ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০০ কোটি ডলার ঋণ নাকি অনুদান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন ‘এখানে খোঁচাখুঁচির কিছু নাই’ হরমুজ প্রণালী ‘স্থায়ীভাবে’ খুলে দেওয়া হচ্ছে: ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ একটি ‘ভুল’: ব্রিটিশ চ্যান্সেলর নবীর অবমাননায় মৃত্যুদণ্ডের আইন দাবি এমপি হানজালার টিপাইমুখ বাঁধ আমাদের নিজেদের তৈরি দুর্যোগ: স্পিকার বাংলাদেশকে ২ কোটি ১৯ লাখ হাম-রুবেলার টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২শ’ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে এলাকার সড়কের জন্য ‘ভিক্ষা’ চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ আত্মীয়ের কুলখানি শেষে ফিরছিলেন বাড়ি, পথে কাভার্ড ভ্যান কেড়ে নিল মা-ছেলের প্রাণ বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন

বিমানে উড়িয়ে কাতারে আনা হলো গরুর পাল

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিমানে উড়িয়ে গরুর পাল আনা হলো কাতারে।কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন অবরোধে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। সংকট পূরণে বিদেশ থেকে উন্নত জাতের গাভি আনার উদ্যোগ নিয়েছে কাতার।প্রথম দফায় জার্মানি থেকে ১৬৫টি গাভি আনা হয়েছে কাতারে। মোট ৪ হাজার গাভি আমদানি করা হবে।স্থল, আকাশ ও নৌপথে কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করায় খাদ্যচাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। কাতার তার ২৭ লাখ জনগণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের বেশির ভাগ আমদানি করে থাকে।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও বাহরাইন সার্বিকভাবে সম্পর্কচ্ছেদ করায় খাদ্যপণ্যের চাহিদা মেটাতে বিকল্প ভাবতে হচ্ছে কাতারি সরকারকে। ইরান ও তুরস্ক কাতারের পাশে দাঁড়ালেও পুরোপুরি চাহিদা মেটাতে ঘাম ঝরছে দেশটির।সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও ইরানকে সাহায্য করার অভিযোগে তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে উপসাগরীয় ওই চার দেশ। এসব দেশের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে তাদের কয়েকটি মিত্র দেশ। তবে কাতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

অবরোধ প্রত্যাহারে কাতারকে ১৩টি শর্ত দেয় ওই চার দেশ। কিন্তু এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করে কাতার। ফলে সংকট সমাধানের পথ আরো দীর্ঘায়িত হয়। উপরন্তু ওই চার দেশ হুমকি দেয়, অবরোধ আরো কঠোর করা হবে। এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ পণ্যের চাহিদা মেটাতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কাতার। কারণ, ওই চার দেশ থেকে তারা তাদের বেশির ভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতো।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার কাতার এয়ারওয়েজের একটি কার্গো বিমানে গরুগুলো আনা হয়। সংকটকালীন চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে নির্মিত একটি খামারে গরুগুলো রাখা হয়েছে।

কাতারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল গরুগুলো আমদানি করছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মৌতাজ আল-খায়াত গত মাসে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে বলেন, ৪ হাজার গরু কাতারে আনা গেলে, দেশের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদার ৩০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে। নতুন একটি ব্র্যান্ডে বিক্রি করা হবে তাদের পণ্য। পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান মৌতাজ আল-খায়াতের নামানুসারে ‘মি. আল-খায়াত’ নামে চালু হচ্ছে নতুন ব্র্যান্ড।

এদিকে, কাতারের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর অচলাবস্থা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে কুযেত ও যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন কাতারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একই উদ্দেশ্যে বুধবার সৌদি আরবে পৌঁছেছেন তিনি। তবে কাতারের সংকটের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও ভূমিকা রয়েছে। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অন্য দেশগুলো কাতারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে, তাতে সমর্থন দেন ট্রাম্প।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বিমানে উড়িয়ে কাতারে আনা হলো গরুর পাল

আপডেট সময় ০১:৪৩:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিমানে উড়িয়ে গরুর পাল আনা হলো কাতারে।কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন অবরোধে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। সংকট পূরণে বিদেশ থেকে উন্নত জাতের গাভি আনার উদ্যোগ নিয়েছে কাতার।প্রথম দফায় জার্মানি থেকে ১৬৫টি গাভি আনা হয়েছে কাতারে। মোট ৪ হাজার গাভি আমদানি করা হবে।স্থল, আকাশ ও নৌপথে কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করায় খাদ্যচাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। কাতার তার ২৭ লাখ জনগণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের বেশির ভাগ আমদানি করে থাকে।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও বাহরাইন সার্বিকভাবে সম্পর্কচ্ছেদ করায় খাদ্যপণ্যের চাহিদা মেটাতে বিকল্প ভাবতে হচ্ছে কাতারি সরকারকে। ইরান ও তুরস্ক কাতারের পাশে দাঁড়ালেও পুরোপুরি চাহিদা মেটাতে ঘাম ঝরছে দেশটির।সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও ইরানকে সাহায্য করার অভিযোগে তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে উপসাগরীয় ওই চার দেশ। এসব দেশের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে তাদের কয়েকটি মিত্র দেশ। তবে কাতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

অবরোধ প্রত্যাহারে কাতারকে ১৩টি শর্ত দেয় ওই চার দেশ। কিন্তু এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করে কাতার। ফলে সংকট সমাধানের পথ আরো দীর্ঘায়িত হয়। উপরন্তু ওই চার দেশ হুমকি দেয়, অবরোধ আরো কঠোর করা হবে। এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ পণ্যের চাহিদা মেটাতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কাতার। কারণ, ওই চার দেশ থেকে তারা তাদের বেশির ভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতো।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার কাতার এয়ারওয়েজের একটি কার্গো বিমানে গরুগুলো আনা হয়। সংকটকালীন চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে নির্মিত একটি খামারে গরুগুলো রাখা হয়েছে।

কাতারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল গরুগুলো আমদানি করছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মৌতাজ আল-খায়াত গত মাসে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে বলেন, ৪ হাজার গরু কাতারে আনা গেলে, দেশের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদার ৩০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে। নতুন একটি ব্র্যান্ডে বিক্রি করা হবে তাদের পণ্য। পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান মৌতাজ আল-খায়াতের নামানুসারে ‘মি. আল-খায়াত’ নামে চালু হচ্ছে নতুন ব্র্যান্ড।

এদিকে, কাতারের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর অচলাবস্থা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে কুযেত ও যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন কাতারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একই উদ্দেশ্যে বুধবার সৌদি আরবে পৌঁছেছেন তিনি। তবে কাতারের সংকটের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও ভূমিকা রয়েছে। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অন্য দেশগুলো কাতারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে, তাতে সমর্থন দেন ট্রাম্প।