ঢাকা ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

মিয়ানমারে অস্ত্র সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি ইসরাইলের

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে অস্বীকার করেছে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল। দেশটি যখন আন্তর্জাতিক আইনের কোনো তোয়াক্কা না করেই নির্বিচারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন এবং সহিংসতা অব্যাহত রেখেছে তখন এ কথা বলল তেল আবিব।

মিয়ানমারে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবিতে ইসরাইলের হাইকোর্টে আর্জি জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা। চলতি মাসের শেষের দিকে এ নিয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট। কিন্তু ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী দাবি করেছেন, হাইকোর্টের এ বিষয়ে কোনো এখতিয়ার নেই এটি পরিষ্কার কূটনৈতিক বিষয়।

এর আগে ইহুদিবাদী ইসরাইল আর্জেন্টিনায় যুদ্ধ অপরাধের প্রতি সমর্থন দিয়েছে। বসনিয়ার মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর জন্য জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই সার্বিয়ার বাহিনীকে অস্ত্র যুগিয়েছে। একই ভাবে মিয়ানমারকেও অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে তেল আবিব।

মিয়ানমার সফরে মোদি

এদিকে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান রোহিঙ্গা নিধন অভিযানের মধ্যেই প্রতিবেশী দেশটি সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে মোদির বহুল আলোচিত এ সফর। সফরকালে তিনি মিয়ানমারের তিনটি স্থান পরিদর্শন করবেন।

রোহিঙ্গা নিধনে মিয়ানমারের সু চি সরকার আন্তর্জাতিক মতের কোনো তোয়াক্কা করছে না। ফলে মোদির এ সফর অনেকটা আশার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। তাছাড়া মিয়ানমারকে ‘কাছের বন্ধু’ এবং গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মোদি। ফলে সফরকালে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে মোদির আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মোদির সফরের দ্বিতীয় দিনে ইয়াঙ্গুনে থুওয়ান্না ইনডোর স্টেডিয়ামে ভারতীয় কমিউনিটির এক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। কিন্তু সফর উপলক্ষে মিয়ানমারের ভারতীয় ওই কমিউনিটিকে পাঠানো মোদির এক ই-মেইল বার্তায় মিয়ানমারকে চাপে রাখার প্রত্যাশা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

তাদের উদ্দেশে মোদি ই-মেইল বার্তায় লিখেছেন, আনন্দ ও উদ্যমের সঙ্গে তার মিয়ানমার সফর শুরু হতে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও ভারতের অন্যতম কাছের বন্ধু দেশ মিয়ানমারে এটিই তার প্রথম দ্বি-পাক্ষিক সফর। বার্মিজ ভারতীয়রা গত এক দশকে দুই দেশকে অনেক কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

সফরকালে মোদি ২৫০০ বছরের পুরনো শেওদাগন প্যাগোডা, অং সান জাদুঘর ও ইয়াঙ্গুনের শহীদ সমাধিকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। সফরকালে মোদি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ছাড়াও অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাছাড়া সু চির দেওয়া এক মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেবেন মোদি।

রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিমদের পাশাপাশি শত শত হিন্দুদের ওপরও নির্যাতন-হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরইমধ্যে ৮৭ জন হিন্দুকে গলা কেটে হত্যা করেছে তারা। বাধ্য হয়ে প্রাণ বাঁচাতে লাখো মুসলিমদের সঙ্গে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে শত শত হিন্দু।

এদিকে, মোদির সফরকে ঘিরে ভারতে বসবাসকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাশা, সহিংসতা বন্ধে মোদির পক্ষ থেকে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ করা হোক।

রোহিঙ্গা-বিরোধী অভিযান বন্ধ করুন : মিয়ানমারকে চার মুসলিম দেশ

বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি মুসলিম দেশ মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানিয়ে এই সংকটের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়। খবর বিবিসির।

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে জড়িত মানবিক সঙ্কট সমাধানে দেশটির প্রতি কেবল বিবৃতির মাধ্যমে নিন্দা জানিয়ে নয়, বরং বস্তুনিষ্ঠভাবে সমাধান করতে চান বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এই কথা বলেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সাহায্য করার জন্য ইন্দোনেশিয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য মায়ানমারের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেটনু মারসুদিকে পাঠানো হয়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোটিয়ার ইয়াংগি লি এবং নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই উভয়েই মায়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির প্রতি এ সহিংসতার নিন্দা জানানোর আহবান জানিয়েছেন। গত ১০ দিনে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সহিংসতার কারণে প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতি দিনই আরো হাজার হাজার শরণার্থী আসছে। এ সংকটের ব্যাপারে ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে, ‘রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর সংখ্যা এবং ব্যাপক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর খবরে’ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নজিব রাজ্জাক এক টুইট বার্তায় ‘মায়ানমার এবং এ অঞ্চলের কল্যাণের স্বার্থে রোহিঙ্গা ভাই-বোনদের এই গুরুতর দুর্দশার অবসানের’ আহ্বান জানান। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মুসলিম দেশগুলো থেকে মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেটনো মারসুডি মায়ানমার সফর করছেন, এবং তিনি সেদেশের সামরিক বাহিনীর প্রধানের সাথে দেখা করে এ সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

কয়েকটি দেশে বিক্ষোভ-প্রতিবাদের খবর পাওয়া গেছে। রোববার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার মায়ানমার দূতাবাস লক্ষ্য করে একটি ছোট পেট্রল বোমা ছোঁড়া হয়। মালদ্বীপ বলছে, তারা মায়ানমারের সাথে সবরকম অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে যাচ্ছে। মধ্য এশিয়ার কিরগিস্তানে মায়ানমার ফুটবল দলের সাথে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। কারণ কিছু সামাজিক মাধ্যমেই ম্যাচের সময় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারে অস্ত্র সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি ইসরাইলের

আপডেট সময় ১২:৩৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে অস্বীকার করেছে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল। দেশটি যখন আন্তর্জাতিক আইনের কোনো তোয়াক্কা না করেই নির্বিচারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন এবং সহিংসতা অব্যাহত রেখেছে তখন এ কথা বলল তেল আবিব।

মিয়ানমারে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবিতে ইসরাইলের হাইকোর্টে আর্জি জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা। চলতি মাসের শেষের দিকে এ নিয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট। কিন্তু ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী দাবি করেছেন, হাইকোর্টের এ বিষয়ে কোনো এখতিয়ার নেই এটি পরিষ্কার কূটনৈতিক বিষয়।

এর আগে ইহুদিবাদী ইসরাইল আর্জেন্টিনায় যুদ্ধ অপরাধের প্রতি সমর্থন দিয়েছে। বসনিয়ার মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর জন্য জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই সার্বিয়ার বাহিনীকে অস্ত্র যুগিয়েছে। একই ভাবে মিয়ানমারকেও অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে তেল আবিব।

মিয়ানমার সফরে মোদি

এদিকে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান রোহিঙ্গা নিধন অভিযানের মধ্যেই প্রতিবেশী দেশটি সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে মোদির বহুল আলোচিত এ সফর। সফরকালে তিনি মিয়ানমারের তিনটি স্থান পরিদর্শন করবেন।

রোহিঙ্গা নিধনে মিয়ানমারের সু চি সরকার আন্তর্জাতিক মতের কোনো তোয়াক্কা করছে না। ফলে মোদির এ সফর অনেকটা আশার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। তাছাড়া মিয়ানমারকে ‘কাছের বন্ধু’ এবং গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মোদি। ফলে সফরকালে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে মোদির আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মোদির সফরের দ্বিতীয় দিনে ইয়াঙ্গুনে থুওয়ান্না ইনডোর স্টেডিয়ামে ভারতীয় কমিউনিটির এক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। কিন্তু সফর উপলক্ষে মিয়ানমারের ভারতীয় ওই কমিউনিটিকে পাঠানো মোদির এক ই-মেইল বার্তায় মিয়ানমারকে চাপে রাখার প্রত্যাশা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

তাদের উদ্দেশে মোদি ই-মেইল বার্তায় লিখেছেন, আনন্দ ও উদ্যমের সঙ্গে তার মিয়ানমার সফর শুরু হতে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও ভারতের অন্যতম কাছের বন্ধু দেশ মিয়ানমারে এটিই তার প্রথম দ্বি-পাক্ষিক সফর। বার্মিজ ভারতীয়রা গত এক দশকে দুই দেশকে অনেক কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

সফরকালে মোদি ২৫০০ বছরের পুরনো শেওদাগন প্যাগোডা, অং সান জাদুঘর ও ইয়াঙ্গুনের শহীদ সমাধিকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। সফরকালে মোদি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ছাড়াও অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাছাড়া সু চির দেওয়া এক মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেবেন মোদি।

রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিমদের পাশাপাশি শত শত হিন্দুদের ওপরও নির্যাতন-হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরইমধ্যে ৮৭ জন হিন্দুকে গলা কেটে হত্যা করেছে তারা। বাধ্য হয়ে প্রাণ বাঁচাতে লাখো মুসলিমদের সঙ্গে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে শত শত হিন্দু।

এদিকে, মোদির সফরকে ঘিরে ভারতে বসবাসকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাশা, সহিংসতা বন্ধে মোদির পক্ষ থেকে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ করা হোক।

রোহিঙ্গা-বিরোধী অভিযান বন্ধ করুন : মিয়ানমারকে চার মুসলিম দেশ

বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি মুসলিম দেশ মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানিয়ে এই সংকটের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়। খবর বিবিসির।

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে জড়িত মানবিক সঙ্কট সমাধানে দেশটির প্রতি কেবল বিবৃতির মাধ্যমে নিন্দা জানিয়ে নয়, বরং বস্তুনিষ্ঠভাবে সমাধান করতে চান বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এই কথা বলেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সাহায্য করার জন্য ইন্দোনেশিয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য মায়ানমারের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেটনু মারসুদিকে পাঠানো হয়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোটিয়ার ইয়াংগি লি এবং নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই উভয়েই মায়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির প্রতি এ সহিংসতার নিন্দা জানানোর আহবান জানিয়েছেন। গত ১০ দিনে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সহিংসতার কারণে প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতি দিনই আরো হাজার হাজার শরণার্থী আসছে। এ সংকটের ব্যাপারে ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে, ‘রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর সংখ্যা এবং ব্যাপক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর খবরে’ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নজিব রাজ্জাক এক টুইট বার্তায় ‘মায়ানমার এবং এ অঞ্চলের কল্যাণের স্বার্থে রোহিঙ্গা ভাই-বোনদের এই গুরুতর দুর্দশার অবসানের’ আহ্বান জানান। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মুসলিম দেশগুলো থেকে মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেটনো মারসুডি মায়ানমার সফর করছেন, এবং তিনি সেদেশের সামরিক বাহিনীর প্রধানের সাথে দেখা করে এ সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

কয়েকটি দেশে বিক্ষোভ-প্রতিবাদের খবর পাওয়া গেছে। রোববার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার মায়ানমার দূতাবাস লক্ষ্য করে একটি ছোট পেট্রল বোমা ছোঁড়া হয়। মালদ্বীপ বলছে, তারা মায়ানমারের সাথে সবরকম অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে যাচ্ছে। মধ্য এশিয়ার কিরগিস্তানে মায়ানমার ফুটবল দলের সাথে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। কারণ কিছু সামাজিক মাধ্যমেই ম্যাচের সময় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।