আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
করোনা ভাইরাস মহামারির বিদ্যমান সংকট নিরসনে দেশের সব রাজনৈতিক দল, শ্রেণি-পেশা সংগঠন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত ও সক্রিয় প্রয়াসই শুধু দেশবাসীকে মহামারির ভয়াল প্রকোপ থেকে বাঁচাতে পারে বলে জানিয়েছেন ২০ দলীয় জোটের নেতারা।
রোববার (৫ জুলাই) ২০ দলীয় জোটের ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের পর সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জোটের সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নিজ বাসা থেকে ভিডিও বার্তায় এ কথা জানান।
লিখিত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকারে মন্ত্রী, আমলা ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বাগাড়ম্বর করোনা প্রতিরোধে কোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি বরং মহামারি বিস্তারে সহযোগীতা করেছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে এবং তাদের রোগ প্রতিরোধে অমনোযোগী করে জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং মহামারি নিয়ন্ত্রণে সফল অভিজ্ঞতা যথাসময়ে আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করা হলে পরিস্থিতি রোধ করা সম্ভব হতো বলেও মনে করে ২০ দল।
বিএনপির এ প্রবীণ নেতা বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের টেস্টিং কিট নিয়ে অহেতুক সময়ক্ষেপণ, বিদেশ থেকে নিম্ন মানের কিট, মাস্ক, পিপিইসহ সুরক্ষাসামগ্রী আমদানিতে সীমাহীন দুর্নীতি এবং নিম্নমানের সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারে অসংখ্য রোগী এবং ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যসেবীদের বহু জনের অকাল মৃত্যুর কারণ বলে জানা গেছে। এটা শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়, ক্ষমাহীন অপরাধ যার তদন্ত ও শাস্তি হওয়া দরকার বলে দাবি করে ২০ দল।
তিনি বলেন, ২০ দল সারা বিশ্বের অভিজ্ঞতার আলোকে বিলম্বে বাস্তবায়ন সম্ভব এমন সব মেগা প্রকল্প স্থগিত করে সেই অর্থে করোনা সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের এবং যতদূত সম্ভব উপজেলা পর্যায়ে দৈনিক কমপক্ষে ৬০ হাজার করোনা টেস্ট, মালিকানা নির্বিশেষে সব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চিকিৎসা কেন্দ্র আইসিইউ, ভেল্টিলেশন, আইসোলেশন ও পর্যাপ্ত ওষুধ, প্রশিক্ষিত ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে করোনা চিকিৎসার উপযোগী করার জোর দাবি জানায়।
বাজেটকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০ দল দেশবাসীর সঙ্গে অবাক বিস্ময় লক্ষ্য করছে যে এমন এক সংকটকালে পাঁচ লাখ কোটি টাকারও বেশি টাকা জাতীয় বাজেটে পাস করা হয়েছে মাত্র একদিনের আলোচনায়। এমন হঠকারী ও অস্বাভাবিক ঘটনা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার, রাজস্ব আদায়, রপ্তানি ও আমদানি প্রবৃদ্ধি, রেমিট্যান্স বাড়ানো, মুদ্রাস্ফীতির হার ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাল্পনিক পরিমাণ নির্ধারণ করে বাজেটের আয়-ব্যয় অংক মেলানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ২০ দল মনে করে যে, থাইল্যান্ডে প্রয়াত রাজা, সিঙ্গাপুর ও মালোয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মতো আমাদের দেশের মন্ত্রী, এমপি, জনপ্রতিনিধি, জননেতা, ঊর্ধ্বতন আমলারা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি হতো।
সভায় সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান যথা বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল পরিশোধে বিপন্ন জনগণকে বাধ্য করার সরকারি উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এসব বিল আদায় স্থগিত ঘোষণার এবং কর্মহীন ও দরিদ্র মানুষদের বিল মওকুফ করার দাবি করা হয়। ২০ দল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, দেশ ও জনগণ যখন করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত, আত্মরক্ষা এবং জনগণের জন্য ত্রাণ বিতরণে ব্যস্ত তখন নির্বাচন কমিশন বহুল প্রচারিত কয়েকটি ইংলিশ শব্দ পরিবর্তনের জন্য আরপিওর একটি অধ্যায়কে ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন-২০২০’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগী হয়েছে- যা অসমযোপযোগী, অপ্রয়োজনীয় এবং অবশ্যই উদ্দেশ্যমূলক বিষয়। ২০ দল নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এ ফরমায়েশি কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য জোর দাবি জানায়। সভায় ২০ দলীয় জোটের শরীক দলগুলো ইতোমধ্যেই সারাদেশে যে ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছেন তা আরো বিস্তৃত করার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ৫ জুলাই বেলা ১১টা থেকে সোয়া ২টা পর্যন্ত ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের ভার্চ্যুয়াল এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অন্যদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) সভাপতি সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার প্রমুখ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















