ঢাকা ০২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসরায়েল ধ্বংসের চেষ্টা করলে খামেনির মতো পরিণতি হবে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় নিহত ১১ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পল্লী উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : মির্জা ফখরুল আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আত্মত্যাগে বাংলাদেশ-আলজেরিয়ার গভীর মিল: তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাপন আমলের রেকর্ডপত্র চেয়ে বিসিবিতে দুদকের ৩ চিঠি হাত–মুখ বেঁধে জামায়াত নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ পশ্চিমা দেশগুলোর সন্দেহের মাঝেই চীন-রাশিয়ার যৌথ নৌ মহড়া

‘মোগো যাওনের কোনো জায়গা নাই’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বঙ্গোপসাগরের শাখা বলেশ্বর ও বিষখালী নদী ঘেঁষা পাথরঘাটার পদ্মা গ্রাম। এ গ্রামের পাশেই পদ্মাবাঁধ। এ বাঁধের উপরে রয়েছে অসংখ্য ভূমিহীন মানুষের বসবাস। কিন্তু গত কয়েকদিনে অমাবস্যার জোয়ারের পানিতে পদ্মা বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তাদের মধ্যে যেমন আতঙ্ক বিরাজ করছে, তেমনি বসতঘরসহ ভিটে-মাটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

সকালে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা গ্রামের বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে বসবাসকারীদের করুন চিত্র। গত কয়েকদিনে অমাবস্যার জোয়ারের পানির স্রোতে পদ্মাবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে অনেক ঘরবাড়ি। ফলে ভাঙন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ও ভূমিহীনদের এখন যাওয়ার মতো আর জায়গা নেই। নিরুপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁধের উপরেই বসবাস করছেন তারা।

ভাঙন এলাকার বাসিন্দা রশিদ ডাকুয়া (৭০) ও তার স্ত্রী মান বরু বিবি (৬২)। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে থাকেন শ্বশুরবাড়িতে। আর দুই ছেলে বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করছেন। সিডরের আগে থেকেই পদ্মার এ বাঁধের উপরেই বসবাস করছেন তারা। সিডরের সময় এই পদ্মার বাঁধ ভেঙে একই জায়গা থেকে ৫২ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেই থেকেই এ জায়গার নাম হয় পদ্মা ভাঙন। এ ভাঙনের পাশেই বসবাস রশিদ দম্পতির। গত কয়েকদিনে ভাঙনের কারণে রশিদের একমাত্র ঘর নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের উপরে বসবাসকারী রশিদের একমাত্র বসতঘরটি ভাঙার অপেক্ষায়। রশিদ বলেন, ‘মোরা যামু কই, যাওনের কোনো জায়গা নাই’। সিডরে এক ভাঙা দেছে (দিয়েছে), হ্যাঁরপরও (এরপর) কয়েক ভাঙা দেছে। দুইদিন ধইর‌্যা চুলা জ্বলে না। না খাইয়া আছি। মোগো (আমাদের) এহন (এখন) আর যাওনের (যাওয়ার) জায়গা নাই।

রশিদের স্ত্রী মান বরু বিবি বলেন, বাবা মোগো কপালডাই খারাপ। ভাঙতে ভাঙতে সব শ্যাষ (শেষ) অইয়া (হয়ে) গেছে। কোনো জমি নাই। যা ছিল সব নদীতে নিয়া গেছে। ওয়াপদার উপরে বহু বছর ধরে থাহি, (থাকি) আজ হ্যাও (তা) শ্যাষ অওয়ার (হওয়ার) পালা।

পাথরঘাটা উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, পদ্মা বেড়িবাঁধ ভাঙন এলাকায় পরিদর্শন করা হয়েছে। বাঁধটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া বাঁধের উপরে বসবাসকারীরাও রয়েছেন ঝুঁকির মধ্যে। আপাতত বাঁধটি মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ধ্বংসের চেষ্টা করলে খামেনির মতো পরিণতি হবে

‘মোগো যাওনের কোনো জায়গা নাই’

আপডেট সময় ০৪:৩২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বঙ্গোপসাগরের শাখা বলেশ্বর ও বিষখালী নদী ঘেঁষা পাথরঘাটার পদ্মা গ্রাম। এ গ্রামের পাশেই পদ্মাবাঁধ। এ বাঁধের উপরে রয়েছে অসংখ্য ভূমিহীন মানুষের বসবাস। কিন্তু গত কয়েকদিনে অমাবস্যার জোয়ারের পানিতে পদ্মা বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তাদের মধ্যে যেমন আতঙ্ক বিরাজ করছে, তেমনি বসতঘরসহ ভিটে-মাটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

সকালে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা গ্রামের বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে বসবাসকারীদের করুন চিত্র। গত কয়েকদিনে অমাবস্যার জোয়ারের পানির স্রোতে পদ্মাবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে অনেক ঘরবাড়ি। ফলে ভাঙন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ও ভূমিহীনদের এখন যাওয়ার মতো আর জায়গা নেই। নিরুপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁধের উপরেই বসবাস করছেন তারা।

ভাঙন এলাকার বাসিন্দা রশিদ ডাকুয়া (৭০) ও তার স্ত্রী মান বরু বিবি (৬২)। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে থাকেন শ্বশুরবাড়িতে। আর দুই ছেলে বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করছেন। সিডরের আগে থেকেই পদ্মার এ বাঁধের উপরেই বসবাস করছেন তারা। সিডরের সময় এই পদ্মার বাঁধ ভেঙে একই জায়গা থেকে ৫২ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেই থেকেই এ জায়গার নাম হয় পদ্মা ভাঙন। এ ভাঙনের পাশেই বসবাস রশিদ দম্পতির। গত কয়েকদিনে ভাঙনের কারণে রশিদের একমাত্র ঘর নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের উপরে বসবাসকারী রশিদের একমাত্র বসতঘরটি ভাঙার অপেক্ষায়। রশিদ বলেন, ‘মোরা যামু কই, যাওনের কোনো জায়গা নাই’। সিডরে এক ভাঙা দেছে (দিয়েছে), হ্যাঁরপরও (এরপর) কয়েক ভাঙা দেছে। দুইদিন ধইর‌্যা চুলা জ্বলে না। না খাইয়া আছি। মোগো (আমাদের) এহন (এখন) আর যাওনের (যাওয়ার) জায়গা নাই।

রশিদের স্ত্রী মান বরু বিবি বলেন, বাবা মোগো কপালডাই খারাপ। ভাঙতে ভাঙতে সব শ্যাষ (শেষ) অইয়া (হয়ে) গেছে। কোনো জমি নাই। যা ছিল সব নদীতে নিয়া গেছে। ওয়াপদার উপরে বহু বছর ধরে থাহি, (থাকি) আজ হ্যাও (তা) শ্যাষ অওয়ার (হওয়ার) পালা।

পাথরঘাটা উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, পদ্মা বেড়িবাঁধ ভাঙন এলাকায় পরিদর্শন করা হয়েছে। বাঁধটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া বাঁধের উপরে বসবাসকারীরাও রয়েছেন ঝুঁকির মধ্যে। আপাতত বাঁধটি মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।