ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে বিদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ এনসিপির নুসরাতের মনোনয়ন গ্রহণ করবে ইসি, আপিল না করার সিদ্ধান্ত প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনায় আহত সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর গণতন্ত্রের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী বছরজুড়ে যুদ্ধ চলবে: ইসরাইলি সেনাপ্রধান ডিসইনফরমেশনভিত্তিক ফটোকার্ড এলাও করবো না : জাহেদ উর রহমান ৫ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মানবে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও দূষণের হাত থেকে নদীগুলোকে বাঁচাতে হবে : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী কোস্ট গার্ডের আধুনিকায়নে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমি দুঃখিত লজ্জিত বিব্রত ও অনুতপ্ত: আফরান নিশো

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

দর্শকদের তুমুল আপত্তি ও প্রতিবাদের পর ইউটিউব থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরও নাটক ‘ঘটনা সত্য’নিয়ে সমালোচনার শেষ হচ্ছে না।

বিশেষ শিশু ও তাদের বাবা-মার প্রতি ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন নাটকের নির্মাতা রুবেল হাসান। প্রয়োজনীয় সংশোধন করেই নাটকটি ইউটিউবে ফের অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে এতেই মন ভরছে না দেশের নাট্টপ্রিয় সচেতনদের। তাদের প্রশ্ন, এ ধরনের নাটকে কীভাবে অভিনয় করলেন আফরান নিশো ও মেহজাবীন।

জনপ্রিয় এই দুই অভিনেত্রী কি নাটকের স্ক্রিপ্ট পড়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি? ‘বাবা-মার পাপ কর্মের ফল শিশু’ এমন সংলাপ চোখে পড়েনি তাদের?

বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় তখন মুখ খুললেন ‘ঘটনা সত্য’ নাটকের দুই মূখ্য চরিত্রের অন্যতম আরফান নিশো।

এ নিয়ে নিজের ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে বিশেষ শিশুদের প্রতিটি পরিবারের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন অভিনেতা। বললেন, আমি দুঃখিত, লজ্জিত, বিব্রত এবং অনুতপ্ত।

আফরান নিশো লিখেছেন, ‘আমি আফরান নিশো। একজন অভিনয়শিল্পী।একজন বাবা। পৃথিবীর প্রতিটি বাবার মতো, আমিও আমার সন্তানের প্রতি সমান আবেগী। ‘ঘটনা সত্য’ নাটক নিয়ে যে অনাকাঙ্খিত এবং অনিচ্ছাকৃত ভুল সংগঠিত হয়েছে— এতে যেসব বাবা-মায়ের হৃদয় কেঁদেছে, আমিও তাদের কান্না অনুভব করতে পেরেছি। তাই সবার দুঃখে আমিও সহমর্মী। প্রতিটি পরিবারের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

এই অভিনেতা বলেন, ‘আমি যে মাধ্যমে কাজ করি, সেই মাধ্যমটির সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিটি মানুষকে আমি একটি পরিবারের সদস্য মনে করি। প্রযোজক, পরিচালক কিংবা শিল্পী-কলাকুশলী— আমরা সবাই এই পরিবারের সদস্য।আমি আমার নাট্যপরিবারের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করছি। এ ভুলে তাদেরকেও কষ্ট দিয়েছি। ঘটে যাওয়া ভুলের জন্য আমরা কেউই দায় এড়াতে পারি না। ভুল থেকে আমি,আমরা নতুন করে শিক্ষা নিয়েছি। একই সঙ্গে নিজের সামাজিক অবস্থান, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নতুন করে উপলব্ধি করতে পারছি। আমি দুঃখিত, লজ্জিত, বিব্রত— এবং অনুতপ্ত। আশা করছি, ভবিষ্যতে সামাজিক যে কোনো বিষয়ে আমি, আমরা আরো অনেক বেশি সংবেদনশীল থাকবে।’

জনপ্রিয় এই অভিনেতা বলেন, ‘বিশেষ শিশুদের প্রতি আমার বিশ্বাস, ভালোবাসা বরাবরই ছিল। এক ভুলে তা শেষ হয়ে যেতে দিবো না। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বিশেষ শিশুদের কল্যাণে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাবো। কারণ আজকের শিশুরা আগামী দিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যত। আমাদের সম্পদ। আমার নাট্যপরিবারের প্রতিটি সংগঠন বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছেন। তাদের উদ্দেশ্যে সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা জানাই। আশা করছি, সবার সহযোগিতা নিয়ে আমি,আমরা সুন্দর এবং শুদ্ধ শিল্পচর্চার পথে এগিয়ে যাব।’

মূলত জীবন ঘনিষ্ঠ কাহিনি নিয়ে তৈরি নাটকটির শেষ অংশের একটি বার্তা নিয়েই সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রতিবন্ধী শিশুকে পাপের ফল বলে মন্তব্য করা হয় সেখানে।

এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পেজে, গ্রুপে নাটকটি নিয়ে সমালোচনা হয়েছে এবং তুমুল আপত্তিও উঠেছে। একাধিক সংগঠন থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

মঈনুল সানুর চিত্রনাট্যে নাটকটি প্রচার হয়েছিল চ্যানেল আইয়ের ঈদ আয়োজনে। এতে গাড়িচালকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারহান নিশো আর গৃহপরিচারিকার ভূমিকায় মেহজাবীন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

আমি দুঃখিত লজ্জিত বিব্রত ও অনুতপ্ত: আফরান নিশো

আপডেট সময় ১০:৫১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

দর্শকদের তুমুল আপত্তি ও প্রতিবাদের পর ইউটিউব থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরও নাটক ‘ঘটনা সত্য’নিয়ে সমালোচনার শেষ হচ্ছে না।

বিশেষ শিশু ও তাদের বাবা-মার প্রতি ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন নাটকের নির্মাতা রুবেল হাসান। প্রয়োজনীয় সংশোধন করেই নাটকটি ইউটিউবে ফের অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে এতেই মন ভরছে না দেশের নাট্টপ্রিয় সচেতনদের। তাদের প্রশ্ন, এ ধরনের নাটকে কীভাবে অভিনয় করলেন আফরান নিশো ও মেহজাবীন।

জনপ্রিয় এই দুই অভিনেত্রী কি নাটকের স্ক্রিপ্ট পড়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি? ‘বাবা-মার পাপ কর্মের ফল শিশু’ এমন সংলাপ চোখে পড়েনি তাদের?

বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় তখন মুখ খুললেন ‘ঘটনা সত্য’ নাটকের দুই মূখ্য চরিত্রের অন্যতম আরফান নিশো।

এ নিয়ে নিজের ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে বিশেষ শিশুদের প্রতিটি পরিবারের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন অভিনেতা। বললেন, আমি দুঃখিত, লজ্জিত, বিব্রত এবং অনুতপ্ত।

আফরান নিশো লিখেছেন, ‘আমি আফরান নিশো। একজন অভিনয়শিল্পী।একজন বাবা। পৃথিবীর প্রতিটি বাবার মতো, আমিও আমার সন্তানের প্রতি সমান আবেগী। ‘ঘটনা সত্য’ নাটক নিয়ে যে অনাকাঙ্খিত এবং অনিচ্ছাকৃত ভুল সংগঠিত হয়েছে— এতে যেসব বাবা-মায়ের হৃদয় কেঁদেছে, আমিও তাদের কান্না অনুভব করতে পেরেছি। তাই সবার দুঃখে আমিও সহমর্মী। প্রতিটি পরিবারের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

এই অভিনেতা বলেন, ‘আমি যে মাধ্যমে কাজ করি, সেই মাধ্যমটির সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিটি মানুষকে আমি একটি পরিবারের সদস্য মনে করি। প্রযোজক, পরিচালক কিংবা শিল্পী-কলাকুশলী— আমরা সবাই এই পরিবারের সদস্য।আমি আমার নাট্যপরিবারের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করছি। এ ভুলে তাদেরকেও কষ্ট দিয়েছি। ঘটে যাওয়া ভুলের জন্য আমরা কেউই দায় এড়াতে পারি না। ভুল থেকে আমি,আমরা নতুন করে শিক্ষা নিয়েছি। একই সঙ্গে নিজের সামাজিক অবস্থান, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নতুন করে উপলব্ধি করতে পারছি। আমি দুঃখিত, লজ্জিত, বিব্রত— এবং অনুতপ্ত। আশা করছি, ভবিষ্যতে সামাজিক যে কোনো বিষয়ে আমি, আমরা আরো অনেক বেশি সংবেদনশীল থাকবে।’

জনপ্রিয় এই অভিনেতা বলেন, ‘বিশেষ শিশুদের প্রতি আমার বিশ্বাস, ভালোবাসা বরাবরই ছিল। এক ভুলে তা শেষ হয়ে যেতে দিবো না। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বিশেষ শিশুদের কল্যাণে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাবো। কারণ আজকের শিশুরা আগামী দিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যত। আমাদের সম্পদ। আমার নাট্যপরিবারের প্রতিটি সংগঠন বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছেন। তাদের উদ্দেশ্যে সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা জানাই। আশা করছি, সবার সহযোগিতা নিয়ে আমি,আমরা সুন্দর এবং শুদ্ধ শিল্পচর্চার পথে এগিয়ে যাব।’

মূলত জীবন ঘনিষ্ঠ কাহিনি নিয়ে তৈরি নাটকটির শেষ অংশের একটি বার্তা নিয়েই সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রতিবন্ধী শিশুকে পাপের ফল বলে মন্তব্য করা হয় সেখানে।

এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পেজে, গ্রুপে নাটকটি নিয়ে সমালোচনা হয়েছে এবং তুমুল আপত্তিও উঠেছে। একাধিক সংগঠন থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

মঈনুল সানুর চিত্রনাট্যে নাটকটি প্রচার হয়েছিল চ্যানেল আইয়ের ঈদ আয়োজনে। এতে গাড়িচালকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারহান নিশো আর গৃহপরিচারিকার ভূমিকায় মেহজাবীন।