ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমানকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিঠি, অংশীদারিত্ব জোরদারে প্রতিশ্রুতি ১৭ বছর পর জুতা পরলেন বিএনপি ভক্ত সুরুজ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ইফতার-সেহরির ব্যবস্থা করলেন জাইমা রহমান ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছাড়া আ.লীগ কার্যালয় খোলার সাহস পেত না: নাহিদ ইসলাম রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে ফুটবলার ওজিলের গাড়িবহর বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত সংস্কারের তাগিদ বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর সফল রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রয়োজন: মির্জা ফখরুল আমরা শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করব না : ববি হাজ্জাজ সমঝোতায় নেওয়া অর্থ চাঁদা নয়, জোর করলে তবেই চাঁদা: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় বিএনপিকর্মীর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ

প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, তদন্তের নির্দেশ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কারণে অনুমোদন না দিয়ে ফেরত দেয়া হয়েছে ‘কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ স্থাপন প্রকল্পটি। সেই সঙ্গে দেরি হওয়ার কারণসহ প্রকল্পে সার্বিক দিক দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয় প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব। তিন বছরের প্রকল্প বাস্তবায়নে কেন ১১ বছর সময় লাগবে তা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। সেই সঙ্গে করোনার ভ্যাকসিন ক্রয়সহ ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গণভবন থেকে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। তিনি জানান, মেয়াদ শেষ হলেও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৫৫ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি আরও কম। অর্থাৎ ৩৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এখন আবার নতুন করে বাড়ানো হচ্ছে ব্যয় ও মেয়াদ। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ২৭৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়নেরর লক্ষ্য ধরে ৬ মার্চ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় একনেক। এরপর প্রকল্পের মেয়াদ প্রথম দফায় ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ব্যয় বাড়িয়ে মোট ৬১১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত (তিন বছর বৃদ্ধি) মেয়াদ বৃদ্ধি করে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন করা হয়। এই প্রস্তাব ২০১৮ সালের ২১ জুন একনেকে অনুমোদন পায়। পাশাপাশি ২০১৯ সালের জুনে প্রকল্পটির আন্তঃখাত সমন্বয় করা হয়।

সূত্র জানায়, বর্তমানে দ্বিতীয় সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৭৪২ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করে প্রস্তাব পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে। এর ওপর গত বছরের ১২ মার্চ প্রথম পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুনর্গঠিত ডিপিপিতে প্রথম পিইসি সভার সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে পালন না করায় গত বছরের ২৬ আগস্ট প্রকল্পটির ওপর দ্বিতীয় পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে এখন মোট ৬৮২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় একনেক বৈঠকে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রকল্পটির কাজের গতি সন্তোষজনক নয়। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত অসন্তুষ্টি এবং বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছেন এই ধরনের প্রকল্প গ্রহণযোগ্য নয়। এমন ধরনের প্রকল্প আমরা নেব না। আইএমইডির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তদন্ত করতে হবে। আদ্যোপান্ত, আর্থিক বৈষয়িক এবং ম্যাটেরিয়াল সব বিষয় দেখতে হবে। দরকার হলে যে কোনো সংস্থার সহায়তা নিতে পারে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দুই-এক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ জারি হলেই আমরা তদন্তের কাজ শুরু করবো। প্রকৃত চিত্র প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করার পর গণমাধ্যমের সামনেও তুলে ধরা হবে। এ প্রকল্পটি একটি কেসস্টাডি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

তারেক রহমানকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিঠি, অংশীদারিত্ব জোরদারে প্রতিশ্রুতি

প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, তদন্তের নির্দেশ

আপডেট সময় ১১:২৪:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কারণে অনুমোদন না দিয়ে ফেরত দেয়া হয়েছে ‘কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ স্থাপন প্রকল্পটি। সেই সঙ্গে দেরি হওয়ার কারণসহ প্রকল্পে সার্বিক দিক দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয় প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব। তিন বছরের প্রকল্প বাস্তবায়নে কেন ১১ বছর সময় লাগবে তা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। সেই সঙ্গে করোনার ভ্যাকসিন ক্রয়সহ ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গণভবন থেকে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। তিনি জানান, মেয়াদ শেষ হলেও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৫৫ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি আরও কম। অর্থাৎ ৩৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এখন আবার নতুন করে বাড়ানো হচ্ছে ব্যয় ও মেয়াদ। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ২৭৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়নেরর লক্ষ্য ধরে ৬ মার্চ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় একনেক। এরপর প্রকল্পের মেয়াদ প্রথম দফায় ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ব্যয় বাড়িয়ে মোট ৬১১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত (তিন বছর বৃদ্ধি) মেয়াদ বৃদ্ধি করে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন করা হয়। এই প্রস্তাব ২০১৮ সালের ২১ জুন একনেকে অনুমোদন পায়। পাশাপাশি ২০১৯ সালের জুনে প্রকল্পটির আন্তঃখাত সমন্বয় করা হয়।

সূত্র জানায়, বর্তমানে দ্বিতীয় সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৭৪২ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করে প্রস্তাব পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে। এর ওপর গত বছরের ১২ মার্চ প্রথম পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুনর্গঠিত ডিপিপিতে প্রথম পিইসি সভার সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে পালন না করায় গত বছরের ২৬ আগস্ট প্রকল্পটির ওপর দ্বিতীয় পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে এখন মোট ৬৮২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় একনেক বৈঠকে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রকল্পটির কাজের গতি সন্তোষজনক নয়। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত অসন্তুষ্টি এবং বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছেন এই ধরনের প্রকল্প গ্রহণযোগ্য নয়। এমন ধরনের প্রকল্প আমরা নেব না। আইএমইডির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তদন্ত করতে হবে। আদ্যোপান্ত, আর্থিক বৈষয়িক এবং ম্যাটেরিয়াল সব বিষয় দেখতে হবে। দরকার হলে যে কোনো সংস্থার সহায়তা নিতে পারে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দুই-এক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ জারি হলেই আমরা তদন্তের কাজ শুরু করবো। প্রকৃত চিত্র প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করার পর গণমাধ্যমের সামনেও তুলে ধরা হবে। এ প্রকল্পটি একটি কেসস্টাডি হিসেবে দেখা হচ্ছে।