আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
দেশে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৫টি সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সোমবার (১৫ জুন) এক অনলাইন কনফারেন্সে এ সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে সুপারিশগুলো তুলে ধরে জার্মানভিত্তিক দুর্নীতি বিরোধী এ সংস্থা।
এতে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের গৃহীত প্রণোদনা প্রকল্পগুলো একদিকে ব্যবসায়ীবান্ধব ও ঋণভিত্তিক, অপরদিকে অতি দরিদ্রদের জন্য এ আর্থিক সহায়তা অপ্রতুল। ঋণখেলাপিদের প্রণোদনা গ্রহণের সুযোগ তৈরির কারণে সাধারণ মানুষের কাছে এর সুফল পৌঁছানোর সম্ভাবনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এছাড়া করোনা মোকাবিলায় সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশে বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে আড়াল করা হচ্ছে বলে ইভযোগ টিআইবির। তারা জানায়, দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় না নিয়ে, উল্টো দুর্নীতির তথ্য প্রকাশকারীকে হয়রানি ও নিয়ন্ত্রণ করার যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা প্রকারান্তরে দুর্নীতিকে উৎসাহ প্রদান করছে।
সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারকদের দ্বারা করোনা মোকাবিলায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ এবং সেসব কার্যক্রমে সুশাসন নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে গবেষণা ফলাফলের আলোকে বেশকিছু সুপারিশ প্রস্তাব করছে টিআইবি। সুপারিশ গুলো হলো:
১. সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিদ্যমান যন্ত্রপাতি ও জনবলের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষার সুবিধা জেলা পর্যায়ে আরও সম্প্রসারণ করতে হবে এবং বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
২. করোনা ভাইরাসের ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বৃদ্ধির সময় লকডাউন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। লকডাউন প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে যৌক্তিক ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ণ এবং নমুনা পরীক্ষা বৃদ্ধির মাধ্যমে সংক্রমণের ব্যাপকতার নিরিখে এলাকাভিত্তিক ঝুঁকি বিবেচনা করতে হবে।
৩. করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করতে হবে।
৪. স্বাস্থ্য খাতে জেলা পর্যায়ে সার্বিকভাবে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে (জিডিপির ৫ শতাংশ) এবং স্বাস্থ্যখাতের ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।
৫. স্বাস্থ্যখাতে ক্রয়ে অনিয়ম দুর্নীতি রোধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. সব পর্যায়ের হাসপাতালে স্ক্রিনিং ও ট্রায়াজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। সম্মুখ সারির সব স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ মানসম্মত সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
৭. সমন্বিত চিকিত্সার প্রয়োজেন বেসরকারি হাসপাতালগূলোকে সরকারি বিধির অধীনে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে
করোনা চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৮. সব হাসপাতালে করোনা আক্রান্তের চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য রোগের জন্য নিয়মিত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত
করতে হবে। সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসায় অস্বীকৃতির ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৯. ব্যবহৃত সুরক্ষা সামগ্রীসহ চিকিৎসা বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
১০. অতি দরিদ্র ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, দিনমজুরদের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। চলতি কৃষি ঋণ মওকুফ করতে হবে।
১১. ত্রাণ ও সামাজিক সুরক্ষার উপকারভোগীদের তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। ত্রাণ বা নগদ সহায়তাপ্রাপ্ত উপকারভোগীদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
১২. দেশজুড়ে প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতার জন্য সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
১৩. স্বাস্থ্যবিধির সফল বাস্তবায়নে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণের উদ্যোগ নিতে হবে।
১৪. তথ্য প্রকাশ ও তথ্যে প্রবেশগম্যতার সুবিধার্থে এবং ম্যানেজমেন্টের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের স্বার্থে গণমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।
১৫. ত্রাণ বিষয়ক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত জনপ্রতিনিধি, যাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তাদের আইনগতভাবে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
অনলাইন কনফারেন্সে নিজেদের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের সময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা সংযুক্ত ছিলেন।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে করোনা মোকাবিলায় ত্রিমুখী আঁতাতে দুর্নীতি হয়েছে। আমলাদের একাংশ, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিতে প্রভাবশালীরা এতে জড়িত রয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















