অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
ধর্ষণের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ভারতের স্বঘোষিত ‘ধর্মগুরু’ গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের ‘পালিত কন্যা’ হানিপ্রীত ইনসানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে। রাম রহিমকে নিয়ে আদালত থেকে পালানোর ছক কষার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশের সূত্র জানায়, ২৫ আগস্ট আদালত রাম রহিমকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ তাঁর দত্তক কন্যা হানিপ্রীত সিং ইনসান। হানিপ্রীতির খোঁজ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ‘লুক আউট’ নোটিশ জারি করলো হরিয়ানা পুলিশ। হানিপ্রীতির পাশাপাশি রাম রহিমের ডেরা সাচ্চা সৌদার তিন ভক্তের বিরুদ্ধেও জারি করা হয়েছে ‘লুক আউট’ নোটিশ।
হানিপ্রীত ডেরার অনুগামীদের বাড়িতেই আত্মগোপন করে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হানিপ্রীতের বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাম রহিমকে দোষী সব্যস্তের পর প্রশাসনকে জানানো হয়, তিনি তাঁর জামা-কাপড় ভর্তি একটি ‘লাল ব্যাগ’ ডেরায় ফেলে এসেছেন। সেই ‘লাল ব্যাগ’ নিয়ে আসার নামে ডেরাতে সাংকেতিক বার্তা দেওয়া হয় অনুগামীদের। যে সাংকেতিক ভাষার অর্থ ছিলো, অনুগামীদের তাণ্ডবের মধ্যে রাম রহিমকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া। যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলো রাম রহিমের দত্তক কন্যা হানিপ্রীত। এই সংকেত পেয়েই রাম রহিমের অনুগামীদের তাণ্ডব চলে।
জেলে প্রথম রাত কাটানোর আগে রাম রহিম দাবি তোলেন, হানিপ্রীত সিংকে তাঁর সঙ্গে জেলে থাকতে দেওয়া হোক। যদিও জেল কর্তৃপক্ষ সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেয়। এরপর জেলের নিরাপত্তা রক্ষীদের রাম রহিম হুমকিও দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১১ সালে প্রথম আলোচনায় আসেন এই হানিপ্রীত সিং। তাঁর স্বামী পাঞ্জাব ও হরিয়ানার আদালতে অভিযোগ করেন, রাম রহিম তাঁর স্ত্রীকে যৌন নির্যাতন করছেন। এ কারণে হানিপ্রীত তাঁকে ডিভোর্স দিয়েছেন। তবে এই ঘটনার পর রাম রহিমের ভয়ে ডেরা ত্যাগ করেন হানিপ্রীতির স্বামী।
এরপর থেকেই বাবা রাম রহিমের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন হানিপ্রীত। এমনকি রাম রহিমকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করার দিন পাচকুলা আদালত থেকে যে হেলিকপ্টারে করে তাঁকে রোহতক জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো সেই হেলিকপ্টারে রাম রহিমের পাশেও বসেছিলেন হানিপ্রীত।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























