ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া বোমায় প্রকম্পিত হচ্ছে মুসলিম রোহিঙ্গারা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মায়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া বোমায় প্রকম্পিত হচ্ছে রাখাইন রাজ্যের মুসলিম রোহিঙ্গা পল্লীগুলো। স্বভাবতই যখনই আকাশে সেনা হেলিকপ্টার উড়ছে, ভয়ে দিগ্বিদিক ছুটছে রাখাইন নারী-পুরুষ-শিশুরা।

প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ও নিজের দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসা এই মানুষগুলো দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। দিনরাত খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে হচ্ছে। তাদের খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। খাবার ও পানির অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের জন্য পরিস্থিতি দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।

গত ২৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জঙ্গি দমনের নামে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সে দেশের সেনাবাহিনী ও রাখাইন যুবকদের যৌথ হত্যাযজ্ঞে পাঁচ শতাধিকরেও বেশি নিরীহ রোহিঙ্গা মুসলিম শিশুসহ নারী পুরুষকে হত্যা করা হয়েছে। অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে তছনছ করে দেয়া হয়েছে বসত ঘর ও ধন সম্পত্তি। এখনো অব্যাহত রয়েছে এমন হত্যাযজ্ঞ।

সীমান্তের এপার থেকেও থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। নাফ নদীতে লাশ ভাসতে দেখা যাচ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশের দিকে ছুটছেন রোহিঙ্গারা। অনেকে গুরুতর জখম নিয়ে ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের বাধায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে তারা নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নিয়েছে।

সর্বশেষ আপনজন হারিয়ে নিজের জীবন বাঁচাতে শত শত শিশু, নারী-পুরুষ ১৫-২০ ঘণ্টা পায়ে হেঁটে আশ্রয় নিতে চেয়েছিল তুমব্র ও ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে।

২৯ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে তুমব্রু কোনা পাড়া আম বাগানে আশ্রয় নেয়া একাধিক রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

মংডু ফকিরবাজার এলাকার আবুল কালামের বড় ছেলে শফি উল্ল্যাহ জানান, সোমবার বিকাল থেকে সারা রাত প্রায় ১৫ ঘণ্টা পায়ে হেঁটে পাহাড়ী পথে কিছুক্ষণ আগে এখানে পোঁছান। তিনি বলেন, ‘আসতে চাইনি, চার দিন ধরে কয়েকশ’ গ্রামবাসীর সঙ্গে মায়ানমারের আর্মি, পুলিশ ও বিজিপির লড়াই হয়েছে। তাদেরকে আমরা গ্রামে ঢুকতে দেইনি। লাঠিসোটা নিয়ে যতটুকু সম্ভব প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে আর পারিনি।

তিনি বলেন, রবিবার দুপুরের আগে কয়েকটি হেলিকপ্টার এসে আমাদের গ্রামে সাতটি বড় বড় বোমা বিস্ফোরন ঘটায়। বোমার বিকট শব্দে কেপে উঠে পুরো এলাকা, সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এসময় গ্রামবাসী লাঠিসোটা নিয়ে বের হলেও কোনো কাজ হয়নি। কারণ বোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর পাশাপাশি হেলিকপ্টার থেকে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। এতে কয়েকজন গ্রামবাসী মারা যাওয়ার পর আমরা ভয়ে পাহাড়ি পথে বাংলাদেশে চলে আসি।

তুমব্র সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নেয়া আয়েশা বিবি, মাবিয়া খাতুন, আবু শরিফ ও মোস্তফা জানান, মায়ানমারের আর্মি ও রাখাইন (মগ) যুবকরা সন্ত্রাস দমনের নামে আমাদের পাড়াতে এবং ঘর বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। তারা তল্লাশী চালিয়ে নারীদের ধর্ষণ করছে এবং পুরুষদের হত্যা করছে। আমাদের বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে পুঁড়িয়ে লণ্ডভণ্ড করেছে। আমরা ভয়ে এখানে পালিয়ে এসেছি।

তারা আরো জানান, আমরা এখনো ওপার থেকে থেমে থেমে গুলি ও বোমার আওয়াজ শোনতে পাচ্ছি। একই সময়ে মায়ানমারের ভেতরে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এখান থেকে ওপারে গ্রামগুলিতে আগুন ও ব্যাপক পরিসরে ধোঁয়া দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, মায়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ এবং জ্বালাও-পোড়াও অব্যাহত রেখেছে।

এসময় তারা কান্নাকাটি করে বলেন, মায়ানমার আর্মির বন্দুকের গুলি থেকে বাঁচতে আমরা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে এসেছি কিন্তু তাতে বিজিবি ঢুকতে দিচ্ছে না। আমরা বাধ্য হয়ে জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নিয়েছি। দুধের মাসুম বাচ্চাদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে পানির পিপাসায় এবং ক্ষুধার যন্ত্রণায় কলিজা ফেটে যাচ্ছে। এভাবে আর ২/১ দিন থাকলে সবাই মারা যাব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া বোমায় প্রকম্পিত হচ্ছে মুসলিম রোহিঙ্গারা

আপডেট সময় ১২:০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মায়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া বোমায় প্রকম্পিত হচ্ছে রাখাইন রাজ্যের মুসলিম রোহিঙ্গা পল্লীগুলো। স্বভাবতই যখনই আকাশে সেনা হেলিকপ্টার উড়ছে, ভয়ে দিগ্বিদিক ছুটছে রাখাইন নারী-পুরুষ-শিশুরা।

প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ও নিজের দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসা এই মানুষগুলো দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। দিনরাত খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে হচ্ছে। তাদের খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। খাবার ও পানির অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের জন্য পরিস্থিতি দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।

গত ২৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জঙ্গি দমনের নামে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সে দেশের সেনাবাহিনী ও রাখাইন যুবকদের যৌথ হত্যাযজ্ঞে পাঁচ শতাধিকরেও বেশি নিরীহ রোহিঙ্গা মুসলিম শিশুসহ নারী পুরুষকে হত্যা করা হয়েছে। অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে তছনছ করে দেয়া হয়েছে বসত ঘর ও ধন সম্পত্তি। এখনো অব্যাহত রয়েছে এমন হত্যাযজ্ঞ।

সীমান্তের এপার থেকেও থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। নাফ নদীতে লাশ ভাসতে দেখা যাচ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশের দিকে ছুটছেন রোহিঙ্গারা। অনেকে গুরুতর জখম নিয়ে ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের বাধায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে তারা নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নিয়েছে।

সর্বশেষ আপনজন হারিয়ে নিজের জীবন বাঁচাতে শত শত শিশু, নারী-পুরুষ ১৫-২০ ঘণ্টা পায়ে হেঁটে আশ্রয় নিতে চেয়েছিল তুমব্র ও ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে।

২৯ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে তুমব্রু কোনা পাড়া আম বাগানে আশ্রয় নেয়া একাধিক রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

মংডু ফকিরবাজার এলাকার আবুল কালামের বড় ছেলে শফি উল্ল্যাহ জানান, সোমবার বিকাল থেকে সারা রাত প্রায় ১৫ ঘণ্টা পায়ে হেঁটে পাহাড়ী পথে কিছুক্ষণ আগে এখানে পোঁছান। তিনি বলেন, ‘আসতে চাইনি, চার দিন ধরে কয়েকশ’ গ্রামবাসীর সঙ্গে মায়ানমারের আর্মি, পুলিশ ও বিজিপির লড়াই হয়েছে। তাদেরকে আমরা গ্রামে ঢুকতে দেইনি। লাঠিসোটা নিয়ে যতটুকু সম্ভব প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে আর পারিনি।

তিনি বলেন, রবিবার দুপুরের আগে কয়েকটি হেলিকপ্টার এসে আমাদের গ্রামে সাতটি বড় বড় বোমা বিস্ফোরন ঘটায়। বোমার বিকট শব্দে কেপে উঠে পুরো এলাকা, সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এসময় গ্রামবাসী লাঠিসোটা নিয়ে বের হলেও কোনো কাজ হয়নি। কারণ বোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর পাশাপাশি হেলিকপ্টার থেকে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। এতে কয়েকজন গ্রামবাসী মারা যাওয়ার পর আমরা ভয়ে পাহাড়ি পথে বাংলাদেশে চলে আসি।

তুমব্র সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নেয়া আয়েশা বিবি, মাবিয়া খাতুন, আবু শরিফ ও মোস্তফা জানান, মায়ানমারের আর্মি ও রাখাইন (মগ) যুবকরা সন্ত্রাস দমনের নামে আমাদের পাড়াতে এবং ঘর বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। তারা তল্লাশী চালিয়ে নারীদের ধর্ষণ করছে এবং পুরুষদের হত্যা করছে। আমাদের বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে পুঁড়িয়ে লণ্ডভণ্ড করেছে। আমরা ভয়ে এখানে পালিয়ে এসেছি।

তারা আরো জানান, আমরা এখনো ওপার থেকে থেমে থেমে গুলি ও বোমার আওয়াজ শোনতে পাচ্ছি। একই সময়ে মায়ানমারের ভেতরে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এখান থেকে ওপারে গ্রামগুলিতে আগুন ও ব্যাপক পরিসরে ধোঁয়া দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, মায়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ এবং জ্বালাও-পোড়াও অব্যাহত রেখেছে।

এসময় তারা কান্নাকাটি করে বলেন, মায়ানমার আর্মির বন্দুকের গুলি থেকে বাঁচতে আমরা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে এসেছি কিন্তু তাতে বিজিবি ঢুকতে দিচ্ছে না। আমরা বাধ্য হয়ে জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নিয়েছি। দুধের মাসুম বাচ্চাদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে পানির পিপাসায় এবং ক্ষুধার যন্ত্রণায় কলিজা ফেটে যাচ্ছে। এভাবে আর ২/১ দিন থাকলে সবাই মারা যাব।