ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

চট্টগ্রামে বেসামাল কিশোর গ্যাং

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রাম নগরী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দুই শতাধিক কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচশর বেশি সদস্য। যাদের পেছনে রয়েছেন অর্ধশতাধিক কথিত প্রভাবশালী ‘বড় ভাই’। অভিযোগ রয়েছে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত কিংবা টুনকো বিষয়ে প্রায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। অপ্রতিরোধ্য কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ দমনে কার্যত ব্যর্থ হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের প্রশাসন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘কিশোর অপরাধ দমনে কাজ করছে পুলিশ। তবে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, দমন কিংবা প্রতিরোধ যাই বলি, সেটি সবার সহযোগিতা নিয়ে করতে হবে। পরস্পর সহযোগিতা ছাড়া কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না।’ সিএমপির একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ওয়ার্ড এবং থানা পর্যায়ের নেতাদের প্রশ্রয় পেয়ে কিশোর অপরাধীরা অপ্রতিরোধ্য। এসব শিশু কিশোর মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে, মোবাইল চুরি, ছিনতাই, পকেটমারসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এমনকি এদের হাতে খুন হচ্ছে নিয়মিত। এরই মধ্যে ১৬ থানার ১৪৫ বিট কর্মকর্তাদের কিশোর গ্যাং ও তাদের কথিত বড় ভাইদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর ১৬ থানা এলাকায় দুই শতাধিক কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচশর বেশি সদস্য সক্রিয় রয়েছে। অপরাধে জড়িয়ে পড়া এসব কিশোরদের মধ্যে দরিদ্র পরিবারের থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তের সন্তানরাও রয়েছে। এমনকি বাদ যায়নি পথ শিশুরাও। বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে চলছে তাদের অপরাধযজ্ঞ। যার পেছন থেকে নিয়ন্ত্রণ করে কথিত ‘বড় ভাই’। অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোররা রাজনৈতিক কথিত বড় ভাইয়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। কথিত বড় ভাইদের মদদে এসব তারা এলাকায় ‘ধরা কে করছে সরাজ্ঞান’। নগরীতে কথিত বড় ভাই রয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন। কথিত বড় ভাইদের মধ্যে রয়েছেন- চকবাজারের নুর মোস্তাফা টিনু, রবিউল ইসলাম রাজু, চকবাজার-পাঁচলাইশের সাদ্দাম হোসেন ইভান, বহদ্দারহাটের এরশাল, এসকান্দার, আগ্রাবাদ ও ডবলমুরিংয়ের মোস্তাফা কামাল, জহির উদ্দিন বাবর, এস এম পারভেজ, সুমন ওরফে দাঁতলা সুমন, সদরঘাটের রাজন ওরফে রাজু, চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকার শাহ আলম, জামতলী বস্তির হারুন ও আলো, বায়েজিদ এলাকার মোহাম্মদ দুলাল প্রকাশ লাল দুলাল, মো. জাবেদ প্রকাশ ডিস জাবেদ, মফিজ আলম প্রকাশ বাংলা মফিজ, সোহেল প্রকাশ গুটি সোহেল, সালাউদ্দিন অন্যতম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামে বেসামাল কিশোর গ্যাং

আপডেট সময় ১১:৫০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রাম নগরী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দুই শতাধিক কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচশর বেশি সদস্য। যাদের পেছনে রয়েছেন অর্ধশতাধিক কথিত প্রভাবশালী ‘বড় ভাই’। অভিযোগ রয়েছে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত কিংবা টুনকো বিষয়ে প্রায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। অপ্রতিরোধ্য কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ দমনে কার্যত ব্যর্থ হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের প্রশাসন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘কিশোর অপরাধ দমনে কাজ করছে পুলিশ। তবে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, দমন কিংবা প্রতিরোধ যাই বলি, সেটি সবার সহযোগিতা নিয়ে করতে হবে। পরস্পর সহযোগিতা ছাড়া কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না।’ সিএমপির একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ওয়ার্ড এবং থানা পর্যায়ের নেতাদের প্রশ্রয় পেয়ে কিশোর অপরাধীরা অপ্রতিরোধ্য। এসব শিশু কিশোর মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে, মোবাইল চুরি, ছিনতাই, পকেটমারসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এমনকি এদের হাতে খুন হচ্ছে নিয়মিত। এরই মধ্যে ১৬ থানার ১৪৫ বিট কর্মকর্তাদের কিশোর গ্যাং ও তাদের কথিত বড় ভাইদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর ১৬ থানা এলাকায় দুই শতাধিক কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচশর বেশি সদস্য সক্রিয় রয়েছে। অপরাধে জড়িয়ে পড়া এসব কিশোরদের মধ্যে দরিদ্র পরিবারের থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তের সন্তানরাও রয়েছে। এমনকি বাদ যায়নি পথ শিশুরাও। বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে চলছে তাদের অপরাধযজ্ঞ। যার পেছন থেকে নিয়ন্ত্রণ করে কথিত ‘বড় ভাই’। অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোররা রাজনৈতিক কথিত বড় ভাইয়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। কথিত বড় ভাইদের মদদে এসব তারা এলাকায় ‘ধরা কে করছে সরাজ্ঞান’। নগরীতে কথিত বড় ভাই রয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন। কথিত বড় ভাইদের মধ্যে রয়েছেন- চকবাজারের নুর মোস্তাফা টিনু, রবিউল ইসলাম রাজু, চকবাজার-পাঁচলাইশের সাদ্দাম হোসেন ইভান, বহদ্দারহাটের এরশাল, এসকান্দার, আগ্রাবাদ ও ডবলমুরিংয়ের মোস্তাফা কামাল, জহির উদ্দিন বাবর, এস এম পারভেজ, সুমন ওরফে দাঁতলা সুমন, সদরঘাটের রাজন ওরফে রাজু, চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকার শাহ আলম, জামতলী বস্তির হারুন ও আলো, বায়েজিদ এলাকার মোহাম্মদ দুলাল প্রকাশ লাল দুলাল, মো. জাবেদ প্রকাশ ডিস জাবেদ, মফিজ আলম প্রকাশ বাংলা মফিজ, সোহেল প্রকাশ গুটি সোহেল, সালাউদ্দিন অন্যতম।