ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

অর্থের অভাবে মাটিচাপা দেয়া হল দুর্ঘটনায় নিহত সেই ৬ জনকে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অর্থের অভাবে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত টাঙ্গাইলের নাগরপুরের একটি হিন্দু পরিবারের ছয় সদস্যকে সৎকার না করে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ভাদ্রা গ্রামে নিহতদের নিজ বাড়ির আঙিনায় মাটিচাপা দেয়া হয়েছে।

নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের হরে কৃষ্ণ বাদ্যকার (৫৫), তার ছেলে গোবিন্দ বাদ্যকার (২৮), গোবিন্দর স্ত্রী ববিতা বাদ্যকার (২৫), মেয়ে রাধে বাদ্যকার (৪), চাচি খুশি বাদ্যকার (৫২) ও চাচাতো ভাই রাম প্রসাদ বাদ্যকার (৩০)। একই পরিবারের শিশু ও নারীসহ ছয় সদস্য নিহতের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ইউপি সদস্য মো. বেল্লাল সরদার জানান, নিহতের পরিবারে হরে কৃষ্ণ বাদ্যকারের স্ত্রী ঝর্ণা বাদ্যকার এবং নিহত দুই ভাইয়ের স্ত্রী ছাড়া আর কেউ নেই। তারা খুবই দরিদ্র ও অসহায়। একসঙ্গে ৬টি লাশ দাহ করতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। এত টাকা ওই পরিবারের পক্ষ থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়।

তাই সবার সিদ্ধান্তে লাশগুলো সকালে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে। তবে নিহতের স্বজনরা যদি দাহ করার দাবি জানাতেন তাহলে আমাদের সহযোগিতায় লাশগুলো দাহ করা হতো।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে হরে কৃষ্ণ বাদ্যকারের পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান দেয়া হবে। এছাড়াও ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে শনিবার সকালে লাশগুলো মাটিচাপা দেয়ার ঘণ্টাখানেক পর জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিহতদের বাড়ি পরিদর্শন করে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুল ইসলাম, নাগরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর প্রমুখ।

এ বিষয়ে নাগরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে হরে কৃষ্ণের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, চাচাতো ভাই রাম প্রসাদ বাদ্যকারের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

তবে অর্থের অভাবে তাদের মাটিচাপা দেয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না। আর এ বিষয়ে তাকে কেউ অবগত করেননি। যদি নিহতের স্বজনরা কেউ তাকে অবগত করতেন তাহলে অবশ্যই প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হতো।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

অর্থের অভাবে মাটিচাপা দেয়া হল দুর্ঘটনায় নিহত সেই ৬ জনকে

আপডেট সময় ১০:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অর্থের অভাবে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত টাঙ্গাইলের নাগরপুরের একটি হিন্দু পরিবারের ছয় সদস্যকে সৎকার না করে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ভাদ্রা গ্রামে নিহতদের নিজ বাড়ির আঙিনায় মাটিচাপা দেয়া হয়েছে।

নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের হরে কৃষ্ণ বাদ্যকার (৫৫), তার ছেলে গোবিন্দ বাদ্যকার (২৮), গোবিন্দর স্ত্রী ববিতা বাদ্যকার (২৫), মেয়ে রাধে বাদ্যকার (৪), চাচি খুশি বাদ্যকার (৫২) ও চাচাতো ভাই রাম প্রসাদ বাদ্যকার (৩০)। একই পরিবারের শিশু ও নারীসহ ছয় সদস্য নিহতের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ইউপি সদস্য মো. বেল্লাল সরদার জানান, নিহতের পরিবারে হরে কৃষ্ণ বাদ্যকারের স্ত্রী ঝর্ণা বাদ্যকার এবং নিহত দুই ভাইয়ের স্ত্রী ছাড়া আর কেউ নেই। তারা খুবই দরিদ্র ও অসহায়। একসঙ্গে ৬টি লাশ দাহ করতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। এত টাকা ওই পরিবারের পক্ষ থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়।

তাই সবার সিদ্ধান্তে লাশগুলো সকালে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে। তবে নিহতের স্বজনরা যদি দাহ করার দাবি জানাতেন তাহলে আমাদের সহযোগিতায় লাশগুলো দাহ করা হতো।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে হরে কৃষ্ণ বাদ্যকারের পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান দেয়া হবে। এছাড়াও ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে শনিবার সকালে লাশগুলো মাটিচাপা দেয়ার ঘণ্টাখানেক পর জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিহতদের বাড়ি পরিদর্শন করে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুল ইসলাম, নাগরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর প্রমুখ।

এ বিষয়ে নাগরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে হরে কৃষ্ণের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, চাচাতো ভাই রাম প্রসাদ বাদ্যকারের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

তবে অর্থের অভাবে তাদের মাটিচাপা দেয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না। আর এ বিষয়ে তাকে কেউ অবগত করেননি। যদি নিহতের স্বজনরা কেউ তাকে অবগত করতেন তাহলে অবশ্যই প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হতো।