ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কারিগরি শিক্ষায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: পানিসম্পদমন্ত্রী জাবিতে গভীর রাতে নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিং, আটক ১২ ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সুশাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে : গভর্নর বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে: অর্থমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন আলাল দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আহ্বান সৌদি আরবে ড্রাইভিং শেখার সময় দুর্ঘটনায় সিলেটের যুবক নিহত সমবায়ীদের পণ্য রপ্তানিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সরকারের মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনমান উন্নয়ন: বাণিজ্যমন্ত্রী দুর্নীতি করলেই চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সন্তান-স্বজন হত্যার বিচার চায় জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজনরা বলেছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত না হলে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার প্রকৃত অবসান সম্ভব নয়। তারা অভিযোগ করেন, বিচারের দাবিতে আন্দোলন করলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। একই সঙ্গে উপার্জনক্ষম সদস্য হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার দাবি জানান তারা।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ এসব দাবি তুলে ধরেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সম্মেলনে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের স্বজনরা নিজেদের বেদনা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। স্বজন হারানোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পুরো সম্মেলনস্থলজুড়ে ছিল শোক ও দীর্ঘশ্বাসের আবহ।

চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, তার ছেলে আর ফিরে আসবে না, তবে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বাবা-মাকে এমন শোক বয়ে বেড়াতে না হয়। তিনি আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করা জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সহায়তার আহ্বান জানান।

শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার ভাই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন এবং তার অনুপ্রেরণায় আরও অনেকে প্রাণ দিয়েছেন কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তিনি দ্রুত বিচার, শহীদ পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তা এবং সারাদেশে জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানান।

শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, বড় ছেলে নিহত হওয়ার পর ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে। সে সময় নানা জায়গায় সহযোগিতা চাইলেও সহায়তা পাননি। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করেও তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। তার প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে সব শহীদ পরিবারও একই ধরনের সহায়তা পাবে এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয়; এটি জনগণের সম্মিলিত আত্মত্যাগের ফসল। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করবে এবং আইন অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে বিচারের নামে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জাতিকে বিভক্ত রেখে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে এবং কোনো অপশক্তি যেন সেই পথ রুদ্ধ করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

কারিগরি শিক্ষায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: পানিসম্পদমন্ত্রী

সন্তান-স্বজন হত্যার বিচার চায় জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা

আপডেট সময় ০৩:১০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজনরা বলেছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত না হলে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার প্রকৃত অবসান সম্ভব নয়। তারা অভিযোগ করেন, বিচারের দাবিতে আন্দোলন করলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। একই সঙ্গে উপার্জনক্ষম সদস্য হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার দাবি জানান তারা।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ এসব দাবি তুলে ধরেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সম্মেলনে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের স্বজনরা নিজেদের বেদনা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। স্বজন হারানোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পুরো সম্মেলনস্থলজুড়ে ছিল শোক ও দীর্ঘশ্বাসের আবহ।

চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, তার ছেলে আর ফিরে আসবে না, তবে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বাবা-মাকে এমন শোক বয়ে বেড়াতে না হয়। তিনি আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করা জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সহায়তার আহ্বান জানান।

শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার ভাই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন এবং তার অনুপ্রেরণায় আরও অনেকে প্রাণ দিয়েছেন কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তিনি দ্রুত বিচার, শহীদ পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তা এবং সারাদেশে জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানান।

শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, বড় ছেলে নিহত হওয়ার পর ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে। সে সময় নানা জায়গায় সহযোগিতা চাইলেও সহায়তা পাননি। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করেও তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। তার প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে সব শহীদ পরিবারও একই ধরনের সহায়তা পাবে এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয়; এটি জনগণের সম্মিলিত আত্মত্যাগের ফসল। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করবে এবং আইন অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে বিচারের নামে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জাতিকে বিভক্ত রেখে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে এবং কোনো অপশক্তি যেন সেই পথ রুদ্ধ করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।