ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যে ভাষায় কথা বলেন, তা রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয়: প্রতিমন্ত্রী পরীক্ষা দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিলেন জাইমা রহমান

গ্রেফতার-চার্জশিট এড়াতে হেফাজত নেতারা দ্বারে দ্বারে; কঠোর মনোভাব সরকারের

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গ্রেফতার ও মামলার চার্জশিট থেকে রক্ষা পেতে সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে আলোচিত সমালোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা। নিজেদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের সাথে আপোষ করার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে।

কিন্তু সরকারের কঠোর মনোভাবের কারণে ভণ্ডুল হয়ে যাচ্ছে হেফাজতে ইসলামের সেই আপোষ প্রস্তাব। হেফাজতে ইসলামের বর্তমান আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী অনুসারীদের পাশাপাশি আল্লামা আহমদ শফী অনুসারীরাও ২০১৩ সালের দায়ের হওয়া মামলার চার্জশিট থেকে নিজেদের বলয়ের নেতা কর্মীদের রক্ষার মিশনে নেমেছে।

আল্লামা আহমদ শফী অনুসারী হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মাঈনুদ্দীন রুহী বলেন, হেফাজতে ইসলামের নীরিহ কোন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার না করতে সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমরা গিয়ে কথা বলেছি। নিরীহ কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার না করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারী এক নেতা বলেন, সরকারের বিরোধীতা করে মাঠে টিকে থাকতে পারবে না তা বুঝে গেছে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্ব। তাই সরকারের সাথে আপোষের মাধ্যমে সমঝোতায় আসতে চায়। এ জন্য সরকারের এক প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক এক মন্ত্রীর মাধ্যমে সমঝোতার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সরকার হেফাজতের বিষয়ে এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তাই শেষ পর্যন্ত সমঝোতা নাও হতে পারে।

জানা যায়, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চালানো নাশকতার ঘটনায় শতাধিক মামলা দায়ের হয়েছে হেফাজতে ইসলামের নেতা কর্মীদের নামে। ২০১৩ সালে নাশকতার ঘটনায় দায়ের হওয়া প্রায় শত মামলাও ফের সচল করা হয়েছে। এ মামলাগুলোর চার্জশিট দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন শীর্ষ নেতাদের অনেকে। প্রতিদিনই প্রশাসনের অভিযানে অসংখ্য নেতা কর্মী গ্রেফতার হচ্ছেন। গ্রেফতার এড়াতে অনেক নেতাই চলে গেছেন আত্মগোপনে।

এমন পরিস্থিতিতে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সরকারের সাথে সমঝোতা করতে চায় হেফাজতে ইসলাম। সমঝোতা করার জন্য হেফাজতে ইসলামের আহবায়ক কমিটির মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদীসহ কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। বৈঠক করেছেন বর্তমান ও সাবেক দুই মন্ত্রীর সাথেও। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে চারটি প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে সরকারের কাছে। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী অনুসারীদের পাশাপাশি গণগ্রেফতার অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন আল্লামা শফী অনুসারী কয়েকজন নেতা।

এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের নেতা কর্মীদের রক্ষায় মাঠে নেমেছে শফী অনুসারীরা। এ গিয়ে গত রবিবার রাতে শফী অনুসারী শীর্ষ কয়েকজন নেতা দেখা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাথে। ওই বৈঠকে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করেন তারা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা

গ্রেফতার-চার্জশিট এড়াতে হেফাজত নেতারা দ্বারে দ্বারে; কঠোর মনোভাব সরকারের

আপডেট সময় ০৮:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ মে ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গ্রেফতার ও মামলার চার্জশিট থেকে রক্ষা পেতে সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে আলোচিত সমালোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা। নিজেদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের সাথে আপোষ করার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে।

কিন্তু সরকারের কঠোর মনোভাবের কারণে ভণ্ডুল হয়ে যাচ্ছে হেফাজতে ইসলামের সেই আপোষ প্রস্তাব। হেফাজতে ইসলামের বর্তমান আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী অনুসারীদের পাশাপাশি আল্লামা আহমদ শফী অনুসারীরাও ২০১৩ সালের দায়ের হওয়া মামলার চার্জশিট থেকে নিজেদের বলয়ের নেতা কর্মীদের রক্ষার মিশনে নেমেছে।

আল্লামা আহমদ শফী অনুসারী হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মাঈনুদ্দীন রুহী বলেন, হেফাজতে ইসলামের নীরিহ কোন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার না করতে সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমরা গিয়ে কথা বলেছি। নিরীহ কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার না করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারী এক নেতা বলেন, সরকারের বিরোধীতা করে মাঠে টিকে থাকতে পারবে না তা বুঝে গেছে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্ব। তাই সরকারের সাথে আপোষের মাধ্যমে সমঝোতায় আসতে চায়। এ জন্য সরকারের এক প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক এক মন্ত্রীর মাধ্যমে সমঝোতার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সরকার হেফাজতের বিষয়ে এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তাই শেষ পর্যন্ত সমঝোতা নাও হতে পারে।

জানা যায়, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চালানো নাশকতার ঘটনায় শতাধিক মামলা দায়ের হয়েছে হেফাজতে ইসলামের নেতা কর্মীদের নামে। ২০১৩ সালে নাশকতার ঘটনায় দায়ের হওয়া প্রায় শত মামলাও ফের সচল করা হয়েছে। এ মামলাগুলোর চার্জশিট দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন শীর্ষ নেতাদের অনেকে। প্রতিদিনই প্রশাসনের অভিযানে অসংখ্য নেতা কর্মী গ্রেফতার হচ্ছেন। গ্রেফতার এড়াতে অনেক নেতাই চলে গেছেন আত্মগোপনে।

এমন পরিস্থিতিতে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সরকারের সাথে সমঝোতা করতে চায় হেফাজতে ইসলাম। সমঝোতা করার জন্য হেফাজতে ইসলামের আহবায়ক কমিটির মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদীসহ কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। বৈঠক করেছেন বর্তমান ও সাবেক দুই মন্ত্রীর সাথেও। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে চারটি প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে সরকারের কাছে। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী অনুসারীদের পাশাপাশি গণগ্রেফতার অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন আল্লামা শফী অনুসারী কয়েকজন নেতা।

এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের নেতা কর্মীদের রক্ষায় মাঠে নেমেছে শফী অনুসারীরা। এ গিয়ে গত রবিবার রাতে শফী অনুসারী শীর্ষ কয়েকজন নেতা দেখা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাথে। ওই বৈঠকে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করেন তারা।