ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

একটি বিধবা ভাতা কার্ড চান নিঃস্ব আমেনা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একটি বিধবা ভাতা কার্ডের জন্য আমেনা খাতুন (৪৫) স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। আশ্বাসও পেয়েছেন। কিন্তু আজও মেলেনি সেই কাঙ্ক্ষিত ভাতা কার্ড। আমেনা সহায় সম্বলহীন। তার বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধিগাঁও গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত হাবেল মিয়ার স্ত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমেনা পাঁচ বছর আগে তার শেষ সম্বল ১০ শতাংশ জমি স্থানীয় একটি মসজিদের নামে দান করে দেন। বিভিন্ন বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জমানো ৩০ হাজার টাকায় তিনি ওই জমিটুকু কিনেছিলেন।

আমেনা জানান, ১৯৯৫ সালে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর বেশ কিছু দিন অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেছেন। এছাড়া বনবিভাগের কর্মচারীদের রান্নার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। এখন শারীরিক দুর্বলতার কারণে কাজ করতে খুব কষ্ট হয়। এছাড়া করোনাভাইরাসের কারণে কেউ কাজে ডাকেনা। ছেলে, মেয়ে ও আত্মীয় স্বজন না থাকায় তাকে দেখভাল করার মতোও কেউ নেই।

আমেনার ভাষ্য মতে, বর্তমানে খেয়ে না খেয়ে চলছে তার দিন। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পাঁচ কেজি চাল সাহায্য পেয়েছিলেন। তা দিয়ে এক সপ্তাহ কোনো রকমে চলেছেন।

বিধবা ভাতা কার্ড পেতে কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন জানতে চাইলে আমেনা বলেন, গত দুই বছরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের হাতে বেশ কয়েকবার ভোটার আইডি কার্ডের কপি ও ছবি দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিধবা ভাতা কার্ড পাইনি।

ঝিনাইগাতীর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক আমির হোসেন বলেন, আমেনা খাতুন পাঁচ বছর আগে তার শেষ সম্বল ১০ শতাংশ জমি স্থানীয় গান্ধিগাঁও খরখরেপাড়া জামে মসজিদের নামে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে দান করেছেন। আর এ কাজটি তার মাধ্যমে সম্পাদন হয়েছে। আমেনার মৃত্যুর পর ওই জমির মালিকানা পাবে মসজিদ কমিটি। জমিটিতে বর্তমানে একটি টিনের ছাপড়া ঘর রয়েছে। তিনি জানান, ৩০ হাজার টাকায় ওই জমিটুকু কিনেছিলেন আমেনা।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য বকুল চন্দ্র কোচ বলেন, যে পরিমান সাহায্য আসে তা দ্বিতীয় বার দেয়ার মতো সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে আমেনার বিধবা কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিরুত্তর থাকেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

একটি বিধবা ভাতা কার্ড চান নিঃস্ব আমেনা

আপডেট সময় ১০:৫০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একটি বিধবা ভাতা কার্ডের জন্য আমেনা খাতুন (৪৫) স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। আশ্বাসও পেয়েছেন। কিন্তু আজও মেলেনি সেই কাঙ্ক্ষিত ভাতা কার্ড। আমেনা সহায় সম্বলহীন। তার বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধিগাঁও গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত হাবেল মিয়ার স্ত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমেনা পাঁচ বছর আগে তার শেষ সম্বল ১০ শতাংশ জমি স্থানীয় একটি মসজিদের নামে দান করে দেন। বিভিন্ন বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জমানো ৩০ হাজার টাকায় তিনি ওই জমিটুকু কিনেছিলেন।

আমেনা জানান, ১৯৯৫ সালে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর বেশ কিছু দিন অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেছেন। এছাড়া বনবিভাগের কর্মচারীদের রান্নার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। এখন শারীরিক দুর্বলতার কারণে কাজ করতে খুব কষ্ট হয়। এছাড়া করোনাভাইরাসের কারণে কেউ কাজে ডাকেনা। ছেলে, মেয়ে ও আত্মীয় স্বজন না থাকায় তাকে দেখভাল করার মতোও কেউ নেই।

আমেনার ভাষ্য মতে, বর্তমানে খেয়ে না খেয়ে চলছে তার দিন। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পাঁচ কেজি চাল সাহায্য পেয়েছিলেন। তা দিয়ে এক সপ্তাহ কোনো রকমে চলেছেন।

বিধবা ভাতা কার্ড পেতে কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন জানতে চাইলে আমেনা বলেন, গত দুই বছরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের হাতে বেশ কয়েকবার ভোটার আইডি কার্ডের কপি ও ছবি দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিধবা ভাতা কার্ড পাইনি।

ঝিনাইগাতীর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক আমির হোসেন বলেন, আমেনা খাতুন পাঁচ বছর আগে তার শেষ সম্বল ১০ শতাংশ জমি স্থানীয় গান্ধিগাঁও খরখরেপাড়া জামে মসজিদের নামে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে দান করেছেন। আর এ কাজটি তার মাধ্যমে সম্পাদন হয়েছে। আমেনার মৃত্যুর পর ওই জমির মালিকানা পাবে মসজিদ কমিটি। জমিটিতে বর্তমানে একটি টিনের ছাপড়া ঘর রয়েছে। তিনি জানান, ৩০ হাজার টাকায় ওই জমিটুকু কিনেছিলেন আমেনা।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য বকুল চন্দ্র কোচ বলেন, যে পরিমান সাহায্য আসে তা দ্বিতীয় বার দেয়ার মতো সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে আমেনার বিধবা কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিরুত্তর থাকেন।