ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

‘মোগো যাওনের কোনো জায়গা নাই’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বঙ্গোপসাগরের শাখা বলেশ্বর ও বিষখালী নদী ঘেঁষা পাথরঘাটার পদ্মা গ্রাম। এ গ্রামের পাশেই পদ্মাবাঁধ। এ বাঁধের উপরে রয়েছে অসংখ্য ভূমিহীন মানুষের বসবাস। কিন্তু গত কয়েকদিনে অমাবস্যার জোয়ারের পানিতে পদ্মা বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তাদের মধ্যে যেমন আতঙ্ক বিরাজ করছে, তেমনি বসতঘরসহ ভিটে-মাটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

সকালে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা গ্রামের বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে বসবাসকারীদের করুন চিত্র। গত কয়েকদিনে অমাবস্যার জোয়ারের পানির স্রোতে পদ্মাবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে অনেক ঘরবাড়ি। ফলে ভাঙন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ও ভূমিহীনদের এখন যাওয়ার মতো আর জায়গা নেই। নিরুপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁধের উপরেই বসবাস করছেন তারা।

ভাঙন এলাকার বাসিন্দা রশিদ ডাকুয়া (৭০) ও তার স্ত্রী মান বরু বিবি (৬২)। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে থাকেন শ্বশুরবাড়িতে। আর দুই ছেলে বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করছেন। সিডরের আগে থেকেই পদ্মার এ বাঁধের উপরেই বসবাস করছেন তারা। সিডরের সময় এই পদ্মার বাঁধ ভেঙে একই জায়গা থেকে ৫২ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেই থেকেই এ জায়গার নাম হয় পদ্মা ভাঙন। এ ভাঙনের পাশেই বসবাস রশিদ দম্পতির। গত কয়েকদিনে ভাঙনের কারণে রশিদের একমাত্র ঘর নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের উপরে বসবাসকারী রশিদের একমাত্র বসতঘরটি ভাঙার অপেক্ষায়। রশিদ বলেন, ‘মোরা যামু কই, যাওনের কোনো জায়গা নাই’। সিডরে এক ভাঙা দেছে (দিয়েছে), হ্যাঁরপরও (এরপর) কয়েক ভাঙা দেছে। দুইদিন ধইর‌্যা চুলা জ্বলে না। না খাইয়া আছি। মোগো (আমাদের) এহন (এখন) আর যাওনের (যাওয়ার) জায়গা নাই।

রশিদের স্ত্রী মান বরু বিবি বলেন, বাবা মোগো কপালডাই খারাপ। ভাঙতে ভাঙতে সব শ্যাষ (শেষ) অইয়া (হয়ে) গেছে। কোনো জমি নাই। যা ছিল সব নদীতে নিয়া গেছে। ওয়াপদার উপরে বহু বছর ধরে থাহি, (থাকি) আজ হ্যাও (তা) শ্যাষ অওয়ার (হওয়ার) পালা।

পাথরঘাটা উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, পদ্মা বেড়িবাঁধ ভাঙন এলাকায় পরিদর্শন করা হয়েছে। বাঁধটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া বাঁধের উপরে বসবাসকারীরাও রয়েছেন ঝুঁকির মধ্যে। আপাতত বাঁধটি মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘মোগো যাওনের কোনো জায়গা নাই’

আপডেট সময় ০৪:৩২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বঙ্গোপসাগরের শাখা বলেশ্বর ও বিষখালী নদী ঘেঁষা পাথরঘাটার পদ্মা গ্রাম। এ গ্রামের পাশেই পদ্মাবাঁধ। এ বাঁধের উপরে রয়েছে অসংখ্য ভূমিহীন মানুষের বসবাস। কিন্তু গত কয়েকদিনে অমাবস্যার জোয়ারের পানিতে পদ্মা বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তাদের মধ্যে যেমন আতঙ্ক বিরাজ করছে, তেমনি বসতঘরসহ ভিটে-মাটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

সকালে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা গ্রামের বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে বসবাসকারীদের করুন চিত্র। গত কয়েকদিনে অমাবস্যার জোয়ারের পানির স্রোতে পদ্মাবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে অনেক ঘরবাড়ি। ফলে ভাঙন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ও ভূমিহীনদের এখন যাওয়ার মতো আর জায়গা নেই। নিরুপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁধের উপরেই বসবাস করছেন তারা।

ভাঙন এলাকার বাসিন্দা রশিদ ডাকুয়া (৭০) ও তার স্ত্রী মান বরু বিবি (৬২)। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে থাকেন শ্বশুরবাড়িতে। আর দুই ছেলে বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করছেন। সিডরের আগে থেকেই পদ্মার এ বাঁধের উপরেই বসবাস করছেন তারা। সিডরের সময় এই পদ্মার বাঁধ ভেঙে একই জায়গা থেকে ৫২ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেই থেকেই এ জায়গার নাম হয় পদ্মা ভাঙন। এ ভাঙনের পাশেই বসবাস রশিদ দম্পতির। গত কয়েকদিনে ভাঙনের কারণে রশিদের একমাত্র ঘর নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের উপরে বসবাসকারী রশিদের একমাত্র বসতঘরটি ভাঙার অপেক্ষায়। রশিদ বলেন, ‘মোরা যামু কই, যাওনের কোনো জায়গা নাই’। সিডরে এক ভাঙা দেছে (দিয়েছে), হ্যাঁরপরও (এরপর) কয়েক ভাঙা দেছে। দুইদিন ধইর‌্যা চুলা জ্বলে না। না খাইয়া আছি। মোগো (আমাদের) এহন (এখন) আর যাওনের (যাওয়ার) জায়গা নাই।

রশিদের স্ত্রী মান বরু বিবি বলেন, বাবা মোগো কপালডাই খারাপ। ভাঙতে ভাঙতে সব শ্যাষ (শেষ) অইয়া (হয়ে) গেছে। কোনো জমি নাই। যা ছিল সব নদীতে নিয়া গেছে। ওয়াপদার উপরে বহু বছর ধরে থাহি, (থাকি) আজ হ্যাও (তা) শ্যাষ অওয়ার (হওয়ার) পালা।

পাথরঘাটা উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, পদ্মা বেড়িবাঁধ ভাঙন এলাকায় পরিদর্শন করা হয়েছে। বাঁধটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া বাঁধের উপরে বসবাসকারীরাও রয়েছেন ঝুঁকির মধ্যে। আপাতত বাঁধটি মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।