ঢাকা ১২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বলার মতো বেশি কিছু নেই সাকিবের!

অাকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

সাকিব আল হাসান আজ সংবাদ সম্মেলনে এলেন বেশ ফুরফুরে মেজাজে। একটা সময় সংবাদ সম্মেলনে বাঁহাতি অলরাউন্ডার এতটাই ‘খোলসবন্দী’ থাকতেন যে তাঁর কথা থেকে ‘অ্যাঙ্গেল’ খুঁজে পাওয়া ভীষণ কঠিন হতো সংবাদকর্মীদের। দৃশ্যটা বদলেছে। সাকিব মাঠে যেমন অলরাউন্ডার, সংবাদ সম্মেলনও তা-ই।

তবে আজকের মতো সাকিবের এমন প্রাণবন্ত সংবাদ সম্মেলন আগে হয়েছে কি না, মনে করা কঠিন! কঠিন সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন রসিকতার সুরে। বোঝা গেল, বেশ মুডে আছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এই মুডটা সিরিজের পরেও কি দেখা যাবে? দেখতে হলে আগে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে হবে। বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহ বলেছেন, ২-০ ব্যবধানে হারাতে চান অস্ট্রেলিয়াকে। সাকিব কী বলেন, সম্ভব? কোচের কথার পুনরাবৃত্তিই করলেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার, ‘আমি তো মনে করি সম্ভব। না হওয়ার কারণ দেখি না। জয় তো চাই দুই টেস্টেই।’
এই মুহূর্তে একটা ফিফটির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন সাকিব। ৫০তম টেস্ট খেলতে যাচ্ছেন ২০০৭ সালের মে মাসে ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে পা রাখা বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। এটা যেমন আনন্দ দেয় তাঁকে, দীর্ঘ ১০ বছরে মাত্র ৫০ টেস্ট খেলা নিয়ে আফসোসও কি হয় না? ‘জীবনে খুব বেশি আফসোস নেই। যা পেয়েছি তাতেই খুশি। হয়তো আরও বেশি খেলতে পারলে ভালো হতো। তবে খেলতে পারিনি, সেটা নিয়ে কোনো আফসোস নেই। যতগুলো খেলেছি, সেগুলোয় কেমন করেছি, সেটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ’—দার্শনিক জবাব সাকিবের।
এই দশ বছরে সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স কোনটি কিংবা কোন টেস্ট তাঁর কাছে বেশি স্মরণীয়? একটু ভেবে সাকিব বললেন, ‘আমার কাছে স্মরণীয় টেস্ট ইংল্যান্ডেরটা (গত অক্টোবরে যেটিতে বাংলাদেশ জিতেছিল ১০৮ রানে)। স্মরণীয় পারফরম্যান্স ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। সে ম্যাচে ৯২ (আসলে ৯৬*, ২০০৯ সালে গ্রানাডা টেস্টে) করেছিলাম। আরও আছে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২১৭ (গত জানুয়ারিতে), বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ওই পারফরম্যান্সটা (৭/৩৬, চট্টগ্রাম টেস্ট, ২০০৮)। এই তো, বলার মতো বেশি কিছু নেই!’
যে টেস্টটা সাকিবের কাছে সবচেয়ে স্মরণীয়, সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বেন স্টোকসকে আউট করে সাকিবের ‘স্যালুট’ উদ্‌যাপনের ছবিটা ভালোভাবেই গেঁথে আছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। এবারও কি এমন উদ্‌যাপন দেখা যাবে সাকিবের কাছ থেকে? ‘না, কাউকে টার্গেট করিনি। এটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। উদ্‌যাপনের সুযোগ আসবে। তবে তার আগে উইকেট তো পেতে হবে।’
প্রায়ই একটা অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় সাকিবকে। টেস্ট অলরাউন্ডার র‌্যাঙ্কিংয়ে কখনো একে ওঠেন আবার কখনো নেমে যান দুইয়ে। সাকিব বললেন, র‌্যাঙ্কিংয়ের এই ওঠা-নামার খেলাটা তাঁকে স্পর্শ করে না খুব একটা, ‘কখনো খেলে উঠি, কখনো না খেলে! এটা নিয়ে কখনোই চিন্তা করি না। মাঝেমধ্যে (টিভির) স্ক্রলে দেখি, এটাই। বেশির ভাগ সময় আম্মা নিউজ দেখে। ওই সময় আম্মার সঙ্গে যদি বসে থাকি, তখন দেখি।’
প্রশ্নের পর প্রশ্ন হতে থাকে। সাকিব একটু যেন অধৈর্য হয়ে ওঠেন। খানিক পরই যে তাঁর নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান। সংবাদ সম্মেলন শেষে সবাইকে দাওয়াত দিয়ে সাকিব ছোটেন সেখানেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বলার মতো বেশি কিছু নেই সাকিবের!

আপডেট সময় ০৯:৪৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

সাকিব আল হাসান আজ সংবাদ সম্মেলনে এলেন বেশ ফুরফুরে মেজাজে। একটা সময় সংবাদ সম্মেলনে বাঁহাতি অলরাউন্ডার এতটাই ‘খোলসবন্দী’ থাকতেন যে তাঁর কথা থেকে ‘অ্যাঙ্গেল’ খুঁজে পাওয়া ভীষণ কঠিন হতো সংবাদকর্মীদের। দৃশ্যটা বদলেছে। সাকিব মাঠে যেমন অলরাউন্ডার, সংবাদ সম্মেলনও তা-ই।

তবে আজকের মতো সাকিবের এমন প্রাণবন্ত সংবাদ সম্মেলন আগে হয়েছে কি না, মনে করা কঠিন! কঠিন সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন রসিকতার সুরে। বোঝা গেল, বেশ মুডে আছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এই মুডটা সিরিজের পরেও কি দেখা যাবে? দেখতে হলে আগে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে হবে। বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহ বলেছেন, ২-০ ব্যবধানে হারাতে চান অস্ট্রেলিয়াকে। সাকিব কী বলেন, সম্ভব? কোচের কথার পুনরাবৃত্তিই করলেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার, ‘আমি তো মনে করি সম্ভব। না হওয়ার কারণ দেখি না। জয় তো চাই দুই টেস্টেই।’
এই মুহূর্তে একটা ফিফটির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন সাকিব। ৫০তম টেস্ট খেলতে যাচ্ছেন ২০০৭ সালের মে মাসে ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে পা রাখা বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। এটা যেমন আনন্দ দেয় তাঁকে, দীর্ঘ ১০ বছরে মাত্র ৫০ টেস্ট খেলা নিয়ে আফসোসও কি হয় না? ‘জীবনে খুব বেশি আফসোস নেই। যা পেয়েছি তাতেই খুশি। হয়তো আরও বেশি খেলতে পারলে ভালো হতো। তবে খেলতে পারিনি, সেটা নিয়ে কোনো আফসোস নেই। যতগুলো খেলেছি, সেগুলোয় কেমন করেছি, সেটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ’—দার্শনিক জবাব সাকিবের।
এই দশ বছরে সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স কোনটি কিংবা কোন টেস্ট তাঁর কাছে বেশি স্মরণীয়? একটু ভেবে সাকিব বললেন, ‘আমার কাছে স্মরণীয় টেস্ট ইংল্যান্ডেরটা (গত অক্টোবরে যেটিতে বাংলাদেশ জিতেছিল ১০৮ রানে)। স্মরণীয় পারফরম্যান্স ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। সে ম্যাচে ৯২ (আসলে ৯৬*, ২০০৯ সালে গ্রানাডা টেস্টে) করেছিলাম। আরও আছে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২১৭ (গত জানুয়ারিতে), বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ওই পারফরম্যান্সটা (৭/৩৬, চট্টগ্রাম টেস্ট, ২০০৮)। এই তো, বলার মতো বেশি কিছু নেই!’
যে টেস্টটা সাকিবের কাছে সবচেয়ে স্মরণীয়, সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বেন স্টোকসকে আউট করে সাকিবের ‘স্যালুট’ উদ্‌যাপনের ছবিটা ভালোভাবেই গেঁথে আছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। এবারও কি এমন উদ্‌যাপন দেখা যাবে সাকিবের কাছ থেকে? ‘না, কাউকে টার্গেট করিনি। এটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। উদ্‌যাপনের সুযোগ আসবে। তবে তার আগে উইকেট তো পেতে হবে।’
প্রায়ই একটা অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় সাকিবকে। টেস্ট অলরাউন্ডার র‌্যাঙ্কিংয়ে কখনো একে ওঠেন আবার কখনো নেমে যান দুইয়ে। সাকিব বললেন, র‌্যাঙ্কিংয়ের এই ওঠা-নামার খেলাটা তাঁকে স্পর্শ করে না খুব একটা, ‘কখনো খেলে উঠি, কখনো না খেলে! এটা নিয়ে কখনোই চিন্তা করি না। মাঝেমধ্যে (টিভির) স্ক্রলে দেখি, এটাই। বেশির ভাগ সময় আম্মা নিউজ দেখে। ওই সময় আম্মার সঙ্গে যদি বসে থাকি, তখন দেখি।’
প্রশ্নের পর প্রশ্ন হতে থাকে। সাকিব একটু যেন অধৈর্য হয়ে ওঠেন। খানিক পরই যে তাঁর নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান। সংবাদ সম্মেলন শেষে সবাইকে দাওয়াত দিয়ে সাকিব ছোটেন সেখানেই।