আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশে সাধারণ ছুটির ৪৮তম দিন চলছে। তবুও বেড়েই চলেছে ভাইরাসটির সংক্রমণ। এর মধ্যেও নানান কাজে বাইরে বের হওয়া মানুষজন যথাযথ শারীরিক দূরত্ব মানছেন না। উল্টো সাবধানতা উপেক্ষা করে প্রতিদিনই বাইরে মানুষের সমাগম বাড়ছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর মিরপুরে এমনই চিত্র চোখে পড়েছে।
মিরপুর-১ নম্বরে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে ফল কিনতে এসেছেন আসলাম হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তাকেও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অতি সাধারণ মানুষ। ফল কিনতে এখানে এসেছি। অতিরিক্ত ফল কিনে নিয়ে গেলে নষ্ট হয়ে যাবে। আমার বেশি ফল কেনার সামর্থ্যও নেই। আমার মতো আরও অনেকেই প্রতিদিন বাজারে এসে করোনা ভাইরাস নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। শুনেছি এখন নাকি করোনা ভাইরাসের লক্ষণ বোঝা যাচ্ছে না। পরীক্ষা করলে আসছে করোনা পজিটিভ। তাহলে মানুষ করবেটা কী? কতদিন আর ঘরবন্দি হয়ে থাকবে? এক সময় বাইরে বের হতেই হবে।’
মিরপুরে বাড়ছে জনসমাগম, শারীরিক দূরত্ব মানছে না কেউ।
রূপনগর আবাসিক এলাকার (শিয়ালবাড়ি) রাইজিং অ্যাপারেল গার্মেন্টসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বাংলানিউজকে বলেন, ‘আজ ১৮ রোজা চলে গেলো। এখনো আমাদের গত মাসের বেতন হয়নি। করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যেই সামাজিক দূরত্ব না মেনে পোশাক শ্রমিকরা গার্মেন্টসে কাজ করছে। আমরা তো আর শারীরিক দূরত্ব নিয়ে মালিকপক্ষকে কিছু বলতে পারি না। বলতে গেলে আমাদের চাকরি হারাতে হয়।’
গার্মেন্টসটিতে শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিজিএমইএর কর্মকর্তারা যখন ফ্যাক্টরি ভিজিটে এসেছিলেন তখন কিছুটা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে পোশাক শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। তবে এখন আর শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখছে না কেউ। সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় সকালে যখন সবাই ডিউটিতে আসে আর বিকালে যখন ছুটি হয়। আমাদের এখানে আরও তিনটি গার্মেন্টস আছে। আধা ঘণ্টার ব্যবধানে গার্মেন্টসগুলোর ছুটি ও কার্যক্রম শুরু হয়। আমার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ, গার্মেন্টসগুলোতে লোকজন যখন আসা-যাওয়া শুরু করে তখন রাস্তায় প্রচণ্ড ভিড় হয়। ভিড়ের মধ্যে আক্রান্ত কোনো শ্রমিক থাকলে ভাইরাসটি অন্য শ্রমিকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়বে।’
মিরপুরে বাড়ছে জনসমাগম, শারীরিক দূরত্ব মানছে না কেউ। মিরপুর ১১ নম্বরের কালশী রোডের সাংবাদিক আবাসিক এলাকার ডেইলি মার্ট দোকান মালিক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সরকারি সাধারণ ছুটিতে আমার দোকানগুলো নিয়মিত খুলতে পারছি না। অন্য সময় দোকান খোলা রাখতাম সকাল ৭টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত। এখন দোকান খোলা রাখছি সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।’
দোকানে আসা ক্রেতারা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে সাধারণ মানুষ এখনো শারীরিক দূরত্ব মানতে চাইছেন না। আমি যদি দোকান রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখি তখনো আমার দোকানে মানুষ আসবে। ভিড় থাকবে। কেনাকাটা করতে দেখা যাবে লোকজনকে। আমার দোকানের সামনে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছি, যাতে কেউ ভেতরে না আসতে পারেন। কিন্তু ইফতারের আগে ক্রেতারা যখন সদাই কিনতে আসে তখন অনেকে এ দড়ি ডিঙিয়ে ভেতরে চলে আসেন। ক্রেতারা কোনোভাবেই শারীরিক দূরত্ব মানতে চান না।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















