ঢাকা ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্র পুনর্গঠনে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন: আ স ম রব ‘ক্ষমতা সীমিত’ হওয়ায় অনেক কাজ করা সম্ভব হয়নি: সাবেক উপদেষ্টা পাকিস্তানের অনুরোধেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি: ট্রাম্প হাম ও উপসর্গে মৃত্যু:পরিস্থিতির অবনতি হলে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওমানে গাড়ির ভেতর চার ভাইয়ের মৃত্যু কার্বন মনোক্সাইডে, ধারণা পুলিশের রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান : জাতিসংঘে শামা ওবায়েদ তৎকালীন আওয়ামী সরকারের কারণে জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত: মির্জা ফখরুল সংবিধান সংশোধন: প্রতিশ্রুতি ছাড়া কমিটিতে থাকতে চায় না জামায়াত পশ্চিমবঙ্গে জোট নয়; ‘একলা লড়াই’র ডাক রাহুল গান্ধীর বিশেষায়িত ইউনিটে জনবল বৃদ্ধি চায় পুলিশ

নিলুফার মঞ্জুর: একজন শিক্ষাব্রতী মানুষ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনাকালে তার অকাল প্রয়াণে আমাদের চরপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ভাবতেও পারিনি করোনা তাকেও ছুঁয়ে যেতে পারে। সানবিমস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নিলুফার মঞ্জুর নীরবে-নিভৃতে শিক্ষার মশাল হাতে নিয়ে হেঁটে গেছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরে।

ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তার করে আমাদের শিশুদের মূলভিত্তি শক্ত করার লক্ষ্যে তার এই সানবিমস ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রতিষ্ঠা। প্রচার বিমুখ শিক্ষাব্রতী নিলুফার মঞ্জুর কখনো আত্মপ্রচার চাননি। পরিশ্রম করে গেছেন আপন বিভায়। ঢাকা শহরে যে কয়টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল আছে তার মধ্যে সানবিমস আছে প্রথম সারিতে।

তার সাথে আমার পরিচয় খুবই অল্প সময়ের। কিন্তু আন্তরিকতার দৈর্ঘ্যটা অনেক বড়। দুবছর আগে একটি শিক্ষা সম্পূরক অনুষ্ঠানের সেমিনার কক্ষে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল।

আমি অধ্যক্ষ হামিদা আলীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলাম- এই বিষয়টি তাকে আকর্ষণ করেছিল। তিনি আমাকে কাছে ডেকে আলাপ করলেন। দীর্ঘ ৩৬ বছর একটানা কাজ করার পর এখন কোথাও কাজ করছি না শুনে উনি বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন, ‘গতিতে জীবন মম, স্থিতিতে মরণ।’

তার বিশুদ্ধ বাচনভঙ্গি এবং আন্তরিকতায় আমি সেদিন মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেই মুগ্ধতা আর শেষ হয়নি। বরং বেড়েই চলেছিল। একদিন হঠাৎ তার ফোন পেলাম,
– ব্যস্ত? কথা বলতে চাই।
আমি বললাম, অবশ্যই ম্যাডাম, বলুন, আমি শুনছি।
– আমার স্কুলে যদি আপনি কাজ করতে চান তো আমি প্রোভাইড করতে পারি।
অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাবটি শুনে কিছুক্ষণ চুপ থাকি। তারপর বিস্ময়ের বিহ্বলতা কাটিয়ে বললাম, এটা তো আমার জন্য আনন্দের সংবাদ এবং সৌভাগ্যেরও।
উনি বললেন, না, এটা আপনার যোগ্যতার মূল্যায়নও হতে পারে। এভাবে ভাবতে পারেন।
আমি বললাম, ঠিক আছে, আমি জানাচ্ছি আপনাকে।
উনি বললেন, একদিন সময় করে আমার অফিসে চলে আসেন। কথা বলি। চেনেন তো। ধানমণ্ডি সাতাশ নম্বরে।

জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের কথা। তারপর তো সময় অসময় হয়ে গেল। করোনার প্রচণ্ড প্রখর উত্তাপে আমরা গৃহবাসী হয়ে গেলাম। তবে ফোনে কথা হয়েছে আমাদের। তার বিশেষ গুণের কারণে, একটুতেই নিলুফার মঞ্জুর আমার স্মৃতিতে সঞ্চরমাণ।

শুনেছি তার স্বামী এবং কন্যা দুজনও করোনায় আক্রান্ত।
হে দয়াময়, তুমি তাদের রক্ষা কর।

লেখক: নাসরীন নঈম, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্র পুনর্গঠনে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন: আ স ম রব

নিলুফার মঞ্জুর: একজন শিক্ষাব্রতী মানুষ

আপডেট সময় ০৯:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনাকালে তার অকাল প্রয়াণে আমাদের চরপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ভাবতেও পারিনি করোনা তাকেও ছুঁয়ে যেতে পারে। সানবিমস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নিলুফার মঞ্জুর নীরবে-নিভৃতে শিক্ষার মশাল হাতে নিয়ে হেঁটে গেছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরে।

ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তার করে আমাদের শিশুদের মূলভিত্তি শক্ত করার লক্ষ্যে তার এই সানবিমস ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রতিষ্ঠা। প্রচার বিমুখ শিক্ষাব্রতী নিলুফার মঞ্জুর কখনো আত্মপ্রচার চাননি। পরিশ্রম করে গেছেন আপন বিভায়। ঢাকা শহরে যে কয়টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল আছে তার মধ্যে সানবিমস আছে প্রথম সারিতে।

তার সাথে আমার পরিচয় খুবই অল্প সময়ের। কিন্তু আন্তরিকতার দৈর্ঘ্যটা অনেক বড়। দুবছর আগে একটি শিক্ষা সম্পূরক অনুষ্ঠানের সেমিনার কক্ষে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল।

আমি অধ্যক্ষ হামিদা আলীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলাম- এই বিষয়টি তাকে আকর্ষণ করেছিল। তিনি আমাকে কাছে ডেকে আলাপ করলেন। দীর্ঘ ৩৬ বছর একটানা কাজ করার পর এখন কোথাও কাজ করছি না শুনে উনি বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন, ‘গতিতে জীবন মম, স্থিতিতে মরণ।’

তার বিশুদ্ধ বাচনভঙ্গি এবং আন্তরিকতায় আমি সেদিন মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেই মুগ্ধতা আর শেষ হয়নি। বরং বেড়েই চলেছিল। একদিন হঠাৎ তার ফোন পেলাম,
– ব্যস্ত? কথা বলতে চাই।
আমি বললাম, অবশ্যই ম্যাডাম, বলুন, আমি শুনছি।
– আমার স্কুলে যদি আপনি কাজ করতে চান তো আমি প্রোভাইড করতে পারি।
অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাবটি শুনে কিছুক্ষণ চুপ থাকি। তারপর বিস্ময়ের বিহ্বলতা কাটিয়ে বললাম, এটা তো আমার জন্য আনন্দের সংবাদ এবং সৌভাগ্যেরও।
উনি বললেন, না, এটা আপনার যোগ্যতার মূল্যায়নও হতে পারে। এভাবে ভাবতে পারেন।
আমি বললাম, ঠিক আছে, আমি জানাচ্ছি আপনাকে।
উনি বললেন, একদিন সময় করে আমার অফিসে চলে আসেন। কথা বলি। চেনেন তো। ধানমণ্ডি সাতাশ নম্বরে।

জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের কথা। তারপর তো সময় অসময় হয়ে গেল। করোনার প্রচণ্ড প্রখর উত্তাপে আমরা গৃহবাসী হয়ে গেলাম। তবে ফোনে কথা হয়েছে আমাদের। তার বিশেষ গুণের কারণে, একটুতেই নিলুফার মঞ্জুর আমার স্মৃতিতে সঞ্চরমাণ।

শুনেছি তার স্বামী এবং কন্যা দুজনও করোনায় আক্রান্ত।
হে দয়াময়, তুমি তাদের রক্ষা কর।

লেখক: নাসরীন নঈম, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ