ঢাকা ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চুক্তির কাছাকাছি ছিলাম, এমন সময় ইরান হঠাৎ জাহাজে হামলা করল: ট্রাম্প সরকার সবসময় দুর্গত মানুষের পাশে আছে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী একটি মহলের অতি লোভের কারণে ইসলাম বিজয়ী হয়নি: চরমোনাই পীর ২৫ বছরের আগে পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধা পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা চলতি বছরেই প্রতি উপজেলা হাসপাতালে স্থাপন হবে ক্যাথ ল্যাব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ শেখ হাসিনার ১ বছরে খাওয়া-দাওয়ার খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী নাটোরে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আমরা সরকার গঠন করে শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দরজা খুলেই দেখলেন শাশুড়ির রক্তাক্ত লাশ, পাশের কক্ষে কাঁদছিল দুই বছরের মেয়ে

কারাগারে আত্মহত্যা করলেন ম্যাক্যাফি অ্যান্টিভাইরাসের উদ্ভাবক

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

কারাগারে আত্মহত্যা করলেন বিখ্যাত অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাক্যাফির উদ্ভাবক ও সফটওয়্যার প্রোকৌশলী জন ম্যাক্যাফি। কর ফাঁকির মামলায় স্পেনের আদালত তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়ার অনুমোদন দেয়ার পরই তিনি আত্মহত্যা করেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে ২৩ জুন স্পেনের একটি কারাগারে জন ম্যাক্যাফি আত্মহত্যা করেন।

ম্যাক্যাফির আইনজীবী জাভিয়ের ভিল্লালবা জানান, অ্যান্টিভাইরাসের সফটওয়্যার নির্মাতা জন ম্যাক্যাফি ৯ মাস ধরে কারাগারে ছিলেন। এতে তিনি হতাশার দিকে চলে যান। যা তাকে ফাঁসির দিকে নিয়ে যায়।

ম্যাক্যাফি ৮০ এর দশকে নিজ নামে ‘ম্যাক্যাফি’ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ২০১১ সালে আরেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনটেলের কাছে ম্যাক্যাফি বিক্রি করেন। এরপর থেকে তিনি আর কোনো ব্যবসায় জড়াননি।

যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী খামখেয়ালি আচরণের জন্য পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে কিউবাকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন ম্যাক্যাফি।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কর ফাঁকি দিয়েছেন, এ কথা নিজেই স্বীকার করেছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে তিনি বলেছিলেন, আদর্শিক কারণে আট বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কর দেন না তিনি। এরপর বিচার থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন তিনি। সেই থেকে একটি বিলাসবহুল তরীতেই জীবন-যাপন করছিলেন ম্যাক্যাফি। তার সঙ্গে থাকতেন স্ত্রী জেনিস ম্যাক্যাফি, দুজন নিরাপত্তা প্রহরী, সাতজন কর্মী ও তার চারটি কুকুর।

সিবিসি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের টেনিসি অঙ্গরাজ্যে ম্যাক্যাফির বিরুদ্ধে কর ফাঁকির মামলা হয়। এ ছাড়া নিউইয়র্কে তার বিরুদ্ধে আনা হয় ক্রিপ্টোকরেন্সি সংক্রান্ত প্রতারণার একটি অভিযোগ।

মৃত্যুর পর ম্যাক্যাফির আইনজীবী জাভিয়ার ভিল্লালবা বলেন, ম্যাক্যাফিকে কারাগারে আটকে রাখার কোনো কারণ ছিল না। স্পেনের নিষ্ঠুর ব্যবস্থার শিকার হয়েছেন তিনি।

গত মাসে স্পেনে আদালতে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন ম্যাক্যাফি। ওই সময় তিনি আদালতকে বলেন, তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দোষী প্রমাণিত হন তবে তাকে বাকি জীবন কারাগারেই থাকতে হবে।

স্পেনের পুলিশ জানায়, গত বছরের ৩ অক্টোবর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এই প্রতিষ্ঠাতা ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে ইস্তাম্বুলে যাচ্ছিলেন। তখন তাকে বার্সেলোনা বিমানবন্দরে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তার বিচার চলছিল স্পেনের আদালতে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, কিছুই খেতে পারছি না, চুলাও জ্বলছে না’

কারাগারে আত্মহত্যা করলেন ম্যাক্যাফি অ্যান্টিভাইরাসের উদ্ভাবক

আপডেট সময় ১২:১৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

কারাগারে আত্মহত্যা করলেন বিখ্যাত অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাক্যাফির উদ্ভাবক ও সফটওয়্যার প্রোকৌশলী জন ম্যাক্যাফি। কর ফাঁকির মামলায় স্পেনের আদালত তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়ার অনুমোদন দেয়ার পরই তিনি আত্মহত্যা করেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে ২৩ জুন স্পেনের একটি কারাগারে জন ম্যাক্যাফি আত্মহত্যা করেন।

ম্যাক্যাফির আইনজীবী জাভিয়ের ভিল্লালবা জানান, অ্যান্টিভাইরাসের সফটওয়্যার নির্মাতা জন ম্যাক্যাফি ৯ মাস ধরে কারাগারে ছিলেন। এতে তিনি হতাশার দিকে চলে যান। যা তাকে ফাঁসির দিকে নিয়ে যায়।

ম্যাক্যাফি ৮০ এর দশকে নিজ নামে ‘ম্যাক্যাফি’ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ২০১১ সালে আরেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনটেলের কাছে ম্যাক্যাফি বিক্রি করেন। এরপর থেকে তিনি আর কোনো ব্যবসায় জড়াননি।

যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী খামখেয়ালি আচরণের জন্য পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে কিউবাকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন ম্যাক্যাফি।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কর ফাঁকি দিয়েছেন, এ কথা নিজেই স্বীকার করেছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে তিনি বলেছিলেন, আদর্শিক কারণে আট বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কর দেন না তিনি। এরপর বিচার থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন তিনি। সেই থেকে একটি বিলাসবহুল তরীতেই জীবন-যাপন করছিলেন ম্যাক্যাফি। তার সঙ্গে থাকতেন স্ত্রী জেনিস ম্যাক্যাফি, দুজন নিরাপত্তা প্রহরী, সাতজন কর্মী ও তার চারটি কুকুর।

সিবিসি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের টেনিসি অঙ্গরাজ্যে ম্যাক্যাফির বিরুদ্ধে কর ফাঁকির মামলা হয়। এ ছাড়া নিউইয়র্কে তার বিরুদ্ধে আনা হয় ক্রিপ্টোকরেন্সি সংক্রান্ত প্রতারণার একটি অভিযোগ।

মৃত্যুর পর ম্যাক্যাফির আইনজীবী জাভিয়ার ভিল্লালবা বলেন, ম্যাক্যাফিকে কারাগারে আটকে রাখার কোনো কারণ ছিল না। স্পেনের নিষ্ঠুর ব্যবস্থার শিকার হয়েছেন তিনি।

গত মাসে স্পেনে আদালতে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন ম্যাক্যাফি। ওই সময় তিনি আদালতকে বলেন, তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দোষী প্রমাণিত হন তবে তাকে বাকি জীবন কারাগারেই থাকতে হবে।

স্পেনের পুলিশ জানায়, গত বছরের ৩ অক্টোবর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এই প্রতিষ্ঠাতা ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে ইস্তাম্বুলে যাচ্ছিলেন। তখন তাকে বার্সেলোনা বিমানবন্দরে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তার বিচার চলছিল স্পেনের আদালতে।