ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ভোট দেখতে বিদেশ থেকে আসবে ৫০০ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক জনগণকে সাবধানে নেতা বাছাই করার পরামর্শ দিলেন রুমিন ফারহানা বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু

অ্যাম্বুল্যান্স যখন যাত্রীবাহী গাড়ি!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবিলায় অঘোষিত ‘লকডাউনে’ সারা দেশের গণপরিবহনসহ যখন সব কিছু বন্ধের দিকে, তখন জরুরি সেবা অ্যাম্বুল্যান্স যেন মহাসড়কে যাত্রীবাহী পরিবহনে রূপ নিয়েছে।

রাজধানী ঢাকার ভেতরে কোনো যানবাহন প্রবেশ ও ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে গত ৫ এপ্রিল সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানায়।

কিন্তু সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের জোরালো নজরদারির কারণে কোনো যাত্রীবাহী পরিবহন যেতে না পারলেও সাধারণ মানুষ এখন জরুরি সেবার অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার সিটি সেন্টারের সামনে দেখা গেছে, পাটুরিয়াগামী একটি অ্যাম্বুল্যান্সে যাত্রী তুলছেন। যেখানে অ্যাম্বুল্যান্স শুধু মাত্র রোগী আনা নেওয়া কাজে ব্যবহার করা হয়। সেখানে ১৫-২০ জন মানুষে নিয়ে যাত্রা করেছে।

এক যাত্রীকে অ্যাম্বুল্যান্সটির কাছে গিয়ে চালককে কোথায় যাবে? জিজ্ঞেসা করলে অ্যাম্বুল্যান্স চালক উত্তরে বলেন, রাজবাড়ী যাবো। পাটুরিয়ায় নামিয়ে দেবে। তারপর সেখান থেকে অন্য গাড়িতে যাবো। আপনি গেলে চলে আসেন, পরে আর গাড়ি পাবেন না।

সড়কের পাশের দাঁড়িয়ে আছে পোশাক কারখানার শ্রমিক মঞ্জু। তিনি যাবেন খুলনা। বাড়িতে বাবা খুব অসুন্থ বিধায় সাভার ছেড়ে যাচ্ছেন তিনি। সুযোগ বুঝে ৮০০ টাকা ভাড়ায় অ্যাম্বুল্যান্সটিতে উঠে গেলেন মঞ্জু। তিনি আকাশ নিউজকে বলেন, সকাল ১০টার দিকে সাভার স্ট্যান্ডে এসে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু কোনো গাড়ি নেই। রিকশায় যে ভেঙে ভেঙে যাবো তারও উপায় নেই। বাবা খুব অসুস্থ, বাবাকে হাসাপাতালে নেওয়ার মতো আমি ছাড়া বাড়িতে কেউ নেই। তাই বাড়িতে যাওয়াটা আমার জন্য খুব জরুরি। তাই বাধ্য হয়ে অ্যাম্বুল্যান্সটিতে উঠে পড়েছি।

মঞ্জুর সঙ্গে কথা বলতেই অ্যাম্বুল্যান্সটির চালক এসে বলেন, ভাই কোথায় যাবেন? গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দিতেই তোরজোর করে অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে দ্রুত চলে গেলেন।

মহাসড়টিতে সাভার সিটি সেন্টার থেকে ১ কিলোমিটার দূরে রেডিওকলোনি এলাকা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সামাজিক দূরত্ব তৈরি করতে বিভিন্ন পরিবহনের ওপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন সাভার রাজস্ব সার্কেলের সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মাহফুজ।

তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি আকাশ নিউজকে বলেন, সাভার একটি জনবহুল এলাকা। এখানের মানুষজনকে সচেতন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা সড়কে মানুষের সামাজিক দূরুত্ব বাড়াতে মোটরসাইকেলে যারা তিনজন করে উঠতেছেন, এছাড়া যারা ভ্যানে ও অথবা পণ্যবাহী ভ্যানে গাদাগাদি করে যাচ্ছেন তাদের থামিয়ে সচেতন করছি ও জরিমানা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঢাকায় প্রবেশের একটি উল্লেখযোগ্য পথ। এ প্রবেশ পথে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন স্থানে টহলের ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে, চেকপোস্টের আগে যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে যাচ্ছেন। আবার চেকপোস্টের পার হয়ে আবার গাড়িতে উঠছেন। আসলে মানুষের মধ্যে যদি নিজ থেকে সচেতনতা না আসে, তাহলে যত আইন করা হোক না কেন, এটার বিপরীতে মানুষ নিজস্ব একটি পদ্ধতি বের করে নিয়ে আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান

অ্যাম্বুল্যান্স যখন যাত্রীবাহী গাড়ি!

আপডেট সময় ০৫:০০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবিলায় অঘোষিত ‘লকডাউনে’ সারা দেশের গণপরিবহনসহ যখন সব কিছু বন্ধের দিকে, তখন জরুরি সেবা অ্যাম্বুল্যান্স যেন মহাসড়কে যাত্রীবাহী পরিবহনে রূপ নিয়েছে।

রাজধানী ঢাকার ভেতরে কোনো যানবাহন প্রবেশ ও ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে গত ৫ এপ্রিল সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানায়।

কিন্তু সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের জোরালো নজরদারির কারণে কোনো যাত্রীবাহী পরিবহন যেতে না পারলেও সাধারণ মানুষ এখন জরুরি সেবার অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার সিটি সেন্টারের সামনে দেখা গেছে, পাটুরিয়াগামী একটি অ্যাম্বুল্যান্সে যাত্রী তুলছেন। যেখানে অ্যাম্বুল্যান্স শুধু মাত্র রোগী আনা নেওয়া কাজে ব্যবহার করা হয়। সেখানে ১৫-২০ জন মানুষে নিয়ে যাত্রা করেছে।

এক যাত্রীকে অ্যাম্বুল্যান্সটির কাছে গিয়ে চালককে কোথায় যাবে? জিজ্ঞেসা করলে অ্যাম্বুল্যান্স চালক উত্তরে বলেন, রাজবাড়ী যাবো। পাটুরিয়ায় নামিয়ে দেবে। তারপর সেখান থেকে অন্য গাড়িতে যাবো। আপনি গেলে চলে আসেন, পরে আর গাড়ি পাবেন না।

সড়কের পাশের দাঁড়িয়ে আছে পোশাক কারখানার শ্রমিক মঞ্জু। তিনি যাবেন খুলনা। বাড়িতে বাবা খুব অসুন্থ বিধায় সাভার ছেড়ে যাচ্ছেন তিনি। সুযোগ বুঝে ৮০০ টাকা ভাড়ায় অ্যাম্বুল্যান্সটিতে উঠে গেলেন মঞ্জু। তিনি আকাশ নিউজকে বলেন, সকাল ১০টার দিকে সাভার স্ট্যান্ডে এসে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু কোনো গাড়ি নেই। রিকশায় যে ভেঙে ভেঙে যাবো তারও উপায় নেই। বাবা খুব অসুস্থ, বাবাকে হাসাপাতালে নেওয়ার মতো আমি ছাড়া বাড়িতে কেউ নেই। তাই বাড়িতে যাওয়াটা আমার জন্য খুব জরুরি। তাই বাধ্য হয়ে অ্যাম্বুল্যান্সটিতে উঠে পড়েছি।

মঞ্জুর সঙ্গে কথা বলতেই অ্যাম্বুল্যান্সটির চালক এসে বলেন, ভাই কোথায় যাবেন? গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দিতেই তোরজোর করে অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে দ্রুত চলে গেলেন।

মহাসড়টিতে সাভার সিটি সেন্টার থেকে ১ কিলোমিটার দূরে রেডিওকলোনি এলাকা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সামাজিক দূরত্ব তৈরি করতে বিভিন্ন পরিবহনের ওপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন সাভার রাজস্ব সার্কেলের সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মাহফুজ।

তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি আকাশ নিউজকে বলেন, সাভার একটি জনবহুল এলাকা। এখানের মানুষজনকে সচেতন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা সড়কে মানুষের সামাজিক দূরুত্ব বাড়াতে মোটরসাইকেলে যারা তিনজন করে উঠতেছেন, এছাড়া যারা ভ্যানে ও অথবা পণ্যবাহী ভ্যানে গাদাগাদি করে যাচ্ছেন তাদের থামিয়ে সচেতন করছি ও জরিমানা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঢাকায় প্রবেশের একটি উল্লেখযোগ্য পথ। এ প্রবেশ পথে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন স্থানে টহলের ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে, চেকপোস্টের আগে যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে যাচ্ছেন। আবার চেকপোস্টের পার হয়ে আবার গাড়িতে উঠছেন। আসলে মানুষের মধ্যে যদি নিজ থেকে সচেতনতা না আসে, তাহলে যত আইন করা হোক না কেন, এটার বিপরীতে মানুষ নিজস্ব একটি পদ্ধতি বের করে নিয়ে আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা করে।