ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

নিলুফার মঞ্জুর: একজন শিক্ষাব্রতী মানুষ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনাকালে তার অকাল প্রয়াণে আমাদের চরপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ভাবতেও পারিনি করোনা তাকেও ছুঁয়ে যেতে পারে। সানবিমস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নিলুফার মঞ্জুর নীরবে-নিভৃতে শিক্ষার মশাল হাতে নিয়ে হেঁটে গেছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরে।

ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তার করে আমাদের শিশুদের মূলভিত্তি শক্ত করার লক্ষ্যে তার এই সানবিমস ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রতিষ্ঠা। প্রচার বিমুখ শিক্ষাব্রতী নিলুফার মঞ্জুর কখনো আত্মপ্রচার চাননি। পরিশ্রম করে গেছেন আপন বিভায়। ঢাকা শহরে যে কয়টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল আছে তার মধ্যে সানবিমস আছে প্রথম সারিতে।

তার সাথে আমার পরিচয় খুবই অল্প সময়ের। কিন্তু আন্তরিকতার দৈর্ঘ্যটা অনেক বড়। দুবছর আগে একটি শিক্ষা সম্পূরক অনুষ্ঠানের সেমিনার কক্ষে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল।

আমি অধ্যক্ষ হামিদা আলীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলাম- এই বিষয়টি তাকে আকর্ষণ করেছিল। তিনি আমাকে কাছে ডেকে আলাপ করলেন। দীর্ঘ ৩৬ বছর একটানা কাজ করার পর এখন কোথাও কাজ করছি না শুনে উনি বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন, ‘গতিতে জীবন মম, স্থিতিতে মরণ।’

তার বিশুদ্ধ বাচনভঙ্গি এবং আন্তরিকতায় আমি সেদিন মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেই মুগ্ধতা আর শেষ হয়নি। বরং বেড়েই চলেছিল। একদিন হঠাৎ তার ফোন পেলাম,
– ব্যস্ত? কথা বলতে চাই।
আমি বললাম, অবশ্যই ম্যাডাম, বলুন, আমি শুনছি।
– আমার স্কুলে যদি আপনি কাজ করতে চান তো আমি প্রোভাইড করতে পারি।
অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাবটি শুনে কিছুক্ষণ চুপ থাকি। তারপর বিস্ময়ের বিহ্বলতা কাটিয়ে বললাম, এটা তো আমার জন্য আনন্দের সংবাদ এবং সৌভাগ্যেরও।
উনি বললেন, না, এটা আপনার যোগ্যতার মূল্যায়নও হতে পারে। এভাবে ভাবতে পারেন।
আমি বললাম, ঠিক আছে, আমি জানাচ্ছি আপনাকে।
উনি বললেন, একদিন সময় করে আমার অফিসে চলে আসেন। কথা বলি। চেনেন তো। ধানমণ্ডি সাতাশ নম্বরে।

জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের কথা। তারপর তো সময় অসময় হয়ে গেল। করোনার প্রচণ্ড প্রখর উত্তাপে আমরা গৃহবাসী হয়ে গেলাম। তবে ফোনে কথা হয়েছে আমাদের। তার বিশেষ গুণের কারণে, একটুতেই নিলুফার মঞ্জুর আমার স্মৃতিতে সঞ্চরমাণ।

শুনেছি তার স্বামী এবং কন্যা দুজনও করোনায় আক্রান্ত।
হে দয়াময়, তুমি তাদের রক্ষা কর।

লেখক: নাসরীন নঈম, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

নিলুফার মঞ্জুর: একজন শিক্ষাব্রতী মানুষ

আপডেট সময় ০৯:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনাকালে তার অকাল প্রয়াণে আমাদের চরপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ভাবতেও পারিনি করোনা তাকেও ছুঁয়ে যেতে পারে। সানবিমস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নিলুফার মঞ্জুর নীরবে-নিভৃতে শিক্ষার মশাল হাতে নিয়ে হেঁটে গেছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরে।

ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তার করে আমাদের শিশুদের মূলভিত্তি শক্ত করার লক্ষ্যে তার এই সানবিমস ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রতিষ্ঠা। প্রচার বিমুখ শিক্ষাব্রতী নিলুফার মঞ্জুর কখনো আত্মপ্রচার চাননি। পরিশ্রম করে গেছেন আপন বিভায়। ঢাকা শহরে যে কয়টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল আছে তার মধ্যে সানবিমস আছে প্রথম সারিতে।

তার সাথে আমার পরিচয় খুবই অল্প সময়ের। কিন্তু আন্তরিকতার দৈর্ঘ্যটা অনেক বড়। দুবছর আগে একটি শিক্ষা সম্পূরক অনুষ্ঠানের সেমিনার কক্ষে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল।

আমি অধ্যক্ষ হামিদা আলীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলাম- এই বিষয়টি তাকে আকর্ষণ করেছিল। তিনি আমাকে কাছে ডেকে আলাপ করলেন। দীর্ঘ ৩৬ বছর একটানা কাজ করার পর এখন কোথাও কাজ করছি না শুনে উনি বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন, ‘গতিতে জীবন মম, স্থিতিতে মরণ।’

তার বিশুদ্ধ বাচনভঙ্গি এবং আন্তরিকতায় আমি সেদিন মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেই মুগ্ধতা আর শেষ হয়নি। বরং বেড়েই চলেছিল। একদিন হঠাৎ তার ফোন পেলাম,
– ব্যস্ত? কথা বলতে চাই।
আমি বললাম, অবশ্যই ম্যাডাম, বলুন, আমি শুনছি।
– আমার স্কুলে যদি আপনি কাজ করতে চান তো আমি প্রোভাইড করতে পারি।
অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাবটি শুনে কিছুক্ষণ চুপ থাকি। তারপর বিস্ময়ের বিহ্বলতা কাটিয়ে বললাম, এটা তো আমার জন্য আনন্দের সংবাদ এবং সৌভাগ্যেরও।
উনি বললেন, না, এটা আপনার যোগ্যতার মূল্যায়নও হতে পারে। এভাবে ভাবতে পারেন।
আমি বললাম, ঠিক আছে, আমি জানাচ্ছি আপনাকে।
উনি বললেন, একদিন সময় করে আমার অফিসে চলে আসেন। কথা বলি। চেনেন তো। ধানমণ্ডি সাতাশ নম্বরে।

জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের কথা। তারপর তো সময় অসময় হয়ে গেল। করোনার প্রচণ্ড প্রখর উত্তাপে আমরা গৃহবাসী হয়ে গেলাম। তবে ফোনে কথা হয়েছে আমাদের। তার বিশেষ গুণের কারণে, একটুতেই নিলুফার মঞ্জুর আমার স্মৃতিতে সঞ্চরমাণ।

শুনেছি তার স্বামী এবং কন্যা দুজনও করোনায় আক্রান্ত।
হে দয়াময়, তুমি তাদের রক্ষা কর।

লেখক: নাসরীন নঈম, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ