ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার জাতিগত নিধন চালাচ্ছে: জাতিসংঘ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর পদ্ধতিগতভাবে জাতিগত নিধন অভিযান চালানোর জন্য মিয়ানমারের কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান জায়েদ রাদ আল হোসেইন। সোমবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) প্রধান বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে মানবাধিকারবিষয়ক তদন্তকারীদের রাখাইনে ঢুকতে দিচ্ছে না।

তবে পরিস্থিতি দেখে এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে যে, সেখানে সুস্পষ্টভাবে জাতিগত নিধন অভিযান চলছে। গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সীমান্তরক্ষী পুলিশের (বিজিপি) ওপর হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা। এ হামলার ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়। এর মধ্যে ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর ও বাকিরা আরসার সদস্য। এরপর মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী রাখাইনে বিতাড়ন অভিযান শুরু করে। তারা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও তাদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, সেনা অভিযানে রাখাইনে এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আর প্রাণ বাঁচানোর জন্য গত দুই সপ্তাহে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ইউএনএইচআরসি প্রধান জায়েদ বলেন, মিয়ানমারের এ অভিযান… পরিষ্কারভাবে বাড়াবাড়ি এবং আন্তর্জাতিক আইনের মূল নীতি অনুসরণ না করেই এটি চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা প্রাপ্ত একাধিক প্রতিবেদন এবং স্যাটেলাইট ছবি থেকে জানতে পেরেছি, নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় জঙ্গিরা রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে আগুন দিচ্ছে। তারা পলায়নরত মানুষকে গুলিসহ ব্যাপকহারে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি। ইউএনএইচআরসি বলেন, চলমান সেনা অভিযান বন্ধ, অপরাধে জড়িত সবাইকে বিচার করতে এবং রোহিঙ্গা জনগণের ওপর বৈষম্যের অবসান করতে আমি মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

হত্যা-নির্যাতন থেকে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে সীমান্তে মাইন পুঁতে রাখার ঘটনার কথা জেনে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন বলেও জানান তিনি। যেসব রোহিঙ্গা শরণার্থী সহিংসতার ভয়ে পালাচ্ছে তাদের রাখাইনে ফিরতে হলে জাতীয়তার প্রমাণপত্র দেখাতে বলে মিয়ানমার সরকার যে অফিসিয়াল বিবৃতি দিয়েছে তারও সমালোচনা করেন জায়েদ।

১৯৬২ সাল থেকে নাগরিকত্বসহ রোহিঙ্গাদের অধিকার ব্যাপকহারে হরণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রমাণপত্রবিষয়ক ঘোষণা জোর করে তাড়িয়ে দেয়া বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নস্যাৎ করা ছাড়া আর কিছু নয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার জাতিগত নিধন চালাচ্ছে: জাতিসংঘ

আপডেট সময় ০৫:৫৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর পদ্ধতিগতভাবে জাতিগত নিধন অভিযান চালানোর জন্য মিয়ানমারের কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান জায়েদ রাদ আল হোসেইন। সোমবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) প্রধান বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে মানবাধিকারবিষয়ক তদন্তকারীদের রাখাইনে ঢুকতে দিচ্ছে না।

তবে পরিস্থিতি দেখে এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে যে, সেখানে সুস্পষ্টভাবে জাতিগত নিধন অভিযান চলছে। গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সীমান্তরক্ষী পুলিশের (বিজিপি) ওপর হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা। এ হামলার ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়। এর মধ্যে ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর ও বাকিরা আরসার সদস্য। এরপর মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী রাখাইনে বিতাড়ন অভিযান শুরু করে। তারা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও তাদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, সেনা অভিযানে রাখাইনে এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আর প্রাণ বাঁচানোর জন্য গত দুই সপ্তাহে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ইউএনএইচআরসি প্রধান জায়েদ বলেন, মিয়ানমারের এ অভিযান… পরিষ্কারভাবে বাড়াবাড়ি এবং আন্তর্জাতিক আইনের মূল নীতি অনুসরণ না করেই এটি চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা প্রাপ্ত একাধিক প্রতিবেদন এবং স্যাটেলাইট ছবি থেকে জানতে পেরেছি, নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় জঙ্গিরা রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে আগুন দিচ্ছে। তারা পলায়নরত মানুষকে গুলিসহ ব্যাপকহারে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি। ইউএনএইচআরসি বলেন, চলমান সেনা অভিযান বন্ধ, অপরাধে জড়িত সবাইকে বিচার করতে এবং রোহিঙ্গা জনগণের ওপর বৈষম্যের অবসান করতে আমি মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

হত্যা-নির্যাতন থেকে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে সীমান্তে মাইন পুঁতে রাখার ঘটনার কথা জেনে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন বলেও জানান তিনি। যেসব রোহিঙ্গা শরণার্থী সহিংসতার ভয়ে পালাচ্ছে তাদের রাখাইনে ফিরতে হলে জাতীয়তার প্রমাণপত্র দেখাতে বলে মিয়ানমার সরকার যে অফিসিয়াল বিবৃতি দিয়েছে তারও সমালোচনা করেন জায়েদ।

১৯৬২ সাল থেকে নাগরিকত্বসহ রোহিঙ্গাদের অধিকার ব্যাপকহারে হরণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রমাণপত্রবিষয়ক ঘোষণা জোর করে তাড়িয়ে দেয়া বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নস্যাৎ করা ছাড়া আর কিছু নয়।