ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যে দল ইসরাইলের টাকায় চলে সেই দলে আমি থাকতে পারি না: রেজা কিবরিয়া নির্বাচনে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না, সবাই সহযোগিতা করলে শান্তিপূর্ণভাবে হয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘সবাইকেই তো দেখলাম, এবার জামায়াতকে দেখব’,বক্তব্যের অন্তর্নিহিত গোমর ফাঁস করলেন হামিম গোপালগঞ্জে মা-বাবাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা, দুই ছেলে গ্রেফতার আইসিসির রিপোর্টই ভাবতে বাধ্য করেছে, যে ভারতে ঝুঁকি আছে: আসিফ নজরুল বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২ জাস্টিস ফর হাদি, ইনশাআল্লাহ : মির্জা ফখরুল আলমগীর টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন

শিশুমৃত্যুর অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতালে ভাঙচুর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জরুরি বিভাগে ভাঙচুর করেছেন স্বজনরা। বুধবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে সদর মডেল থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সকে লাঞ্চিত করার অভিযোগে জরুরি বিভাগ থেকে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিলের বাবুল মিয়ার ছেলে আলভী এলাহী(১০) বুধবার আখাউড়া উপজেলার টানমান্দাইলে তার মামার বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে দুতলার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে যায় আলভী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সার্জারি বিভাগে ভর্তি হতে বলেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে যেতে বলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আলভী সার্জারি বিভাগে মারা যান।

আলভী মারা যাওয়ার পর তার স্বজনরা চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ এনে জরুরি বিভাগে হামলা করেন। এ সময় ভাঙচুর করার হয় জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষের কাঁচে ঘেরা বেষ্টনি। প্রাণে রক্ষা পায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এবিএম মুছা চৌধুরী।

পরে পুলিশ এসে জরুরী বিভাগে গেইট বন্ধ করে বিক্ষুব্ধদের আটক করে। আটকরা হলেন, আখাউড়া উপজেলার টান-মান্দাইল গ্রামের মুহাম্মদ শানু মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া(২৮), সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে সাব্বির(৩০) ও নবীনগর উপজেলার পদ্মপাড়া গ্রামের মুহাম্মদ আলীর ছেলে আলাউদ্দিন(২৬)।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এবিএম মুছা চৌধুরী জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় রোগীটি আসার পরই তার স্বজনদের জানানো হয়, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। দ্রুত চিকিৎসা দিয়ে সার্জারি বিভাগে পাঠানো হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর পর উত্তেজিত স্বজনরা আমাদের উপর হামলা করেন। এতে আমি রক্ষা পেলেও কাঁচের বেষ্টনি ভেঙে চুরমার করে দেয়া হয়েছে।

তবে মৃত আলভীর বাবা বাবুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, জরুরি বিভাগে আহত অবস্থায় নিয়ে আসা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সার্জারি বিভাগে ছেলেকে ভর্তি করার পর দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা পাচ্ছিল না আলভী। প্রায় এক ঘণ্টা ফেলে রাখা হয়েছে আহত আলভীকে। চিকিৎসার অবহেলার কারণে আলভীর মৃত্যু হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যে দল ইসরাইলের টাকায় চলে সেই দলে আমি থাকতে পারি না: রেজা কিবরিয়া

শিশুমৃত্যুর অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতালে ভাঙচুর

আপডেট সময় ০৫:২৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জরুরি বিভাগে ভাঙচুর করেছেন স্বজনরা। বুধবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে সদর মডেল থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সকে লাঞ্চিত করার অভিযোগে জরুরি বিভাগ থেকে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিলের বাবুল মিয়ার ছেলে আলভী এলাহী(১০) বুধবার আখাউড়া উপজেলার টানমান্দাইলে তার মামার বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে দুতলার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে যায় আলভী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সার্জারি বিভাগে ভর্তি হতে বলেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে যেতে বলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আলভী সার্জারি বিভাগে মারা যান।

আলভী মারা যাওয়ার পর তার স্বজনরা চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ এনে জরুরি বিভাগে হামলা করেন। এ সময় ভাঙচুর করার হয় জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষের কাঁচে ঘেরা বেষ্টনি। প্রাণে রক্ষা পায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এবিএম মুছা চৌধুরী।

পরে পুলিশ এসে জরুরী বিভাগে গেইট বন্ধ করে বিক্ষুব্ধদের আটক করে। আটকরা হলেন, আখাউড়া উপজেলার টান-মান্দাইল গ্রামের মুহাম্মদ শানু মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া(২৮), সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে সাব্বির(৩০) ও নবীনগর উপজেলার পদ্মপাড়া গ্রামের মুহাম্মদ আলীর ছেলে আলাউদ্দিন(২৬)।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এবিএম মুছা চৌধুরী জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় রোগীটি আসার পরই তার স্বজনদের জানানো হয়, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। দ্রুত চিকিৎসা দিয়ে সার্জারি বিভাগে পাঠানো হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর পর উত্তেজিত স্বজনরা আমাদের উপর হামলা করেন। এতে আমি রক্ষা পেলেও কাঁচের বেষ্টনি ভেঙে চুরমার করে দেয়া হয়েছে।

তবে মৃত আলভীর বাবা বাবুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, জরুরি বিভাগে আহত অবস্থায় নিয়ে আসা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সার্জারি বিভাগে ছেলেকে ভর্তি করার পর দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা পাচ্ছিল না আলভী। প্রায় এক ঘণ্টা ফেলে রাখা হয়েছে আহত আলভীকে। চিকিৎসার অবহেলার কারণে আলভীর মৃত্যু হয়েছে।