ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৩ ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ছাত্রদলের মানবিক বাংলাদেশ গড়ায় আপনাদের সহযোগিতা চাই : নজরুল ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় আমির হামজার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, কুশপুত্তলিকায় জুতার মালা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না আয়ারল্যান্ডও ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী

ফরজ নামাজের পর জান্নাত লাভের বিশেষ আমল

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মহাগ্রন্থ আল কোরআনের ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে মানব কল্যাণের অনন্য সব উপায়-উপকরণ। প্রতিটি আয়াত মুমিনের হৃদয়ে জাগায় স্রষ্টা প্রেম, বাজে পূত প্রেমের ব্যঞ্জনা। আয়াতুল কুরসি তেমনই একটি।

প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর কোরআনুল কারিমের মর্যাদাপূর্ণ আয়াত ‘আয়াতুল কুরসি’ পাঠ করা সুন্নাত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিত এ আমল করতেন।

পবিত্র এ আয়াতটি পরকালীন সফলতার বাতিঘর। হজরত উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত নবী করিম (সা.) বলেন, ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠকারী মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে পাবে জান্নাত- (সুনানে নাসায়ি : ৯৯১৮)।

যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ‘আয়াতুল কুরসি’ পড়ে, ওই ব্যক্তি ও জান্নাতের মাঝে এতোটুকু দূরত্ব থাকে যে, সে যেন শুধুমাত্র মৃত্যুবরণ করেনি বলেই (কবরে) জান্নাতের নেয়ামতগুলো উপভোগ করতে পারছে না।

এ আয়াত পাঠে পার্থিব নিরাপত্তাও রয়েছে। সহিহ বুখারির ঘটনা, একবার কিছু ফিতরার খাদ্যসামগ্রী নবী (সা.)-এর হাতে এলো। তিনি এগুলোর পাহারায় নিযুক্ত করলেন আবু হুরায়রা (রা.)কে। সজাগ দৃষ্টিতে পাহারা দিচ্ছেলেন তিনি। সময়ের পরিবর্তনে দিন শেষে রাত এলো।

আবু হুরায়রা (রা.) দেখলেন ফিতরার খাদ্যসামগ্রী থেকে এক লোক চুরি করছে। তিনি দৌড়ে তাকে ধরলেন। বললেন, ‘অসহায়ের খাবারে হাত দেয়ার সাহস কোথায় পেলে? দাঁড়াও। সকাল হোক। তোমাকে নবীজির বিচারের মুখোমুখি করব।’

চোর ভয়ে কাতর হয়ে বলল, ‘আমি খুব অসহায়। স্ত্রী-সন্তানের মুখে দেয়ার মতো কিছুই নেই। অভাবে পড়ে ভুল করেছি। ক্ষমা চাই। ওয়াদা করছি, আর কখনও চুরি করব না।’ চোরের কথায় তার মনে দয়া হল। ছেড়ে দিলেন তাকে।

রাত শেষে সকাল এলো। নবী (সা.) বললেন, ‘আবু হুরায়রা! তোমার বন্দির খবর কী? তিনি নবীজিকে বিস্তারিত বললেন।

নবীজি বললেন, ‘সে আবার আসবে।’ ঠিকই চোর পরের রাতে এলো। দয়ালু আবু হুরায়রা তাকে আবারও ছেড়ে দিলেন। সকালে নবীজি (সা.) তার থেকে রাতের গল্প শুনে বললেন, সাবধান থেক আবু হুরায়রা! সে আবার আসবে।’

প্রিয় নবীর কথা তো মিথ্যা হওয়ার নয়। সে আবার এলো। আবু হুরায়রা (রা.) এবার কঠোর। বললেন, ‘তুমি ধোঁকাবাজ, মিথ্যুক। দুইবার ওয়াদা ভেঙেছ। তোমাকে আর ছাড়ছি না।’ অবস্থা বেগতিক দেখে চোর বলল, ‘আমাকে ছেড়ে দিলে তোমাকে কল্যাণকর কিছু শেখাব।’

তিনি বললেন, ‘তা কী?’ চোর বলল, ‘প্রতিদিন আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমিও। সকাল পর্যন্ত তোমার নিরাপত্তায় আল্লাহ পাক ফেরেশতা নিযুক্ত করে দেবেন। রাত কাটাবে প্রভুর নিরাপত্তার চাদরে।’ আবু হুরায়রা (রা.) অনন্য এ জ্ঞানের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দিলেন।

সকাল হল। নবী (সা.) বন্দি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি রাতের পুরো ঘটনা শোনালেন। সব শুনে নবীজি বললেন, তুমি জান সে কে? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তখন নবী (সা.) বললেন, সে ইবলিশ। সে মিথ্যুক হলেও তোমাকে যা বলেছে তা পুরোপুরি সত্য। (সহিহ বুখারি : ২৩১১)

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৩ ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ছাত্রদলের

ফরজ নামাজের পর জান্নাত লাভের বিশেষ আমল

আপডেট সময় ১০:৩৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মহাগ্রন্থ আল কোরআনের ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে মানব কল্যাণের অনন্য সব উপায়-উপকরণ। প্রতিটি আয়াত মুমিনের হৃদয়ে জাগায় স্রষ্টা প্রেম, বাজে পূত প্রেমের ব্যঞ্জনা। আয়াতুল কুরসি তেমনই একটি।

প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর কোরআনুল কারিমের মর্যাদাপূর্ণ আয়াত ‘আয়াতুল কুরসি’ পাঠ করা সুন্নাত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিত এ আমল করতেন।

পবিত্র এ আয়াতটি পরকালীন সফলতার বাতিঘর। হজরত উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত নবী করিম (সা.) বলেন, ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠকারী মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে পাবে জান্নাত- (সুনানে নাসায়ি : ৯৯১৮)।

যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ‘আয়াতুল কুরসি’ পড়ে, ওই ব্যক্তি ও জান্নাতের মাঝে এতোটুকু দূরত্ব থাকে যে, সে যেন শুধুমাত্র মৃত্যুবরণ করেনি বলেই (কবরে) জান্নাতের নেয়ামতগুলো উপভোগ করতে পারছে না।

এ আয়াত পাঠে পার্থিব নিরাপত্তাও রয়েছে। সহিহ বুখারির ঘটনা, একবার কিছু ফিতরার খাদ্যসামগ্রী নবী (সা.)-এর হাতে এলো। তিনি এগুলোর পাহারায় নিযুক্ত করলেন আবু হুরায়রা (রা.)কে। সজাগ দৃষ্টিতে পাহারা দিচ্ছেলেন তিনি। সময়ের পরিবর্তনে দিন শেষে রাত এলো।

আবু হুরায়রা (রা.) দেখলেন ফিতরার খাদ্যসামগ্রী থেকে এক লোক চুরি করছে। তিনি দৌড়ে তাকে ধরলেন। বললেন, ‘অসহায়ের খাবারে হাত দেয়ার সাহস কোথায় পেলে? দাঁড়াও। সকাল হোক। তোমাকে নবীজির বিচারের মুখোমুখি করব।’

চোর ভয়ে কাতর হয়ে বলল, ‘আমি খুব অসহায়। স্ত্রী-সন্তানের মুখে দেয়ার মতো কিছুই নেই। অভাবে পড়ে ভুল করেছি। ক্ষমা চাই। ওয়াদা করছি, আর কখনও চুরি করব না।’ চোরের কথায় তার মনে দয়া হল। ছেড়ে দিলেন তাকে।

রাত শেষে সকাল এলো। নবী (সা.) বললেন, ‘আবু হুরায়রা! তোমার বন্দির খবর কী? তিনি নবীজিকে বিস্তারিত বললেন।

নবীজি বললেন, ‘সে আবার আসবে।’ ঠিকই চোর পরের রাতে এলো। দয়ালু আবু হুরায়রা তাকে আবারও ছেড়ে দিলেন। সকালে নবীজি (সা.) তার থেকে রাতের গল্প শুনে বললেন, সাবধান থেক আবু হুরায়রা! সে আবার আসবে।’

প্রিয় নবীর কথা তো মিথ্যা হওয়ার নয়। সে আবার এলো। আবু হুরায়রা (রা.) এবার কঠোর। বললেন, ‘তুমি ধোঁকাবাজ, মিথ্যুক। দুইবার ওয়াদা ভেঙেছ। তোমাকে আর ছাড়ছি না।’ অবস্থা বেগতিক দেখে চোর বলল, ‘আমাকে ছেড়ে দিলে তোমাকে কল্যাণকর কিছু শেখাব।’

তিনি বললেন, ‘তা কী?’ চোর বলল, ‘প্রতিদিন আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমিও। সকাল পর্যন্ত তোমার নিরাপত্তায় আল্লাহ পাক ফেরেশতা নিযুক্ত করে দেবেন। রাত কাটাবে প্রভুর নিরাপত্তার চাদরে।’ আবু হুরায়রা (রা.) অনন্য এ জ্ঞানের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দিলেন।

সকাল হল। নবী (সা.) বন্দি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি রাতের পুরো ঘটনা শোনালেন। সব শুনে নবীজি বললেন, তুমি জান সে কে? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তখন নবী (সা.) বললেন, সে ইবলিশ। সে মিথ্যুক হলেও তোমাকে যা বলেছে তা পুরোপুরি সত্য। (সহিহ বুখারি : ২৩১১)