ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাটি খুঁড়ে অজ্ঞাত মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হেফাজত আমিরের দোয়া নিলেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘পরিবারের সুখ শান্তিকে তছনছ করে দিয়েছি’: মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপি নেত্রী যিশুর মূর্তি ভাঙচুর ইসরাইলি সেনার, বিশ্বজুড়ে তোলপাড় নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে উদ্বেগের কথা জানালেন হান্নান মাসুদ কাগজপত্র থাকলে সৌদিতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ ১৮টি দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি হয়েছে: নুরুল হক

না ফেরার দেশে চলে গেলেন কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

‘ভগবানের গুপ্তচর মৃত্যু এসে বাঁধুক ঘর/ ছন্দে, আমি কবিতা ছাড়ব না!’ এমনই লেখনি উস্কে দিয়েছিল বাঙালির আবেগকে। ৮৭ বছর বয়সে থেমে গেলো এই কলম।

না ফেরার দেশে চলে গেলেন কবি আলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত।

বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর, অলোকরঞ্জনের মৃত্যুতে ফের নিঃস্ব হলো বাঙালির আরেক অধ্যায়। মঙ্গলবার জার্মানিতে নিজ বাসভবনেই মৃত্যু হয় কবি আলোকরঞ্জন দাশগুপ্তর স্থানীয় সময় রাত নটা নাগাদ।

বেশ কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত করেছেন স্ত্রী এলিজাবেথ।

১৯৩৩ সালের ৬ অক্টোবর কলকাতায় জন্ম অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের। শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা শেষ করে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে সাহিত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন তিনি। ভারতীয় কবিতার শব্দমালা নিয়ে পিএইচডি করেছিলেন অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত।

কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্যবিভাগ থেকে শুরু কবির কর্মজীবন। বহু জার্মান কবিতা তিনি বাংলায় অনুবাদ করেছেন, বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতির ভাঁড়ারকে আরও সমৃদ্ধ করে শেষে হিটলারের দেশে তিনি পৌঁছে দিয়েছিলেন বাংলা কবিতার একের পর এক অনুবাদ।

এরপর জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতে গিয়েছিলেন অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত। বাংলা-জার্মান সাহিত্যের মেলবন্ধনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য, এই কর্মকাণ্ডের জন্য জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে ‘গ্যেটে’ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন তিনি।

এরপর তিনি পাকাপাকিভাবে গত কয়েকদশক ধরে জার্মানির বাসিন্দা হলেও বাংলার এবং বাঙালির সঙ্গে নাড়ির টান ছিন্ন হয়নি।

১৯৯২ সালে ‘মরমী কারাত’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তাঁকে সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। জীবদ্দশায় প্রায় ২০টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের। পঞ্চাশের দশকে বাংলাকাব্য স্বকীয়তা এনেছিলেন যে হাতেগোনা কয়েকজন, তাঁরমধ্যে অন্যতম অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত।

তাঁর কাব্যচেতনা তরুণদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে, নবীন প্রজন্মকে বরাবর বাংলা সাহিত্য নিয়ে কাজ করতে উত্সাহ দিয়েছেন কবি।

‘আমি তো এক শখের নিছক শব্দ ব্যবসায়ী/ আনন্দের ক্লান্তি আনে আমার চোখে ঘুম’ কবির কথা টেনেই তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে হচ্ছে আনন্দের ক্লান্তি নিয়ে চিরঘুম না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন তিনি।

তবে বাঙালির মননে তাঁর স্থান চিরস্থায়ী। সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে বাংলা সাহিত্যে নিজের স্থান পাকা করে গেলেন অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত। তার মৃত্যুতে শোকাহত বাঙালি কবি সাহিত্যিকসহ কলকাতার সাহিত্যপ্রেমীরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মাটি খুঁড়ে অজ্ঞাত মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

না ফেরার দেশে চলে গেলেন কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত

আপডেট সময় ১২:২৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

‘ভগবানের গুপ্তচর মৃত্যু এসে বাঁধুক ঘর/ ছন্দে, আমি কবিতা ছাড়ব না!’ এমনই লেখনি উস্কে দিয়েছিল বাঙালির আবেগকে। ৮৭ বছর বয়সে থেমে গেলো এই কলম।

না ফেরার দেশে চলে গেলেন কবি আলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত।

বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর, অলোকরঞ্জনের মৃত্যুতে ফের নিঃস্ব হলো বাঙালির আরেক অধ্যায়। মঙ্গলবার জার্মানিতে নিজ বাসভবনেই মৃত্যু হয় কবি আলোকরঞ্জন দাশগুপ্তর স্থানীয় সময় রাত নটা নাগাদ।

বেশ কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত করেছেন স্ত্রী এলিজাবেথ।

১৯৩৩ সালের ৬ অক্টোবর কলকাতায় জন্ম অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের। শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা শেষ করে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে সাহিত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন তিনি। ভারতীয় কবিতার শব্দমালা নিয়ে পিএইচডি করেছিলেন অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত।

কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্যবিভাগ থেকে শুরু কবির কর্মজীবন। বহু জার্মান কবিতা তিনি বাংলায় অনুবাদ করেছেন, বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতির ভাঁড়ারকে আরও সমৃদ্ধ করে শেষে হিটলারের দেশে তিনি পৌঁছে দিয়েছিলেন বাংলা কবিতার একের পর এক অনুবাদ।

এরপর জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতে গিয়েছিলেন অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত। বাংলা-জার্মান সাহিত্যের মেলবন্ধনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য, এই কর্মকাণ্ডের জন্য জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে ‘গ্যেটে’ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন তিনি।

এরপর তিনি পাকাপাকিভাবে গত কয়েকদশক ধরে জার্মানির বাসিন্দা হলেও বাংলার এবং বাঙালির সঙ্গে নাড়ির টান ছিন্ন হয়নি।

১৯৯২ সালে ‘মরমী কারাত’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তাঁকে সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। জীবদ্দশায় প্রায় ২০টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের। পঞ্চাশের দশকে বাংলাকাব্য স্বকীয়তা এনেছিলেন যে হাতেগোনা কয়েকজন, তাঁরমধ্যে অন্যতম অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত।

তাঁর কাব্যচেতনা তরুণদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে, নবীন প্রজন্মকে বরাবর বাংলা সাহিত্য নিয়ে কাজ করতে উত্সাহ দিয়েছেন কবি।

‘আমি তো এক শখের নিছক শব্দ ব্যবসায়ী/ আনন্দের ক্লান্তি আনে আমার চোখে ঘুম’ কবির কথা টেনেই তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে হচ্ছে আনন্দের ক্লান্তি নিয়ে চিরঘুম না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন তিনি।

তবে বাঙালির মননে তাঁর স্থান চিরস্থায়ী। সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে বাংলা সাহিত্যে নিজের স্থান পাকা করে গেলেন অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত। তার মৃত্যুতে শোকাহত বাঙালি কবি সাহিত্যিকসহ কলকাতার সাহিত্যপ্রেমীরা।