ঢাকা ০৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

একটি বিধবা ভাতা কার্ড চান নিঃস্ব আমেনা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একটি বিধবা ভাতা কার্ডের জন্য আমেনা খাতুন (৪৫) স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। আশ্বাসও পেয়েছেন। কিন্তু আজও মেলেনি সেই কাঙ্ক্ষিত ভাতা কার্ড। আমেনা সহায় সম্বলহীন। তার বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধিগাঁও গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত হাবেল মিয়ার স্ত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমেনা পাঁচ বছর আগে তার শেষ সম্বল ১০ শতাংশ জমি স্থানীয় একটি মসজিদের নামে দান করে দেন। বিভিন্ন বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জমানো ৩০ হাজার টাকায় তিনি ওই জমিটুকু কিনেছিলেন।

আমেনা জানান, ১৯৯৫ সালে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর বেশ কিছু দিন অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেছেন। এছাড়া বনবিভাগের কর্মচারীদের রান্নার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। এখন শারীরিক দুর্বলতার কারণে কাজ করতে খুব কষ্ট হয়। এছাড়া করোনাভাইরাসের কারণে কেউ কাজে ডাকেনা। ছেলে, মেয়ে ও আত্মীয় স্বজন না থাকায় তাকে দেখভাল করার মতোও কেউ নেই।

আমেনার ভাষ্য মতে, বর্তমানে খেয়ে না খেয়ে চলছে তার দিন। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পাঁচ কেজি চাল সাহায্য পেয়েছিলেন। তা দিয়ে এক সপ্তাহ কোনো রকমে চলেছেন।

বিধবা ভাতা কার্ড পেতে কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন জানতে চাইলে আমেনা বলেন, গত দুই বছরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের হাতে বেশ কয়েকবার ভোটার আইডি কার্ডের কপি ও ছবি দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিধবা ভাতা কার্ড পাইনি।

ঝিনাইগাতীর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক আমির হোসেন বলেন, আমেনা খাতুন পাঁচ বছর আগে তার শেষ সম্বল ১০ শতাংশ জমি স্থানীয় গান্ধিগাঁও খরখরেপাড়া জামে মসজিদের নামে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে দান করেছেন। আর এ কাজটি তার মাধ্যমে সম্পাদন হয়েছে। আমেনার মৃত্যুর পর ওই জমির মালিকানা পাবে মসজিদ কমিটি। জমিটিতে বর্তমানে একটি টিনের ছাপড়া ঘর রয়েছে। তিনি জানান, ৩০ হাজার টাকায় ওই জমিটুকু কিনেছিলেন আমেনা।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য বকুল চন্দ্র কোচ বলেন, যে পরিমান সাহায্য আসে তা দ্বিতীয় বার দেয়ার মতো সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে আমেনার বিধবা কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিরুত্তর থাকেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

একটি বিধবা ভাতা কার্ড চান নিঃস্ব আমেনা

আপডেট সময় ১০:৫০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একটি বিধবা ভাতা কার্ডের জন্য আমেনা খাতুন (৪৫) স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। আশ্বাসও পেয়েছেন। কিন্তু আজও মেলেনি সেই কাঙ্ক্ষিত ভাতা কার্ড। আমেনা সহায় সম্বলহীন। তার বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধিগাঁও গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত হাবেল মিয়ার স্ত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমেনা পাঁচ বছর আগে তার শেষ সম্বল ১০ শতাংশ জমি স্থানীয় একটি মসজিদের নামে দান করে দেন। বিভিন্ন বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জমানো ৩০ হাজার টাকায় তিনি ওই জমিটুকু কিনেছিলেন।

আমেনা জানান, ১৯৯৫ সালে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর বেশ কিছু দিন অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেছেন। এছাড়া বনবিভাগের কর্মচারীদের রান্নার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। এখন শারীরিক দুর্বলতার কারণে কাজ করতে খুব কষ্ট হয়। এছাড়া করোনাভাইরাসের কারণে কেউ কাজে ডাকেনা। ছেলে, মেয়ে ও আত্মীয় স্বজন না থাকায় তাকে দেখভাল করার মতোও কেউ নেই।

আমেনার ভাষ্য মতে, বর্তমানে খেয়ে না খেয়ে চলছে তার দিন। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পাঁচ কেজি চাল সাহায্য পেয়েছিলেন। তা দিয়ে এক সপ্তাহ কোনো রকমে চলেছেন।

বিধবা ভাতা কার্ড পেতে কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন জানতে চাইলে আমেনা বলেন, গত দুই বছরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের হাতে বেশ কয়েকবার ভোটার আইডি কার্ডের কপি ও ছবি দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিধবা ভাতা কার্ড পাইনি।

ঝিনাইগাতীর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক আমির হোসেন বলেন, আমেনা খাতুন পাঁচ বছর আগে তার শেষ সম্বল ১০ শতাংশ জমি স্থানীয় গান্ধিগাঁও খরখরেপাড়া জামে মসজিদের নামে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে দান করেছেন। আর এ কাজটি তার মাধ্যমে সম্পাদন হয়েছে। আমেনার মৃত্যুর পর ওই জমির মালিকানা পাবে মসজিদ কমিটি। জমিটিতে বর্তমানে একটি টিনের ছাপড়া ঘর রয়েছে। তিনি জানান, ৩০ হাজার টাকায় ওই জমিটুকু কিনেছিলেন আমেনা।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য বকুল চন্দ্র কোচ বলেন, যে পরিমান সাহায্য আসে তা দ্বিতীয় বার দেয়ার মতো সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে আমেনার বিধবা কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিরুত্তর থাকেন।