ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘অনুতপ্ত’ কুষ্টিয়ার এসপি, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচনে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য অনুতপ্ত হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম তানভীর আরাফাত।

সোমবার সকালে হাইকোর্টে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি আদালতে ক্ষমা চান। বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেন।

এসপি এস এম তানভীর আরাফাতের পক্ষে আদালতে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও আহমেদ ইশতিয়াক। আর প্রিজাইডিং কর্মকর্তার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক ও ইশরাত হাসান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাহেরুল ইসলাম।

লিখিত আবেদনে তানভীর আরাফাত বলেন, ‘বিচার বিভাগের জন্য আমার মনে সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই বিন্দুমাত্র অসম্মান দেখানোর কথা দূরে থাক, বরং বিচার বিভাগের দেয়া কাজে নিয়োজিত হতে পারলে নিজেকে সম্মানিত বোধ করি। এ ঘটনায় আমি মনের গভীর থেকে অনুতপ্ত। আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

এসপিকে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্ট বলেন, ‘পত্র-পত্রিকায় যা দেখলাম তা যদি কুষ্টিয়ার বাস্তব চরিত্র হয়, তবে তা হবে জাতির জন্য ভয়ংকর। এমন যাতে মানুষের মনে না হয় যে দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। দেশকে পুলিশি রাষ্ট্র বানাবেন না। জাতি উৎকণ্ঠিত, এটা নিরসনের দায়িত্ব আপনাদের।’

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচনে দায়িত্বরত এক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ‘দুর্ব্যবহারের’ ঘটনায় এসপি তানভীরকে গত ২০ জানুয়ারি তলব করে হাইকোর্ট।

তলব আদেশে হাইকোর্ট বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ও আইন অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রে বিচারিক দায়িত্ব পালন করছিলেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন হাসান। কিন্তু দায়িত্বরত একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ওই পুলিশ সুপার যে আচরণ করেছেন তা আদালত অবমাননার শামিল। উনার (এসপি) এই কর্মকাণ্ড শুধু বিচার প্রশাসনে হস্তক্ষেপই নয়; বরং পুরো বিচার বিভাগের প্রতি প্রচণ্ড আঘাতের শামিল। উনার এই কর্মকাণ্ডকে আমরা (আদালত) এড়িয়ে যেতে পারি না। এছাড়া এটাকে হালকাভাবে নেয়ারও সুযোগ নেই। উনি শুধু গুরুতর আদালত অবমাননাই করেননি, বিচার বিভাগের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করেছেন।’

ভোটকেন্দ্রের ওই ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে এসপি তানভীরকে স্বশরীরে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘অনুতপ্ত’ কুষ্টিয়ার এসপি, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

আপডেট সময় ০৫:২৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচনে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য অনুতপ্ত হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম তানভীর আরাফাত।

সোমবার সকালে হাইকোর্টে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি আদালতে ক্ষমা চান। বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেন।

এসপি এস এম তানভীর আরাফাতের পক্ষে আদালতে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও আহমেদ ইশতিয়াক। আর প্রিজাইডিং কর্মকর্তার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক ও ইশরাত হাসান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাহেরুল ইসলাম।

লিখিত আবেদনে তানভীর আরাফাত বলেন, ‘বিচার বিভাগের জন্য আমার মনে সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই বিন্দুমাত্র অসম্মান দেখানোর কথা দূরে থাক, বরং বিচার বিভাগের দেয়া কাজে নিয়োজিত হতে পারলে নিজেকে সম্মানিত বোধ করি। এ ঘটনায় আমি মনের গভীর থেকে অনুতপ্ত। আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

এসপিকে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্ট বলেন, ‘পত্র-পত্রিকায় যা দেখলাম তা যদি কুষ্টিয়ার বাস্তব চরিত্র হয়, তবে তা হবে জাতির জন্য ভয়ংকর। এমন যাতে মানুষের মনে না হয় যে দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। দেশকে পুলিশি রাষ্ট্র বানাবেন না। জাতি উৎকণ্ঠিত, এটা নিরসনের দায়িত্ব আপনাদের।’

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচনে দায়িত্বরত এক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ‘দুর্ব্যবহারের’ ঘটনায় এসপি তানভীরকে গত ২০ জানুয়ারি তলব করে হাইকোর্ট।

তলব আদেশে হাইকোর্ট বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ও আইন অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রে বিচারিক দায়িত্ব পালন করছিলেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন হাসান। কিন্তু দায়িত্বরত একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ওই পুলিশ সুপার যে আচরণ করেছেন তা আদালত অবমাননার শামিল। উনার (এসপি) এই কর্মকাণ্ড শুধু বিচার প্রশাসনে হস্তক্ষেপই নয়; বরং পুরো বিচার বিভাগের প্রতি প্রচণ্ড আঘাতের শামিল। উনার এই কর্মকাণ্ডকে আমরা (আদালত) এড়িয়ে যেতে পারি না। এছাড়া এটাকে হালকাভাবে নেয়ারও সুযোগ নেই। উনি শুধু গুরুতর আদালত অবমাননাই করেননি, বিচার বিভাগের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করেছেন।’

ভোটকেন্দ্রের ওই ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে এসপি তানভীরকে স্বশরীরে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন।