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। চাকরিরত অবস্থায় বাজিতপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার সাবেক কর্মকর্তা মো. সারওয়ার জাহানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে তার।

২০১৮ সালের দিকে মো. ছারওয়ার জাহান ১০ লাখ টাকা হলে ছেলেকে ব্যাংকে চাকরি দেয়ার প্রলোভনে প্রলুব্ধ করেন এমদাদুল হককে। এমদাদুল হক ২০১৮ সালে জুলাই মাসে পাঁচ লাখ এবং একই বছরের অক্টোবর মাসে আরও পাঁচ লাখ টাকাসহ মোট ১০ লাখ টাকা তুলে দেন সারওয়ার জাহানের হাতে।

কিন্তু তিন বছর গড়িয়ে যেতে বসলেও প্রিয় সন্তানের চাকরি না হওয়ায় এবং টাকা ফেরত না পাওয়ায় চরমভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। মৃত্যুর আগে সব কিছুই চিরকুটে লিখে রাখেন তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. সারওয়ার জাহান টাকা ফেরত না দেওয়ায় ঋণের চাপে গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন এমদাদুল হক।

এ ঘটনায় লাশ ময়নাতদন্ত করে দাফনের পর, আত্মহত্যার আগে লিখে রেখে যাওয়া চিরকুটের ওপর ভিত্তি করে গত ২১ আগস্ট বাজিতপুর থানায় একটি আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন নিহতের ছেলে মোহাম্মদ রাজীবুল হক।

অভিযুক্ত সারওয়ার জাহান জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের টুপকারচর পুরান গ্রামের মো. হজরত আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি চাকরিতে থেকে পিআরএল ভোগ করছেন।

এমদাদুল হকের ছেলে মোহাম্মদ রাজীবুল হক বলেন, আমার বাবা ২০১৮ সালে টাকা দেওয়ার সময় আমাকে জানান। তখন আমি রাজি না হয়ে বাবাকে বলি, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছি, আমি এভাবে টাকা দিয়ে চাকরি নিব না। তবুও বাবা তার বসের আশ্বাসে টাকা দিয়ে দেন। পরে তিন বছরেও চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত নিতে ব্যর্থ হন। টাকার শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। অবশেষে চিরকুটে সবকিছু লিখে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে বসলেন।

মৃত্যুর আগে চিরকুট লিখে যাওয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বাজিতপুর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামি ধরতে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সারওয়ার জাহানের মোবাইল ফোনে বারবার কল করেও যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি।