ঢাকা ০৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সমবায়ীদের পণ্য রপ্তানিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সরকারের মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনমান উন্নয়ন: বাণিজ্যমন্ত্রী দুর্নীতি করলেই চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোট জনসংখ্যার ৬ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী: সমাজকল্যাণমন্ত্রী চকবাজারে খাজা মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট কুমিল্লায় ফুটপাতে ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণ, ভিডিও ভাইরাল সন্তান-স্বজন হত্যার বিচার চায় জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা ৫ আগস্টের অর্জন একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়: প্রধানমন্ত্রী জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা না করার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চট্টগ্রামকে প্রধান লজিস্টিক হাব গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

নুসরাত হত্যায় জবানবন্দি দিতে হাসিমুখে আদালতে হাফেজ কাদের

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত সাত নম্বর আসামি হাফেজ আবদুল কাদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি দেওয়ার জন্য তাকে বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ফেনীর বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিনের আদালতে হাজির করা হয়।

এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন হাফেজ আবদুল কাদের।
পিবিআই জানায়, বুধবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর এলাকার ৬০ ফিট এলাকাসংলগ্ন ছাপড়া মসজিদের পাশে আবদুল কাদেরের বড় ভাই রহিমের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আবদুল কাদের সোনাগাজী আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব সফরপুর গ্রামের মনছুর খান পাঠান বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে। তার বাবা সাহেবের হাটের চা দোকানি। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে হাফেজ আবদুল কাদের পঞ্চম। তিনি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক এবং ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার অনুগত হিসেবে মাদ্রাসার হোস্টেলে থাকতেন আবদুল কাদের। তার বাবা আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সে সরাসরি শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল।

তবে উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মোস্তফা জানিয়েছেন অপকর্মের দায়ে তাকে শিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

জবানবন্দিতে তিনি নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে জানান, ঘটনার দিন তিনি মাদ্রাসা গেটে পাহারাদার হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। এর আগে অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনেও অংশ নেন। নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার একদিন আগে কারাগারে ওই অধ্যক্ষের সঙ্গে অন্যদের নিয়ে দেখা করেন।

আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। এদের মধ্যে অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ্দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুকছুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, জান্নাতুল আফরোজ মনি, আবদুর রহিম শরিফ, মো. শামীম ও হাফেজ আবদুল কাদের।

এর আগে রোববার দিনে ছাত্রদল কর্মী, ওই মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, রাতে মাদ্রাসা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম এবং বুধবার বিকালে ওই মাদ্রাসার চাত্র, ছাত্রলীগ কর্মী আবদুর রহিম শরীফসহ তিন আসামি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা তিনজনই ওই মাদ্রাসার ছাত্র।

জবানবন্দিতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার নির্দেশে তারা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করেছে পিবিআই।

এর আগে টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি। পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দিলে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে নুসরাতকে দাফন করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সমবায়ীদের পণ্য রপ্তানিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর

নুসরাত হত্যায় জবানবন্দি দিতে হাসিমুখে আদালতে হাফেজ কাদের

আপডেট সময় ০৯:৫১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত সাত নম্বর আসামি হাফেজ আবদুল কাদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি দেওয়ার জন্য তাকে বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ফেনীর বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিনের আদালতে হাজির করা হয়।

এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন হাফেজ আবদুল কাদের।
পিবিআই জানায়, বুধবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর এলাকার ৬০ ফিট এলাকাসংলগ্ন ছাপড়া মসজিদের পাশে আবদুল কাদেরের বড় ভাই রহিমের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আবদুল কাদের সোনাগাজী আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব সফরপুর গ্রামের মনছুর খান পাঠান বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে। তার বাবা সাহেবের হাটের চা দোকানি। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে হাফেজ আবদুল কাদের পঞ্চম। তিনি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক এবং ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার অনুগত হিসেবে মাদ্রাসার হোস্টেলে থাকতেন আবদুল কাদের। তার বাবা আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সে সরাসরি শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল।

তবে উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মোস্তফা জানিয়েছেন অপকর্মের দায়ে তাকে শিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

জবানবন্দিতে তিনি নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে জানান, ঘটনার দিন তিনি মাদ্রাসা গেটে পাহারাদার হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। এর আগে অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনেও অংশ নেন। নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার একদিন আগে কারাগারে ওই অধ্যক্ষের সঙ্গে অন্যদের নিয়ে দেখা করেন।

আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। এদের মধ্যে অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ্দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুকছুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, জান্নাতুল আফরোজ মনি, আবদুর রহিম শরিফ, মো. শামীম ও হাফেজ আবদুল কাদের।

এর আগে রোববার দিনে ছাত্রদল কর্মী, ওই মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, রাতে মাদ্রাসা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম এবং বুধবার বিকালে ওই মাদ্রাসার চাত্র, ছাত্রলীগ কর্মী আবদুর রহিম শরীফসহ তিন আসামি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা তিনজনই ওই মাদ্রাসার ছাত্র।

জবানবন্দিতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার নির্দেশে তারা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করেছে পিবিআই।

এর আগে টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি। পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দিলে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে নুসরাতকে দাফন করা হয়।