ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

রাস্তায় পড়ে মারাই গেলেন মুয়াজ্জিন, ডাকলেও ধরেননি কেউ!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মসজিদের মুয়াজ্জিনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে রাস্তায় তিনি দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকলেও কেউ তার পাশে যায়নি করোনার ভয়ে। আশপাশের লোকজনকে ডাকলেও করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে কেউ এগিয়ে আসেননি।

জানা গেছে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে ছিল শত শত মানুষের ভিড়। বিদেশ গমন্নেছুদের করোনা পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন চলছিল তখন। এ সময় অদূরে কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় পড়েছিলেন সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয় মসজিদের মুয়াজ্জিন মাওলানা সুলতান আহমদ (৫০)।

রোববার জোহরের আযানের পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত রাস্তায় পড়েছিলেন তিনি। আশপাশের লোকজনকে ডেকেও ছিলেন কয়েকবার, কিন্তু করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে কেউ এগিয়ে আসেননি। এমনকি প্রথমে সিভিল সার্জন অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীও এগিয়ে আসেননি।

পরে সিভিল সার্জন অফিসের নিরাপত্তাকর্মী সুশীল মোহন্ত কয়েকজনের সহায়তায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান তাকে। সিএনজি অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নেয়া হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ওসমানী হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মাওলানা সুলতান আহমদ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনেকক্ষণ সময় মাওলানা সুলতান কার্যালয়ের সামনে পড়ে থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে বিদেশ গমন্নেছুদের কেউও সহায়তা করতে যাননি।

মাওলানা সুলতান আহমদ সিভিল সার্জন অফিসের প্রায় ২০-২২ বছর ধরে মাওলানা সুলতান মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে রয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ রোগে ভুগছিলেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক মাওলানা সুলতানের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায়। তিনি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কোয়ার্টারে থাকতেন আর পরিবারের সদস্যরা থাকেন নেত্রকোনায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

The Daily Akash

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

রাস্তায় পড়ে মারাই গেলেন মুয়াজ্জিন, ডাকলেও ধরেননি কেউ!

আপডেট সময় ০৮:০৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মসজিদের মুয়াজ্জিনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে রাস্তায় তিনি দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকলেও কেউ তার পাশে যায়নি করোনার ভয়ে। আশপাশের লোকজনকে ডাকলেও করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে কেউ এগিয়ে আসেননি।

জানা গেছে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে ছিল শত শত মানুষের ভিড়। বিদেশ গমন্নেছুদের করোনা পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন চলছিল তখন। এ সময় অদূরে কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় পড়েছিলেন সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয় মসজিদের মুয়াজ্জিন মাওলানা সুলতান আহমদ (৫০)।

রোববার জোহরের আযানের পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত রাস্তায় পড়েছিলেন তিনি। আশপাশের লোকজনকে ডেকেও ছিলেন কয়েকবার, কিন্তু করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে কেউ এগিয়ে আসেননি। এমনকি প্রথমে সিভিল সার্জন অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীও এগিয়ে আসেননি।

পরে সিভিল সার্জন অফিসের নিরাপত্তাকর্মী সুশীল মোহন্ত কয়েকজনের সহায়তায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান তাকে। সিএনজি অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নেয়া হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ওসমানী হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মাওলানা সুলতান আহমদ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনেকক্ষণ সময় মাওলানা সুলতান কার্যালয়ের সামনে পড়ে থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে বিদেশ গমন্নেছুদের কেউও সহায়তা করতে যাননি।

মাওলানা সুলতান আহমদ সিভিল সার্জন অফিসের প্রায় ২০-২২ বছর ধরে মাওলানা সুলতান মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে রয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ রোগে ভুগছিলেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক মাওলানা সুলতানের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায়। তিনি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কোয়ার্টারে থাকতেন আর পরিবারের সদস্যরা থাকেন নেত্রকোনায়।