ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমার কাছে পুলিশ নেই, মুরগি আছে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সংসদ অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেন লিবিয়ায় বন্দি থাকা ১৭৪ বাংলাদেশি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প উৎস ব্যবহারের পরিকল্পনা : এ্যানি এনসিপির সমাবেশে হামলায় কঠোর ব্যবস্থা: সংসদে আইনমন্ত্রী ডিএসসিসির ‘ক্লিন কেয়ার’ ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন অর্থনীতির গতি বাড়াতে বীমা খাতকে আইনি কাঠামোয় আনার তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে: সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী একটি গর্বের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী গণভোট না মানলে রাজনীতি সংঘাতের দিকে যেতে পারে: ১১ দলীয় ঐক্যের হুঁশিয়ারি

লকডাউনে বাড়ছে অনিচ্ছাকৃত মাতৃত্ব: জাতিসংঘ

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ঘরবন্দি বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবং করোনা রুখতে লকডাউন চলছে অনেক দেশে। এমন অবস্থায় অনিচ্ছাকৃত মাতৃত্ব বাড়ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

রাষ্ট্রপুঞ্জের পপুলেশান ফান্ড (ইউএনএফপিএ) ও তার সহযোগী সংস্থাগুলির একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থতিতে বাজার থেকে কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছে অত্যাধুনিক মানের গর্ভনিরোধক (কন্ট্রাসেপ্টিভ)। এর ফলে, অল্প ও মধ্য আয়ের দেশগুলির অন্তত ৪ কোটি ৭০ লক্ষ নারী অত্যাধুনিক গর্ভনিরোধক ব্যবহার করতে পারছেন না। যার পরিণতিতে আর কয়েক মাসের মধ্যে ওই দেশগুলিতে অনিচ্ছাকৃত মাতৃত্বের শিকার হতে হবে আরও অন্তত ৭০ লক্ষ নারীকে। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।

সমীক্ষায় জানানো হয়েছে, লকডাউনের সময় এই সমস্যার ফলে অল্প ও মধ্য আয়ের দেশগুলির নারীরা যেমন পরিবার কল্যাণ কর্মসূচিতে অংশ না নিতে পেরে অনিচ্ছাকৃত মাতৃত্বের শিকার হতে চলেছেন, তেমনই ওই সব দেশে গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনাও বাড়ছে। লকডাউনের আগে পর্যন্ত বিশ্বের অল্প ও মধ্য আয়ের ১১৪টি দেশের প্রায় ৪৫ কোটি নারী নিয়মিত গর্ভনিরোধক ব্যবহার করতেন।

সমীক্ষাটি চালাতে ইউএনএফপিএকে সহযোগিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাভেনির হেল্‌থ এবং অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

ইউএনএফপিএ এর এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর নাটালিয়া কানেম বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক সমীক্ষা জানাচ্ছে, কোভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমণের ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে মহিলা ও তরুণীদের ওপর। বিশ্ব জুড়ে। এই মহামারি লিঙ্গবৈষম্য আরও বাড়াচ্ছে। নারীরা তাদের নিজেদের ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে বিপদের মুখে পড়ে গিয়েছেন। ৬ মাসের লকডাউন আরও ৩ কোটি ১০ লক্ষ গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনা বাড়াবে বিশ্বের ওই সব দেশে। যা প্রতি তিন মাসে বাড়বে অন্তত দেড় কোটি করে।’

বলা হয়েছে, কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ রোখার জন্য বিশ্ব জুড়ে যে লকডাউন চলছে দীর্ঘ দিন ধরে, তার যথেষ্টই প্রভাব পড়বে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে। শুধু তাই নয়, এই লকডাউন নারীদের ‘জেনিটাল মিউটিলেশন’ (অর্থাৎ, অস্ত্রোপচার বা অন্য কোনো কারণে মহিলাদের যৌনাঙ্গের হানি) ও বাল্যবিবাহ রোখার কাজের গতিও অনেকটাই কমিয়ে দেবে। তার ফলে, আগামী দশকে আরও অন্তত ২০ লক্ষ মহিলার যৌনাঙ্গের হানির আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ১০ বছরে বাল্যবিবাহের ঘটনা বাড়বে আরও অন্তত ১ কোটি ৩০ লক্ষ।

কানেমের কথায়, ‘নারীদের প্রজননক্ষমতা ও অধিকারকে যেকোনো ভাবেই রক্ষা করতে হবে। নিরাপত্তা দিতে হবে। তার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা অব্যাহত রাখতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমার কাছে পুলিশ নেই, মুরগি আছে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

লকডাউনে বাড়ছে অনিচ্ছাকৃত মাতৃত্ব: জাতিসংঘ

আপডেট সময় ০৫:২২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ঘরবন্দি বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবং করোনা রুখতে লকডাউন চলছে অনেক দেশে। এমন অবস্থায় অনিচ্ছাকৃত মাতৃত্ব বাড়ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

রাষ্ট্রপুঞ্জের পপুলেশান ফান্ড (ইউএনএফপিএ) ও তার সহযোগী সংস্থাগুলির একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থতিতে বাজার থেকে কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছে অত্যাধুনিক মানের গর্ভনিরোধক (কন্ট্রাসেপ্টিভ)। এর ফলে, অল্প ও মধ্য আয়ের দেশগুলির অন্তত ৪ কোটি ৭০ লক্ষ নারী অত্যাধুনিক গর্ভনিরোধক ব্যবহার করতে পারছেন না। যার পরিণতিতে আর কয়েক মাসের মধ্যে ওই দেশগুলিতে অনিচ্ছাকৃত মাতৃত্বের শিকার হতে হবে আরও অন্তত ৭০ লক্ষ নারীকে। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।

সমীক্ষায় জানানো হয়েছে, লকডাউনের সময় এই সমস্যার ফলে অল্প ও মধ্য আয়ের দেশগুলির নারীরা যেমন পরিবার কল্যাণ কর্মসূচিতে অংশ না নিতে পেরে অনিচ্ছাকৃত মাতৃত্বের শিকার হতে চলেছেন, তেমনই ওই সব দেশে গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনাও বাড়ছে। লকডাউনের আগে পর্যন্ত বিশ্বের অল্প ও মধ্য আয়ের ১১৪টি দেশের প্রায় ৪৫ কোটি নারী নিয়মিত গর্ভনিরোধক ব্যবহার করতেন।

সমীক্ষাটি চালাতে ইউএনএফপিএকে সহযোগিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাভেনির হেল্‌থ এবং অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

ইউএনএফপিএ এর এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর নাটালিয়া কানেম বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক সমীক্ষা জানাচ্ছে, কোভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমণের ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে মহিলা ও তরুণীদের ওপর। বিশ্ব জুড়ে। এই মহামারি লিঙ্গবৈষম্য আরও বাড়াচ্ছে। নারীরা তাদের নিজেদের ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে বিপদের মুখে পড়ে গিয়েছেন। ৬ মাসের লকডাউন আরও ৩ কোটি ১০ লক্ষ গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনা বাড়াবে বিশ্বের ওই সব দেশে। যা প্রতি তিন মাসে বাড়বে অন্তত দেড় কোটি করে।’

বলা হয়েছে, কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ রোখার জন্য বিশ্ব জুড়ে যে লকডাউন চলছে দীর্ঘ দিন ধরে, তার যথেষ্টই প্রভাব পড়বে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে। শুধু তাই নয়, এই লকডাউন নারীদের ‘জেনিটাল মিউটিলেশন’ (অর্থাৎ, অস্ত্রোপচার বা অন্য কোনো কারণে মহিলাদের যৌনাঙ্গের হানি) ও বাল্যবিবাহ রোখার কাজের গতিও অনেকটাই কমিয়ে দেবে। তার ফলে, আগামী দশকে আরও অন্তত ২০ লক্ষ মহিলার যৌনাঙ্গের হানির আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ১০ বছরে বাল্যবিবাহের ঘটনা বাড়বে আরও অন্তত ১ কোটি ৩০ লক্ষ।

কানেমের কথায়, ‘নারীদের প্রজননক্ষমতা ও অধিকারকে যেকোনো ভাবেই রক্ষা করতে হবে। নিরাপত্তা দিতে হবে। তার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা অব্যাহত রাখতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।’